চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২১ এপ্রিল ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাড়ল লকডাউন: নিম্ন আয়ের মানুষের মাথায় হাত

সমীকরণ প্রতিবেদন
এপ্রিল ২১, ২০২১ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

মেহেরাব্বিন সানভী:
দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরও সাতদিনের জন্য লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আবার অন্যদিকে লকডাউনে রুজি-রোজগার বন্ধ। জীবন-জীবিকা নিয়ে তাই চিন্তায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা বলছেন, নিম্ন আয়ের মানুষ করোনাকে ভয় পায় না, ভয় পায় লকডাউনকে। চলতি লকডাউনের কারণে এমনিতেই বেশ কিছুদিন মানবেতর দিন পার করছেন তারা। এরমধ্যে আরও সাতদির লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণায় তাদের কাছে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষেরা বলছেন, জমানো টাকা যা ছিল, তা দিয়ে ও ধার করে লকডাউনের সাতদিন পার হয়েছে। আরও সাত দিন লকডাউন বাড়ায়, আগামী দিনগুলো কীভাবে পার করবেন, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। এখনো পর্যন্ত কেউ নাকি সাহায্যেরও হাত বাড়ায়নি। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করা বাসচালক, কন্ডাক্টর, অটোচালক, দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।
চুয়াডাঙ্গার বাসচালক নিয়ামত আলী বলেন, ‘লকডাউনে অনেক চিন্তার মধ্যে দিন পার করেছি। কীভাবে চলব পরিবার-পরিজন নিয়ে। আমরা বাসচালকরা ‘দিন আনি দিন খাই’। আমাদের জমানো টাকা থাকে না। এজন্য সমস্যায় পড়তে হয়। আরও সাত দিন লকডাউন বাড়ল। এখন কী খাব, কী করব কিছুই মাথায় আসছে না।’
অটোচালক সোহান বলেন, ‘কঠোর লকডাউনে প্রথম দুই দিন অটো চালিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আটকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করছে। যাকে বলে মরার ওপর খাড়ার ঘা। এমনিতেই ভাড়া নেই, তার ওপর আবার জরিমানা গুণতে হলো। জমানো যা ছিল, তাও শেষ। এখন পরিবার নিয়ে কী খাব, সেটাই চিন্তা করছি।’
দিনমজুর আহম্মদ আলী প্রতিদিন সকালে চুয়াডাঙ্গা চৌরাস্তার মোড় থেকে শ্রম বিক্রির জন্য হায়ারে যান। ক’দিন ধরে সকালে আসলেও, লকডাউনে কাজ না থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। দুঃখভারা মুখ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কারো কাছে হাত পাততে পারি না। লকডাউনে গত ছয় দিন অনেক কষ্ট করে চলেছি। কাজ নেই। দিন আনি, দিন খায়। ধার আর জমানো টাকা দিয়ে কোনো মতে এই ক’টা দিন পার করলাম। ফিরতি লকডাউনে কীভাবে যে খেয়ে পড়ে থাকব, তাই এখন বড় সমস্যা?’
মেহেরপুরের ক্ষুদ্রব্যবসায়ী সারাফাত হোসেন জানান, ‘এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়িয়ে আমাদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি লকডাউন পর করতেই আমরা কাহিল হয়ে পড়েছি। সামনের এই এক সপ্তাহ কীভাবে চলবো। খুব চিন্তায় আছি।’
ঝিনাইদহের চা ব্যবসায়ী আবুল শেখ জানান, ‘আমরা পরিবার নিয়ে বাঁচবে কীভাবে? আমাদের কী উপায় হবে?’
এই লকডাউনে মহাদুর্বিপাকে সবচেয়ে বিপন্ন অবস্থায় পড়েছে দৈনিক খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। অনাহারে, অর্ধাহারে নিত্যজীবন কাটানো এক দুঃসহ করুণ অবস্থা তাঁদের। বিভিন্ন গণপরিবহন চালক, রিকশা, ভ্যান এবং অটোচালকরাও পড়েছে সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতিতে। প্রতিদিনের আয় না থাকায় জমাকৃত টাকা খরচ করেও তাঁরা পার পাচ্ছেন না। এমন দুরবস্থায় সরকারি অর্থ ও খাদ্যপণ্য সহায়তা নেই। একজন নিম্ন আয়ের দিন আনা, দিন খাওয়া মানুষের পক্ষে বসে থেকে এক সপ্তাহ পার করা খুব দুর্বিষহ ব্যাপার। যেহেতু এক সপ্তাহ পার হয়েছে, আবার এক সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। এখন নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসংকট তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এই দুঃসময়ে সরকারি সহযোগিতার।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।