বাড়ছে তাপপ্রবাহ, থাকবে সপ্তাহের বেশি

25

ফল পাকা জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই তাতিয়ে উঠছে প্রকৃতি, অস্বস্তিকর গরম
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ফল পাকা জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই তাতিয়ে উঠছে প্রকৃতি। অসহনীয় উষ্ণতা ছড়াচ্ছে। অস্বস্তিকর তাপপ্রবাহ, ভ্যাপসা গরম আর কিয়দংশে ঝড়বৃষ্টি কবলিত এখন দেশ। ৫ বিভাগে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে ১০টি অঞ্চল ও দুটি বিভাগের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। গত রোববার থেকে ব্যারোমিটারের পারদ ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তা বলছে, তাপদাহ থেকে এখনই নিস্তার মিলবে না। আরও অন্তত ৭-৯ দিন ক্রমাগত তাপমাত্রা বাড়তে পারে। গতকাল সোমবার বয়ে গেছে গরম হাওয়া। হাঁসফাঁস করছে প্রাণীকূল।
আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ২৬ মে পর্যন্ত দেশে তাপপ্রবাহ থাকবে। মাঝে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। এদিকে গতকাল দুপুরে ঢাকা বিভাগের মধ্যে ফরিদপুরে সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি, মাদারীপুরে ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও গোপালগঞ্জে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল রাজশাহী (সর্বোচ্চ ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস), খুলনা (সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও বরিশালে (সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান বলেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আছে। এ কারণে ঢাকা, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাঙামাটি, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, রাজশাহী, পাবনা অঞ্চল এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম, ৫৮ শতাংশ। এ কারণে ঘাম দিচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহে এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বরং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুমিল্লা অঞ্চলসহ সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলছেন, এপ্রিল-মে-জুন মাস বাংলাদেশের উষ্ণতম সময়। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকে। কখনো তাপপ্রবাহ চলে। এই সময়ে তুলনামূলক বৃষ্টিপাতও কম হয়ে থাকে। এই বাস্তবতার কারণেই এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল।
এদিকে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হচ্ছে। এপ্রিলেও সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৯ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। বৃষ্টি কম হওয়ার কারণ হিসেবে সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমা ও পূবালী লঘুচাপের প্রভাব কম থাকায় স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে পূবালী বায়ু প্রবাহের সংযোগ এবং বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে জলীয়বাষ্পের যোগান বৃদ্ধি পাওয়ায় ৪, ১৬, ২১ ও ৩০ এপ্রিল দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং বিজলী চমকানোসহ সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয় বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
তাদের তথ্যমতে, এপ্রিলে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ রেকর্ড হয়েছে ২১ এপ্রিল। এ দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তাপীয় লঘুচাপ অবস্থান করায় ২০ ও ২৫ এপ্রিল রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহসহ ১ থেকে ৪, ১০ থেকে ১৬, ১৯ থেকে ২১ এবং ২৩ থেকে ৩০ এপ্রিল খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ (৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যায়।
এ সময় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যশোরে (২৫ এপ্রিল) রেকর্ড করা হয়। এ মাসে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন – দুই শ্রেণির তাপমাত্রাই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। এপ্রিলের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ১ দশমিক ৭ এবং দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর বৃষ্টিপাত একটু কম। মার্চ, এপ্রিল, মে মাসে পশ্চিমা ও পূবালী লঘুচাপের প্রভাব কম থাকায় স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত হয়েছে