চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি নেতা মকবুল রিমান্ডে, ধরাছোঁয়ার বাইরে হেলমেট বাহিনী

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ২৪, ২০২২ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো: মামুনুর রশিদ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ দিকে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন কেন মামলার আসামি হলেন, কেনই বা তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হলো। এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ‘এই সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি সুযোগ নিয়েছেন’। এ দিকে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে অস্ত্র হাতে তা-ব চালানো হেলমেট বাহিনীর সদস্যসহ অন্যরা। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রেফতার দূরের কথা এখন পর্যন্ত শনাক্তও করা যায়নি। তবে পুলিশের একটি পক্ষ দাবি করছে, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

ওই দিনের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা সিটি টিভি ও মোবাইলে ধারণ করা চিত্র এবং দোকান কর্মচারীদের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, সোমবার ইফতারের আগে কাস্টমারদের জন্য চেয়ার পাতাকে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট চার নম্বর গেটের কাছের ওয়েলকাম ফাস্ট ফুডের কর্মচারী বাপ্পি ও ক্যাপিটাল ফুডের কর্মচারী কাওসারের মধ্যে বাগি¦ত-া হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে কাওসার তার ৮-১০ বন্ধুসহ চাপাতি ও রামদা নিয়ে বাপ্পির দোকানে হামলা চালায়। তারা চলে গেলে বাপ্পি তার ঢাকা কলেজের ১৫-২০ জন শুভাকাক্সক্ষী নিয়ে কাওসারের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যাপিটালের দোকানে ভাঙচুর ও কয়েকজনকে মারধর করে। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনাকে গুজবে পরিণত করে গোটা নিউমার্কেট এলাকায় ছড়ানো হয় যে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অপর দিকে হামলা চালানো ঢাকা কলেজের কয়েকজন ক্যাম্পাসে গিয়ে গুজব ছড়ায় যে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা তাদের আটকে রেখে মারধর করেছে। গুজবের কারণে তুচ্ছ ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। এর সাথে যুক্ত হয় পুলিশের টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ। একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে পুনরায় চলে সংঘর্ষ। এ সময় দেখা যায় হেলমেট পরিহিত একদল যুবককে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাতে থাকে। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় কালো হেলমেট পরিহিত এক ব্যক্তি ইটের আঘাতে আহত হয়ে পড়ে থাকা নাহিদের ওপর ধারালো ছোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছে। সে চলে যাওয়ার পর কয়েকজন নাহিদকে সেখান থেকে তুলে হাসপাতালে নিলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। এভাবেই একে একে তা-ব চালাতে থাকে হেলমেট বাহিনী। কিন্তু এই হেলমেটের লোকগুলো কে বা কারা রয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি কেউ। অনেকের মাঝেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ভিডিও ও স্টিল ছবিতে হেলমেট পরা বেশ কিছু ব্যক্তি অস্ত্র হাতে সহিংস তা-ব চালিয়েছে। তারা নিহত নাহিদ ও মোরসালিনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে ও কুপিয়েছে। এসব ব্যক্তি কারা, তারা এখন কোথায়?

এ ঘটনায় ২০ এপ্রিল রাতে পুলিশ বাদি হয়ে নিউমার্কেট থানায় দু’টি মামলা করে। এর মধ্যে একটি পুলিশের ওপর হামলার দায়ে, আরেকটি বিস্ফোরক আইনে। একই সময় নিহত নাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো প্রায় এক হাজারজনকে আসামি করা হয়। অন্য দিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২০০ জনকে। পুলিশের দায়ের করা ওই মামলায় আসামি করা হয় অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন, আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজী জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহীদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারি, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুলকে। এর মধ্যে মকবুল নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি। একই সাথে দু’টি দোকানের মালিক। তবে কোনো দোকানই নিজে চালান না। ১৫ বছর আগে রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে দুজনকে ভাড়া দিয়েছেন। রফিকুল ও শহিদুল আবার আত্মীয়। এই ঘটনায় মকবুল কেন আসামি হলেন এমন প্রশ্নে ঢাকা মহানগর পুলিশ নিউ মার্কেট জোনের অতিরিক্ত কমিশনার শাহেন শাহ সাংবাদিকদের বলেন, তারা সংঘর্ষে অংশগ্রহণ না করলেও সুযোগ নিয়েছেন, যার কারণে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শতাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যার বিশ্লেষণ চলছে। এর ফলে জড়িত অনেককেই শনাক্ত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। প্রসঙ্গত, দুই দোকান কর্মচারীর মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ থেকে গত সপ্তাহে সংঘর্ষের ঘটনায় মারা যান দুইজন, আহত হন দুই শতাধিক। দুই পক্ষের সমঝোতার পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।