চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৯ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিকেলে ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

চুয়াডাঙ্গায় সকালে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালালো গৃহবধূ
সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৯, ২০২১ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে কাকলী বেগম (৩৫) নামের দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা অপচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে চারটার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার জান্নাতুল বাকি মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় কাকলী বেগমকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কাকলীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখেন ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। আত্মহত্যার অপচেষ্টাকারী কাকলী বেগম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের পূর্বপাড়ার চায়ের দোকানী সোহেল রানার স্ত্রী ও একই ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের দবীর উদ্দীনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘১১ বছর পূর্বে বোয়ালমারী গ্রামের পূর্ব পাড়ার মৃত হাসেম মেম্বরের ছেলে সোহেল রানার সঙ্গে কাকলী বেগমের বিবাহ হয়। সাংসারিক জীবনে তাঁদের হুমায়ন (৯) ও হিমচাঁদ (৩) নামের দুটি ছেলে রয়েছে। এদিকে বাড়ির সঙ্গেই একটি চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল সোহেল রানা। এরই মধ্যে দোকানে বিস্কিট ডেলিভারি দিতে আসা নয়ন নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় কাকলী বেগমের। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গচ্ছিত টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পরকিয়া প্রেমিকের মোটরসাইকেলে উঠে অজানার উদ্যেশ্যে পাড়ি জমায় কাকলী। তবে পথের মধ্যে পরকীয়া প্রেমিক বিয়ের খরচের কথা বলে কাকলীর নিকট থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এসময় কাকলী বেগম কোনো কূল-কিনারা খুঁজে না পেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেল বাজার জান্নাতুল বাকি মসজিদের সামনে ট্রেন লাইনের ওপর চলন্ত ট্রেনের অভিমুখে দাঁড়িয়ে পড়েন। চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী মহানন্দা ট্রেনটি কাকলীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে দেখতে পায়। এসময় তাঁরা দৌঁড়ে যেয়ে কাকলীকে ধাক্কা দিলে সে ট্রেনের দুই লাইনের মধ্যে পড়ে যায়। এসময় ট্রেনটি কাকলীর ওপর দিয়ে চলে গেলে স্থানীয় ব্যক্তিরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখেন।
প্রত্যাক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন ভ্যানচালক জানায়, ‘বিকেল চারটার দিকে ভ্যান নিয়ে চায়ের দোকানে বসেছিলাম। এসময় আমার পাশে বসে থাকা অপরিচিত একজন ট্রেন লাইনের দিকে তাকিয়ে ট্রেন আসছে, ট্রেন আসছে বলে চিৎকার শুরু করে। তখনি দেখি একজন মহিলা ট্রেন লাইনের ওপর হাত উঁচু করে ট্রেনের দিকে তাকিয় দাঁড়িয়ে আছে। মহিলাটি আত্মহত্যার চেষ্টা করছে বুঝে ওঠার পূর্বেই একজন ব্যক্তি দৌঁড়ে যেয়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেন লাইনের বাইরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মহিলাটি ট্রেনের দুই লাইনের মধ্যে পড়ে যায়। ধাক্কা না দিলে ওই মহিলার মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। ট্রেন চলে গেলে আমরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মহিলাটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে তাঁর নিকটে থাকা মোবাইল থেকে নাম্বার নিয়ে পরিবারের সদস্যদেরকে খবর দেওয়া হয়।’
কাকলী বেগমের শাশুড়ী লাল বানু বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে আমার ছেলের বউ কাকলী আমার নাম্বারে ফোন দেয়। এসময় সে কোথায় গেছে? আর কাউকে না বলে কেন গেছে? জানতে চাইলে কাকলী জানায় সে অনেক দূরে চলে গেছে। তাকে যেন কেউ খোঁজাখুঁজি না করে। খোঁজাখুঁজি করে কোনো লাভ হবে না। এই বলে কলটি কেটে দেয়। এরই মধ্যে বিকেলে পাঁচটার দিকে মোবাইলে মাধ্যমে ট্রেনের ধাক্কায় কাকলী আহত হয়েছে জানতে পেরে হাসপাতালে আসি।’
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি গুরুতর জখম এক নারীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। ট্রেনের ধাক্কায় তিনি আহত হয়েছেন বলেও তারা জানায়। আহত ওই নারীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখা হয়। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই নারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার আনিচার্জ (ওসি তদন্ত) মাসুুদুর রহমান বলেন, ‘ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে কাকলী নামের এক নারী আত্মহত্যার অপচেষ্টা করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনার পেছনে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক আছে বলেও তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আত্মহত্যার অপচেষ্টাকারী ওই নারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।