বিদায় ২০১৬

527

35_39669

সমীকরণ ডেস্ক: ২০১৬  কে বিদায়ির তালিকায় লিপিবদ্ধ করতে আজ বিশ্বব্যাপী ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। সাফল্য আর ব্যর্থতার হিসাব কষতে হবে তাকে। অভিজ্ঞতা সাজাতে হবে থরে বিথরে। তাকে আয়োজন করতে হবে কুয়াশার চাদর সরিয়ে নতুন সূর্যের আগমনী গান শোনানোর। আগমনী সুরের মূর্ছনায় একটি বছর আজ বিদায় নেবে মহাকালের যাত্রায়। শুকনো পাতা ঝরার মেলার যাত্রীর মতো সরল রৈখিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে আজ খসে পড়বে ‘২০১৬’। বিদায় ২০১৬। মধ্যরাত জেগে উঠবে বর্ষবরণের উৎসবে। সবাই প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে স্বাগত জানাবে ২০১৭-কে। নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে আগামীকাল শুরু হবে নতুন বছর। কিন্তু যে বছরটি হারিয়ে গেল জীবন থেকে, ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে, তার সবই কি হারিয়ে যাবে? মুছে যাবে সব? ঘটনাবহুল ২০১৬-এর অনেক ঘটনার রেশ টেনেই মানুষ এগিয়ে যাবে ২০১৭ সালের দিনরাত্রির পথে। ২০১৬ পুরো সময়ই জঙ্গিবাদ ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবার আলোচনার মূল ইস্যু। বছরজুড়েই আলোচনার শীর্ষে ছিল গুলশানের হলি আর্টজান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে জঙ্গি হামলার ঘটনা। সেই হামলার আকস্মিকতা সাংবাদিক, নিরাপত্তা বাহিনী, সাধারণ মানুষসহ সবাইকেই অনেকটা হতবিহ্বল করে দিয়েছিল। ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় অস্ত্রধারী
সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডার বোল্টে’ নিহত হয় ছয় জঙ্গি। তবে অভিযানের আগেই জঙ্গিরা ২০ জিম্মিকে হত্যা করে। শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে পুলিশ সদস্যের ওপর বোমা হামলা ও গোলাগুলিতে দুই কনস্টেবলসহ নিহত হন চারজন আহত হন ১০ জন। ফেব্রুয়ারিতে পঞ্চগড়ে হিন্দু পুরোহিত যগেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এপ্রিলের ৭ তারিখ হত্যা করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদকে। এই এপ্রিলেই একে একে ঘটে আরও তিনটি হত্যাকা-। ২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এর দুদিন পর ঢাকায় দিনেরবেলা ঘরে ঢুকে হত্যা করা হয় সমকামী বিষয়ক একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদক জুলহাস মান্নান এবং তার সঙ্গী মাহবুব তনয়কে।
জঙ্গি হামলার পাশাপাশি বছরজুড়ে আরও কয়েকটি আলোচিত হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। কলেজছাত্রী তনু, স্কুলছাত্রী রিশা, পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যা এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মং শু হুক নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা অন্যতম। কখনো কখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হয়। বছরজুড়েই চলে ধরপাকড় ও বিশেষ অভিযান।
বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রয়ারিতে ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের প্রায় আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি। সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি) যাওয়া টাকার একটি বড় অংশ পরে ফিলিপিন্সের জুয়ার টেবিলে চলে যায়। এর মধ্যে ক্যাসিনো মালিকের ফেরত দেয়া দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে আগস্টে ফিলিপাইনের ম্যানিলা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল। এর মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরতও পেয়েছে বাংলাদেশ। সিআইডির তদন্ত অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই চুরির সঙ্গে ২৩ বিদেশি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার যোগসাজশ পাওয়া গেছে।
ঘটনাবহুল ২০১৬ তে ১৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। হাঙ্গেরি সফরে যাওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৭৭ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি করে। ত্রুটি সারিয়ে ওই বিমানেই প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা বুদাপেস্টে পৌঁছান। এ ঘটনায় বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। ত্রুটিগুলো দুর্ঘটনা নাকি ইচ্ছাকৃত ছিল এ নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনার শীর্ষে ছিল। এর আগে ৮ জুন সৌদি আরব সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার মুহূর্তে রানওয়েতে ধাতব বস্তু দেখতে পেয়ে পাইলট রানওয়েতে না নেমে প্রায় ২০ মিনিট বিমানটি নিয়ে আকাশে উড়তে থাকেন। এ ঘটনায় বরখাস্ত করা হয় বিমানের ট্রাফিক কন্ট্রোলের দুই কর্মকর্তাকে।
অক্টোবরের শুরুর দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী জঙ্গি দমনের নামে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশ ছাড়া করতে বাধ্য করে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়। সবকিছু হারিয়ে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ নিয়ে সরকারি মহলে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকলেও পরে শিথিল নীতি গ্রহণ করে। এ বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে ঠুনকো অজুহাতে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়। ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দুদের শতাধিক ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
২০১৬ সালে দেশের বিনোদন জগতেও ঘটে গেছে নানা ঘটনা। ২০১৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করা হয় এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি। তাতে ওই বছরের শ্রেষ্ঠ সিনেমা, শ্রেষ্ঠ কাহিনী ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ তিন শাখায় পুরস্কার পেয়েছিল বৃহন্নলা। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। পরে গল্প চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় বাতিল করা হয় জাতীয় পুরস্কার। এদিকে ২০১৫ সালের নভেম্বরে দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত তুরস্কের ধারাবাহিক নাটক ‘সুলতান সুলেমান’ নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে বিনোদন জগৎ। অল্প সময়ে জনপ্রিয়তাপ্রাপ্ত এ নাটকটি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামেন কলাকুশলীরা। এ ছাড়াও আলোচিত ছিল সাফটা চুক্তির ভিত্তিতে নতুন করে ভারতের সঙ্গে ছবি বিনিময় নিয়ে বিতর্ক, ‘আয়নাবাজি’ ফাঁস, ডাউনলিংক বিজ্ঞাপন বন্ধ, অভিনেত্রী ও পরিচালক রোকেয়া প্রাচীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিনেত্রী প্রসূন আজাদকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনও ২০১৬-কে দেখেছে স্তম্ভিত চিত্রে। গণমানুষের রাজনৈতিক ভাবনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ব্রেক্সিট ও কলম্বিয়ার গণভোট, ইউরোপে উগ্রডানের অব্যাহত উত্থান আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আলেপ্পোর পাঁচ বছরের শিশু ওমরান দাকনিশের ছবি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিলেও সিরিয়া সংকট তাতে থামেনি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আইএসের বিস্তার সঙ্কুচিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, তারপরও বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই ঘটছে জঙ্গি হামলার ঘটনা।
২০১৬ সালেও গত দু বছরের মতো জঙ্গি হামলা ছিল নিত্যদিনকার বিষয়। এসব ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের। এ বছর সন্ত্রাসী হামলার বড় কয়েকটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। এর মধ্যে লিবিয়ায় জানুয়ারিতে গাড়ি বোমা হামলায় অর্ধশতাধিক; মার্চে বেলজিয়ামের বিমানবন্দর-মেট্রো স্টেশনসহ তিনটি স্থানে একযোগে হামলায় ৩২ জন; লাহোরের একটি পার্কে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৭৫ জন এবং জুনে ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে হামলায় ৪৫ জন নিহত হন। ১৪ জুলাই ফ্রান্সের নিসে উৎসবের ভিড়ে লরি চালিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয় ৮৬ জনকে। একই ধরনের আরেকটি হামলর ঘটনা ঘটে বছরের শেষদিকে এসে, বার্লিনে। ১৯ ডিসেম্বর এক ক্রিসমাস মার্কেটে ওই ঘটনায় ১২ জন নিহত হন। বছরের শেষে এসে আলেপ্পো সিরীয় বাহিনীর দখলে চলে যাওয়ার পর আঞ্চলিক অস্থিরতা ধীরে ধীরে পরিণতির দিকে এগুলেও সেখানে সহজেই শান্তি মিলবে না বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। ২০১১ সালে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত চার লাখ মানুষ সেখানে মারা গেছে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ, বাস্তুচ্যুত হয়েছে এর কয়েকগুণ।
যুক্তরাজ্যের ইংরেজি দৈনিক গার্ডিয়ান ২০১৬ সালকে চিহ্নিত করেছে ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্পের বছর’ হিসেবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমার পাশাপাশি এ বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিনকে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে দেখেছে বিশ্ব। অন্যদিকে এশিয়ায় চীনের প্রভাব অব্যাহতভাবে বাড়ছে। ফাঁস হওয়া হাজারও দলিলপত্রে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের করফাঁকির যে খবর ২০১৬ সালে মানুষ পেয়েছে, তার মাত্রা ভূমিকম্পের চেয়ে কম ছিল না। মাদক কেলেঙ্কারির কারণে রাশিয়ার ক্রীড়াবিদদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল এ বছর ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
২০১৬ জুড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আলোচনা মুখর। নিউইয়র্কের ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারীকে হারিয়ে রীতিমতো ভূমিকম্প ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ট্রাম্পের জয় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তার প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠোর করা, মুসলিম অভিবাসীদের প্রবেশে বাধা দেয়া। আছে মেক্সিকোর সঙ্গে দেয়াল নির্মাণেরও ঘোষণা। তবে নির্বাচনে জেতার পর এসব বিষয়ে ‘নরম সুর’ শোনা গেছে তার কণ্ঠে। এ ছাড়াও ছিল পানামার ল ফার্ম মোস্যাক ফনসেকার কর ফাঁকির মহোৎসব, তুরস্কে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা, মোদির নোটকা-, কিউবা বিপ্লবের ‘মহানায়ক’ ফিদেল কাস্ত্রোর বিদায়, গানের কবি বব ডিলানের নোবেল প্রাপ্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০১৬ অপ্রাপ্তির মাঝে প্রাপ্তিও দিয়েছে অনেক। বছরজুড়ে আলোচিত হয়েছে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সফল গাথা। ২৫ জুলাই কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নয় জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানা যায়। নারায়ণগঞ্জে গুলশান হামলার মান্টামাইন্ড ও নব্য জেএমবির বাংলাদেশ প্রধান বলে চিহ্নিত তামিম চৌধুরী নিহত হয়। এ ছাড়া গাজীপুর, আজিমপুর ও সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় সফল অভিযান চালানো হয়।
এ বছর বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল নেতৃত্ব। বছর জুড়ে বিভিন্ন পুরস্কারের ভূষিতও হয়েছেন তিনি। ২১ সেপ্টেম্বর নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য ও সাহসী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম প্রধানমন্ত্রীকে এজেন্ট অব চেঞ্জ পুরস্কারে ও জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউএন ওম্যান প্ল্যানেট ৫০-৫০ পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়াও ১৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ, ২১ নভেম্বর জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার, ৮ সেপ্টেম্বর নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য ‘শান্তি বৃক্ষ’, সাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্ব, অহিংসা, সামাজিক বোঝাপড়া এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের উত্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ এমকে গান্ধি পুরস্কার, ১২ এপ্রিল মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কারসহ অখংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন শেখা হাসিনা। বছরের শেষদিকে আলোচিত খাদিজার অলৌকিক ফিরে আসা এবং এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
খুলনার দাকোপ উপজেলার বৃক্ষমানব আবুল বাজানদার এখন অনেকটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছেন। গাছের শেকড়ের মতো পাঁচ কেজি ওজনের হাত নিয়ে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন তিনি। এপিডার্মো ডিসপ্লেশিয়া ভেরুকোফরমিস ভাইরাসে আক্রান্ত এই রোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। দেশ-বিদেশে চলে এই বৃক্ষমানবের আলোচনা। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় অনেকে। ঢামেকে কয়েক দফা অপারেশনের পর এখন কিছুটা সুস্থ বাজানদার। স্তম্ভিত, অস্থির বিশ্বরাজনীতি মানুষের এগিয়ে চলাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলেও মানুষ এগিয়ে যায় সময়ের নিয়মে। নাজিম হিকমতের মতো আমরাও বলতে চাই- ‘দুঃসময় থেকে সুসময়ে মানুষ পৌঁছে দেবে মানুষকে’।