চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি’র কালাম ও আ’লীগ’র সোহরাব-শিপলু বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৯, ২০১৭ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে জীবননগর উপজেলার উথলী মনোহরপুর এবং কেডিকে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত
এসএম শাফায়েত: শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে জীবননগর উপজেলাধীন পুনঃগঠিত উথলী, মনোহরপুর ও কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বহুল কাঙ্খিত তিন ইউপি’র নির্বাচনে একটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দু’টিতে আ’লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থী জয়লাভ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে উপজেলার তিন ইউপি’র ২৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোন প্রার্থী নির্বাচনের অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বা অভিযোগ তুলেছেন বলে সংবাদ পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে ঘন কুয়াশার মধ্যে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে এসে লাইন ধরেন। সকাল থেকে দুপুর ১২টা নাগাদ পুরুষদের ভিড় থাকলেও দুপুরের পর তা কমতে থাকে। তবে কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।


এদিকে গতকাল রাতেই জীবননগর উপজেলা নির্বাচনী কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মোতাওয়াক্কিল রহমান সকল কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে উথলী ইউপি’র ৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে ৪ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগ মনোনীত সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১৮৯ ভোট। এ ছাড়াও জামায়াত সমর্থিত মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮০১, আওয়ামী লীগ’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবজালুর রহমান আনারস প্রতীকে ১ হাজার ৭২৯ এবং বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুর রহমান চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩৮ ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ১০ হাজার ৮৬০ ভোটের মধ্যে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৭১১। বাতিল করা হয়েছে ১৪৯টি ভোট।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে ১১ হাজার ৩১৬ জন ভোটারের মধ্যে ৯ হাজার ৬৮০ জন ভোটার তাদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এরমধ্যে বৈধ ৯ হাজার ৪৯১ ভোটের মধ্যে নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে প্রথমবারের মত এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী সোহরাব হোসেন খাঁন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে মো. কামরুজ্জামান পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪০ ভোট। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজা মিয়া আনারস প্রতীকে ১ হাজার ৪১৯ এবং জামায়াত সমর্থিত আসাবুল হক মল্লিক মোটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩১ ভোট। এ ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে প্রদত্ত ৯ হাজার ৬৮০ ভোটের মধ্যে ১৮৯ ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কাশিপুর দেহাটি খয়েরহুদা গ্রাম নিয়ে নব

গঠিত কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ মনোনীত খাইরুল বাসার শিপলু নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে প্রথমবারের মত এ ইউপি’র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত তানভীর হোসেন রাজিব ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪২ ভোট। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার আনারস প্রতীকে ৫৫, বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর হোসেন চশমা প্রতীকে ৮৮৯, জামায়াত সমর্থিত আব্দুস সাত্তার মোটরসাইকেল প্রতীকে ১ হাজার ৬৫ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৬২৮ ভোটারের মধ্যে ১০ হাজার ২৮২ জন ভোটার তাদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রদান করেছে। এরমধ্যে ১০ হাজার ১৫৫ ভোট বৈধ গণ্য করা হয়েছে। বাতিল ভোটের সংখ্যা ১২৭।
সরেজমিনে সকল নির্বাচন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা যায়, সকল নির্বাচনী কেন্দ্রই ছিল উৎসবমূখর। ভোটারদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগে ছিল না কোন বাধা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা। ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান-মেম্বার পদপ্রার্থী কারো মধ্যেই কোন অভিযোগ ছিল না।
ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরুর ঘন্টা খানেক পর পরই পর্যায়ক্রমে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল মোমেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহা. কলিমুল্লাহ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) চুয়াডাঙ্গা জেলার উপ-পরিচালক জাফর ইকবাল, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজাসহ প্রশাসনিক উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা সকলেই কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতির প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়াও নির্বাচনী আদালত পরিচালনার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিলেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুচিত্র রঞ্জন দাস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টুকটুক তালুকদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া আক্তার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করেন। নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।