চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৯ জানুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদ্যুতের ম‚ল্যবৃদ্ধির সপ্তাহ না পেরোতেই গ্যাসের ম‚ল্যবৃদ্ধি

জীবনযাত্রায় ‘আকাশচুম্বী’ ব্যয়ের শঙ্কা!
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিদ্যুতের ম‚ল্যবৃদ্ধির সপ্তাহ না পেরোতেই প্রায় ৩ গুণ বাড়ল শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের দাম। এ নিয়ে বিদ্যুতের মতো গণশুনানি ছাড়াই নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম সমন্বয় করল সরকার। ফলে বছরের শুরুতেই ম‚লস্ফীতিতে আরেক দফা ধাক্কা লাগতে পারে, শুধু তাই নয় গ্যাসের রেকর্ড ম‚ল্যবৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের দামও আরেক দফা বাড়তে পারে। এতে জীবনযাত্রায় ‘আকাশচুম্বী’ ব্যয়ের আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এদিকে, বিদ্যুৎ ও পরে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গণশুনানি ছাড়াই রেকর্ড পরিমাণ দাম বৃদ্ধিতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং বড় শিল্পের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়বে ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো।
অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ম‚ল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়বে, এটা ঠিক যে সরকারের ভতুর্কি কমবে কিন্তু ম‚ল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এদিকে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। ফলে শিল্প ও আবাসিক পর্যায়ে ফের বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে। জানা গেছে, চলতি মাসের শেষে আইএমএফের ঋণের অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে রাজস্ব ও আর্থিক খাতে কিছু সংস্কারের দাবি জানিয়েছিল সংস্থাটি। ধারণা করা হয়, সংস্কারের অংশ হিসেবেই জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেল, পাইকারি ও খুচরা বিদ্যুৎ এবং সর্বশেষ বুধবার বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহিদ হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, এ ঘোষণার ফলে দেশে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্যের দাম আরেক দফা বাড়বে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের পর গ্যাসের ম‚ল্যবৃদ্ধি করা হলেও এগুলোর সরবরাহ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে শঙ্কা থেকেই যায়। এর আগে শিল্প উদ্যোক্তরা বেশি দামে হলেও জ্বালানি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু যে হারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে তাতে উৎপাদন ব্যয় অন্তত কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেব। ফলে এত বাড়তি দামে রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ উভয় বাজারে পণ্যের চাহিদা হারাতে পারে। এ ছাড়া বড় হুমকির মুখে পড়বে ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো।
রাজধানীর মিরপুরের সিকদার নিটিং অ্যান্ড ডায়িংসহ বেশকিছু মাঝারি মানের শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ এত দামে পণ্য উৎপাদন করে বিক্রি করব কার কাছে- প্রশ্ন তাদের। এদিকে ধারাবাহিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম দামে আমদানি সত্তে¡ও শুধু রিফাইনিং ব্যয়ের কারণে গত ৪ মাস ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চিনির বাজার। ফলে আমদানি কমলেও বাজারে অনেক পণ্য সাধারণের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাবে। যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিমাসেই জ্বালানি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিজার্ভ সংকট, ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ সরকারের ভতুর্কি কমানোর প্রবণতা এ খাতকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতুলস্নাহ যায়যায়দিনকে বলেন, সরকার যদি ভর্তুকি না দেয় তাহলে বিদ্যুতের দাম আরও বাড়বে। একইভাবে বাড়বে গ্যাসের দামও। যদি সরকারের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাসের জোগান নেই, তবু গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংকটে প্রায় ৩০টি গ্যাসবিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। যেগুলো চালু আছে তার সক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট। ৮০ শতাংশ দাম বৃদ্ধিতে পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে দাম আবারও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় ৬টি গ্যাস বিপনণকারী সংস্থা চলতি মাসে গ্যাসের দামের সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে চিঠি দিয়েছিল। আবাসিক ও শিল্প উভয় খাতে দাম বাড়ানোর দাবি ছিল সংস্থাগুলোর। গত বছরে গ্যাসে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, সংস্থাটির বিতরণ ব্যয়ের থেকে প্রায় ৪গুণ বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে। যদি সংস্থাটির দাবি বিলে উৎস কর ৩ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার ফলে তাদের মুনাফা অনেক কমেছে। যা আগে সামগ্রিকভাবে দেওয়া হতো। জানা গেছে গত বছরে সংস্থাটির মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩৮৬ কোটি টাকা। কিন্তু উৎসকর দেওয়ার আগে মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯৭০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, গ্যাসের জোগান না থাকায় প্রধান এই বিতরণকারী সংস্থাটির সরবরাহ নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও দিতে পারছে না সংস্থাটি।
ফের বাড়ল গ্যাসের দাম, ফেব্রæয়ারি থেকে কার্যকর:
শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। তবে পরিবহণ খাতে ব্যবহৃত সিএনজি, চা-শিল্পের ও বাসায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ায়নি সরকার। নতুন দাম ফেব্রম্নয়ারি থেকে কার্যকর হবে। বুধবার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। ভর্তুকি সমন্বয়ে গ্যাসের নতুন এই ম‚ল্য নির্ধারণ বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।
এতে দেখা যায়, বৃহৎ শিল্পে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের (ক্যাপটিভ) জন্য ইউনিটপ্রতি গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। মাঝারি শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১০ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকরা ফেব্রম্নয়ারি থেকে প্রতি ইউনিটে দাম দেবেন ৩০ টাকা ৫০ পয়সা। আগে তারা দিচ্ছিলেন ২৬ টাকা ৬৪ পয়সা। এদিকে, চা-বাগানের ক্ষেত্রে দাম ১১ টাকা ৯৩ পয়সা অপরিবর্তিত থাকছে। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলার দাম আগের মতো ৯৯০ টাকা এবং দুই চুলার দাম ১০৮০ টাকা রাখা হয়েছে। সিএনজিতেও প্রতি ঘনমিটার ৪৩ টাকা এবং চা-শিল্পের গ্যাসের দামও আগের মতো প্রতি ঘনমিটার ১১ টাকা ৯৩ পয়সা রাখা হয়েছে। সার-কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দামও আগের মতো ১৬ টাকা রাখা হয়েছে। এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম পাঁচ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর এক সপ্তাহ না যেতেই বাড়ানো হলো গ্যাসের দাম। এদিকে, গত বছরের জুনে গ্যাসের ম‚ল্য ২২.৭৮ শতাংশ বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ওই সময় সার উৎপাদনে ২৫৯ শতাংশ, শিল্পে ১১.৯৬ শতাংশ (বৃহৎ শিল্পে ১১.৯৮ টাকা, মাঝারি শিল্পে ১১.৭৮ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১০.৭৮ টাকা, চা-শিল্পে ১১.৯৩ টাকা), বিদ্যুতে ১২ শতাংশ, ক্যাপটিভে ১৫.৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। এ ছাড়া আবাসিকে এক চুলার দাম ৯৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা, দুই চুলা ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৮০ টাকা করা হয়। প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের ইউনিটপ্রতি দর ১২.৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা, সার উৎপাদনে ঘনমিটার ৪.৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।