চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাড়ছে উদ্বেগ, ভারতীয় ধরণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা!

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ১, ২০২১ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গত ২৪ ঘন্টায় চুয়াডাঙ্গায় আরও ১৮ ও মেহেরপুরে ১৬ জন করোনা আক্রান্ত
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকছে মানুষ, সরকার নির্দেশিত বিধি-নিষেধ মানছে না কেউ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। হঠাৎ করে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এ দুই জেলাবাসীর মধ্যে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তের জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতফেরত বাংলাদেশিরা প্রবেশ করার পর থেকে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। যদিও যারা ভারতফেরত আসছেন, তাঁদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের খবর হলো দর্শনা ও জীবননগর এবং মেহেরপুর জেলার অর্ন্তগত অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ প্রথম থেকেই রয়েছে। এমনকি তাঁরা কোয়ারেন্টিনে না থেকে সর্বত্র ঘোরাফেরা করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে দেশে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনে শুধুমাত্র কার্পাসডাঙ্গা ও কুড়ুলগাছি ইউনিয়নেই ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যুবরণও করেছেন কয়েকজন। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১৮ জন ও মেহেরপুরে আরও ১৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি ও বিধি-নিষেধ আরোপ করা থাকলেও মানুষ তা একদমই মানছে না। আর এসব বিধি-নিষেধ মানাতে স্থানীয় প্রশাসনকেও কঠোর ভূমিকায় দেখা যায়নি। চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলাবাসীর মধ্যে যেন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে না পড়ে। এবং করোনা প্রতিরোধে এখনই সবাইকে আরও সচেতন হতে বলে সচেতন মহল মনে করে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া কদ বানুর (৪৫) নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৮ জনে। গতকাল সোমবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত কদ বানু দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের মিনাজ উদ্দীনের স্ত্রী।
জানা যায়, গত ২৫ মে কদ বানু গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয় তাঁর। কদ বানুর শরীরে করোনা উপসর্গ থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর শরীর থেকে করোনা পরক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শেষে করোনা প্রটোকলে লাশ পরিবারের সস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। গতকাল উক্ত নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়।
গত রোববার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৫২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ ১১২টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১৮ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ৯৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নতুন আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে সদর উপজেলার তিনজন, আলমডাঙ্গার একজন, দামুড়হুদার ১৩ জন ও জীবননগরের একজন রয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৮ জনে। মোট শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ২৮ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৬৮ জন, দামুড়হুদায় ৩৭৯ জন ও জীবননগরে ২১১ জন।
এদিকে, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ১৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে। এনিয়ে জেলা থেকে মোট নমুনা সংগ্রহের ১০ হাজার ছাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৪ জনে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৭০ জন, আলমডাঙ্গার ৩৪০ জন, দামুড়হুদায় ৩১৫ জন ও দামুড়হুদায় ১৯২ জন সুস্থ হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১০ হাজার ৩৪টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ৬৭৪টি, পজিটিভ ১ হাজার ৯৮৬টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ১০১ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ জন, আলমডাঙ্গায় ৯ জন, দামুড়হুদায় ৪৮ জন ও জীবননগরে ১৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৭৮জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৬ জন, আলমডাঙ্গায় ৮ জন, দামুড়হুদায় ৩০ জন ও জীবননগরে ১৪ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার দুজন, আলমডাঙ্গার একজন, দামুড়হুদার ১৭ জন ও জীবননগরের একজন জনসহ মোট ২১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৮ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৬ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে। অন্যদিকে, গতকাল করোনা আক্রান্ত সদর উপজেলার একজন ও দামুড়হুদার একজনসহ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গতকাল সোমবার জেলায় নতুন ১৬ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। মেহেরপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই দিনে দিনে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে যে নমুনা পাঠানো হয়েছিল তারমধ্যে গতকাল ৬৮টি (এন্টিজেন টেষ্ট ১৬ টি, জীন এক্সপার্ট-১৫, আরটিপিসিআর-৩৭ টি) নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ১৬ জনের রিপোর্ট পজেটিভ। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ৪ জন, গাংনী উপজেলার ৩ জন, মুজিবনগর উপজেলার ৬ ও অপর ৩ জন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বাসিন্দা বলে জানান তিনি।
মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় নতুন শনাক্ত ১৬ জনসহ বর্তামে ৬৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১৯ জন, গাংনী উপজেলার ২৮ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ২২ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৬৪ জন এবং মারা গেছেন ২৩ জন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।