চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি প্রার্থীর দাবি পরিকল্পিত : আ.লীগ প্রার্থীর দাবি জমিজমার বিরোধ

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর মনোহরপুরে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে আহত ২
জীবননগর অফিস: জীবননগর নবগঠিত মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থকদের পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধোপাখলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় নবগঠিত মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামের ধানের শীষ প্রতীকের কর্মি মিজানুর রহমানের স্ত্রী শাহিদা (৩৩) ও বাদশা মিয়াকে (৩০) পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ধোপাখালীর স্থানীয় আ.লীগের নেতাকর্মিদের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে আহত শাহিদা ও বাদশা অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষ হয়ে ভোট করেছিলাম। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হলে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর, ফজলু ও রহিম মিলে আমাদের উপর হামলা ও মারধর করে এবং বাড়িতে থাকা মালামাল লুটপাট করে। এ সময় আমরা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হলে হামলাকারীরা চলে যায়।


জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আতাউর রহমান (রতন) জানান, ধোপাখলী গ্রামের দুই ব্যক্তি আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের পিঠে লাটি দিয়ে মারার দাগ আছে তা ছাড়াও তাদের শরীর ভিতরে আঘাত করা হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এখন তাদের অবস্থা অনেকটা ভালো।


এ ব্যাপারে ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান জানান, নির্বাচনে জয় পরাজয় হতে পারে তাই বলে আমার যারা ধানের শীষ প্রতীকের কর্মি সমর্থক ছিল তাদের উপর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা অসহায় মানুষদের হামলা ও লুটপাট করা এটা হীনমন্যতার পরিচয় ছাড়া আর কিছুই না। বিএনপি নেতাকর্মিদের উপর আর যেন কোন হামলা না হয় সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, মনোহরপুর ইউনিয়নের উন্নয়নে আমি কাজ করে যাবো।
এ ব্যাপারে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিজয়ী চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খাঁন সুরোদ্দীনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আহত দু’ব্যক্তিই আওয়ামী লীগের কর্মী। তবে, এটা নির্বাচন কেন্দ্রীক বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ না। জমি জায়গা সংক্রান্ত কারণে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘঠেছে। তিনি বলেন আমি আমার দলীয় নেতাকর্মিদের নির্বাচনী কোন বিষয় কোন মারামারি সংঘর্ষ করতে বলেনি। ভবিষৎ এ বলবো না কারণ আমি মনোহরপুর ইউনিয়নের সকলের চেয়ারম্যান। আমি দলমত নির্বিশেষে এই ইউনিয়নের উন্নয়ন করতে চাই।
এদিকে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক জানান, ধোপাখালী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কমি সমর্থকদের মধ্যে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে এমন কোন লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।