বিদেশি বিনিয়োগে বাধা চিহ্নিত সমস্যাগুলো কাটাতে হবে

248

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে এবং হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ, শিল্পপতি-ব্যবসায়ী, কূটনীতিক এবং রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন, পরামর্শও দিয়েছেন। কিন্তু কাঙ্খিত অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য খুব আশাপ্রদ নয়। এ দেশে বিনিয়োগ করতে এসে পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। ফলে আশাব্যঞ্জক হারে বিনিয়োগ হচ্ছে না। দেশের বিনিয়োগকারীরাও নানা সমস্যায় পড়েন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি এখনো বড় প্রতিবন্ধক। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং শুল্ক কাঠামোও প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। গত সোমবার রাজধানীতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ভোজসভায় বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, জমি নিবন্ধনে জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রভৃতি সমস্যার কথা বলেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য বক্তারাও বিনিয়োগের, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগের অসুবিধার বিষয়ে কথা বলেছেন। বার্নিকাটের কথায় স্পষ্ট, পোশাক খাতের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জিএসপি সুবিধা না দেওয়ার জন্য আরো কিছু বিষয়ের সঙ্গে এ দুটি বিষয়কেও কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়। যা হোক, জিএসপি না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনা থাকার পরও এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে বাংলাদেশ বিদেশিদের জন্য ‘বিনিয়োগের স্বর্গ’ হয়ে উঠতে পারেনি। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোলাচল, বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করায় অসফলতা, আমলাতন্ত্রকে দুর্নীতিমুক্ত করে সক্ষম করে তোলায় ঘাটতি, মসৃণ যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে না পারা, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও নিরাপত্তার অভাব, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজি, সুবিধাজনক কর রেয়াত দিতে না পারা এমন অনেক কারণ রয়েছে কাঙ্খিত মাত্রায় বিনিয়োগ না হওয়ার জন্য। এসব কারণ নতুন নয়। অনেক আগে থেকেই এসব কথা বলা হচ্ছে। বিনিয়োগের এসব সমস্যা দ্রুত দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অস্বস্তি ও উদ্বেগ দূর করতে হবে। শিল্প ক্ষেত্রে কর্মীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে বিদেশিরা সুযোগ পেলেই কথা বলেন, বিনিয়োগে পিছটান দেন। এসব অজুহাত তোলার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে সৎ ও দক্ষ করে তুলতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সুষ্ঠু করে তুলতে হবে। তবেই কিছু আশা করা যেতে পারে।