বাস্তবতার সঙ্গে ঘোষিত ফলাফলের অসঙ্গতি

55

পৌর নির্বাচন : আ.লীগ-বিএনপির ভোটে অস্বাভাবিক ব্যবধান
সমীকরণ প্রতিবেদন:
রাজনীতির মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। কিন্তু সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের মতো তৃণমূলের নির্বাচনের ফলাফলেও দেখা যাচ্ছে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র। একচেটিয়া ভোট পড়ছে নৌকায়। বিপরীতে ধানের শীষের প্রার্থীদের অনেকে জামানত হারাচ্ছেন। অবশ্য ভোটের এই ফলাফল বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাঁরা মেয়র পদে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারেননি। আবার বিএনপির প্রার্থীদের বেশির ভাগ নির্বাচনী প্রচারে যতটা তৎপর ছিলেন, ভোটের দিন কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নেওয়া, এজেন্ট রাখা এবং কেন্দ্রে ভোটার আনার ক্ষেত্রে ততটা সক্রিয় দেখা যায়নি।
গত শনিবার দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬০টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে চারটি পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় মেয়র পদে ভোট হয়নি। বাকি ৫৬টি পৌরসভার মধ্যে ৩০টিতে জামানত হারিয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিপরীতে বিপুল বিজয়ের মধ্যেও একটি পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট প্রদত্ত ভোটের ৬০ শতাংশ পড়েছে নৌকায়। এর মধ্যে ১৪টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আর ধানের শীষে পড়েছে ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। মাত্র ৮টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ভোটের হার প্রথম ধাপের চেয়ে সামান্য কমেছে। এই ধাপে ভোট পড়েছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ। প্রথম ধাপে ভোটের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের নির্বাচনেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৬৪ শতাংশ ভোট। আর বিএনপি পেয়েছিল সাড়ে ১৩ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ১২টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছিলেন।
জামানত গেছে বিএনপির প্রার্থীদের:
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। পৌরসভায় ভোটারসংখ্যা অনুপাতে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে মেয়র প্রার্থীদের জমা দিতে হয়। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তাঁর জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। ৩০টি পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা জামানত রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত ভোট পাননি।
ইসি সচিবালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেসব পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন, সেগুলো হলো দিনাজপুরের বিরামপুর ও বীরগঞ্জ; কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী; গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ; বগুড়ার সারিয়াকান্দি; রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ ও আড়ানী; নাটোরের গোপালপুর ও গুরুদাসপুর; সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া; নরসিংদীর বেলকুচি ও রায়গঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী; মেহেরপুরের গাংনী; কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মিরপুর ও শৈলকুপা; বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট; মাগুরা সদর; নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ; ঢাকার সাভার; নরসিংদীর মনোহরদী; শরীয়তপুর সদর; সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর; মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া; ফেনীর দাগনভূঞা; চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও বান্দরবানের লামা।
এদিকে, অতীত এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে এবারের পৌর নির্বাচনের ভোটের ফলাফল সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে ঘোষিত ফলাফলের মিল দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ভোটের এত ব্যবধান, এটি সংগতিপূর্ণ মনে হয় না। বিএনপির বেশির ভাগ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন, এটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনেরই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তারা দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো