চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদ্যালয়ে যোগদানের খবরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঝাড়– মিছিল

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ২, ২০১৮ ১২:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগরে আলোচিত প্রধান শিক্ষক তাপস ও সহকারি শিক্ষক শিউলীর
জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার বহুল আলোচিত ৩৯নং হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাল ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলীর মধ্যে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে দুই জনের অপসারণের দাবিতে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একের পর এক মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন করে। যার ফলে জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দুই জনকে মেডিকেল ছুটি দিয়ে স্কুল থেকে সাময়িক বরখস্ত করা হয়। প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাল দীর্ঘ দিন স্কুলে না গেলেও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুন গত ২১শে ডিসেম্বর স্কুলে যোগদান করেন। এরপর আর কোন দিন স্কুলে যাননি। কি কারনে স্কুলে যায়নি এমন কোন তথ্যও স্কুলের কর্তৃপক্ষ বলতে পারেননি।
এদিকে, গতকাল সোমবার প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাল ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলী খাতুনের স্কুলে যোগদানের সংবাদ শুনে স্কুলের সকল শিক্ষাথী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ তাদের স্কুলের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য লাঠি ও ঝাড়– নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় মিছিল করতে থাকে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, তাপস স্যার ও শিউলী আপাকে এই স্কুলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। আমরা তার এই স্কুল থেকে অপসারণ চাই। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আ. গাফফার বলেন, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাল ও শিক্ষিকা শিউলীর বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছিল আমরা তাদের অনেকবার সর্তক করেছি। তারপরও তারা তাদের স্থান থেকে সরে দাঁড়ায়নি। আমরা তাদের দুই জনকে এই স্কুল থেকে অপসারণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোরদাবি জানাই। হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের কাছে তাপস পাল ও শিউলীর ছুটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুইজন শিক্ষকই মেডিকেল ছুটিতে আছে। ছুটির কোন কাগজপত্র স্কুলে জমা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুইজন শিক্ষকের মেডিকেল ছুটির জন্য আমাদের স্কুলে কোন কপি জমা নেই। তবে তারা নাকি উপজেলা শিক্ষা অফিসে ছুটির দরখাস্ত জমা দিয়েছে। জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাল ও সহকারী শিক্ষক শিউলীকে নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় তাদেরকে মেডিকেল ছুটিতে রাখা হয়েছে। কোন শিক্ষককে ছুটিতে রেখে বদলী করা যায় না যার ফলে গতকাল সোমবার সাময়িকভাবে তাদের দুইজনকে ওই স্কুলে যোগদান করে তার পর বদলী করার একটি সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যে ভাবে লাটি ও ঝাড়– নিয়ে ছিল, সেখানে একটু আতঙ্ক বিরাজ করায় তাদেরকে স্কুলে যেতে দেওয়া হয়নি। এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন তাপস কুমার পাল ও শিউলীকে হাবিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অপসারন করার জন্য উদ্ধতর্ন কর্মকর্তার আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।