চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৪ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি ঘেরাও করলেও বাধা দেব না: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের যৌথসভায়
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৪, ২০২২ ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করলেও পুলিশ বাধা দেবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে আসে, তাদের পুলিশ যেন বাধা না দেয়। আসুক, আমি চা খাওয়াবো-বসাবো, কথা বলতে চাইলে শুনব। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গতকাল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এক যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, আমি তো বলে দিয়েছিÑ বিশেষ করে বাংলামটরে যে বাধা দেয়া, সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি। আসুক না হেঁটে হেঁটে যতদূর আসতে পারে। কোনো আপত্তি নেই। তবে বোমাবাজি ও ভাঙচুর করলে বাধা দেবো এবং উপযুক্ত জবাব পাবে। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কোনো বাধা নেই।

আওয়ামী লীগ সবসময় মানবতার সেবা করে আসছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু লোক আছে সারাক্ষণ দোষ ধরা, আর খুঁত ধরার চেষ্টায় থাকে। আমরা বিদ্যুতের লোডশেডিং দিচ্ছি কারণ ডিজেলের দাম যেভাবে বেড়ে গেছে, এলএনজির দামসহ প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। যে জার্মানি সুর তুলেছিল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যাবে না। তারা কিন্তু আবার সেটাতেই ফেরত গেছে। খাদ্য সরবারহ পুনরায় চালু করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি করায় জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব ও তুর্কি প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের উদ্যোগের ফলে এখন ইউক্রেন এবং রাশিয়া একটি চুক্তি করেছে সার, খাদ্যদ্রব্য এগুলো যেতে দেবে। কৃষ্ণসাগরে যে বন্দর বন্ধ রয়েছে, সেটাতে চলাচলের সুযোগ করে দেবে। খাদ্যদ্রব্য এখন আনা যাবে, কেনা যাবে। আমি মনে করি এটা আমাদের স্বস্তিকর বিষয়। এর মাধ্যমে খাদ্যের অভাব থাকবে না।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বৃক্ষরোপণ, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মৎস্য চাষে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশনা দেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। নির্বাচন নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যদি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো শৃঙ্খলা এসে থাকে, সেটা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। তিনি আরো বলেন, বিএনপির আমলে এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকা করা হয়েছিল। এটা থাকলে আর ভোট করা লাগে না। মাগুরার নির্বাচন, ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচন। এগুলো আমাদের দেখা আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় এই দেশের জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি। সেই জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে যতটা উন্নতি হয়েছে, সেটা আওয়ামী লীগের আমলেই হয়েছে। তিনি বলেন, যারা অবৈধ ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে। অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষমতা নিয়েই সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়। যারা এই ধরনের মানসিকতা তারাই ভোট চুরি করে। জিয়াউর রহমান, এরশাদ তাই করে গেছে। আর খালেদা জিয়া তো গ্যাস বিক্রির মুছলেকা দিয়েই ক্ষমতায় আসলো। আরেকবার জামায়াতের হাত ধরে আসলো। এ সময় বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রতাসাধনের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকলে তাদের তালিকা সংশ্লিষ্টদের কাছে দেয়ার নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, কেউ বাদ যাবে না। আমি সবাইকে ঘর করে দেবো। মানুষের সব মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশে আবারো বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ব্যাব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। একই সাথে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এসব কারণে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। জ¦ালানি তেলেন দাম, ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে। উন্নত বিশে^ও খাদ্য সঙ্কট ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সারা বিশে^। সবাই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে। ইংল্যান্ড-আমেরিকাসহ সব জায়গায় একই অবস্থা।

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজমসহ সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

‘যখন যে অবস্থা হবে তার সাথে মানিয়েই চলতে হবে’:

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা মহামারী, ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনের প্রভাবে সারা বিশ্বে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। এ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, এ জন্য হয়তো আমাদের পত্রপত্রিকা নানা কথা লিখবে, টকশোতে নানা কথা বলবে, বিরোধী দলেরা নানা কথা বলবে। বিরোধী দল বলবেই কারণ বলাটাই তাদের কর্তব্য এবং তারা বলে যাক। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সমালোচনা শুনে কোথাও কোনো ঘাটতি থাকার বিষয়টি পরীক্ষা করে নেয়া যেতে পারে অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কিন্তু এই কথা শুনে কেউ যেন বিভ্রান্ত বা হতাশাগ্রস্ত না হনÑ সে দিকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার মতো কিছু নেই। যখন যে অবস্থা হবে, তার সাথে মানিয়ে নিয়েই আমাদের চলতে হবে এবং আমাদের নিজস্ব যতটুকু ব্যবস্থা আছে, সেটি নিয়েই আমরা চলব।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে ২৭ জন কর্মকর্তা, তিনটি মন্ত্রণালয় ও একটি ইউনিটের কাছে পদক তুলে দেয়া হয়।

এবার ‘সাধারণ প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা’য় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ‘উন্নয়ন প্রশাসনে’ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে। ‘জনসেবায় উদ্ভাবন’ ক্ষেত্রে ‘সুরক্ষা অ্যাপ’-এর জন্য দলগতভাবে পুরস্কার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, ঢাকার জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম এবং সুরক্ষা ডেভেলপার ইউনিট। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণপদক, সম্মাননা পত্র, ব্যক্তিগত অবদানের জন্য দুই লাখ টাকা এবং দলগত অবদানের জন্য পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।