বার্ধক্যে শেষ সম্বল বঙ্গবন্ধুর ছবি

291

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে আজও সংগ্রাম করছেন আক্কাস আলী
এসএম শাফায়েত:
নাম আক্কাস আলী শেখ। ১৯৩৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে। সে অনুযায়ী ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন ৩২/৩৩ বছর বয়সের টগবগে যুবক। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্থানের সশস্ত্র সংগ্রাম অর্থ্যাৎ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঘরে বসে থাকেননি আক্কাস আলী। কোন প্রকার সামরিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রবল সাহসিকতা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন যুদ্ধের ময়দানে। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক সহযোগিতাসহ প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিয়ে ওই সময় বেশ বীরত্ব দেখিয়েছেন আক্কাস আলী। বেসামরিক মুক্তিসেনা হিসেবে তাই ৮ নম্বর সেক্টরের সাব কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তিনি অতিপরিচিত। কিন্তু আজও আক্কাস আলীর নামের আগে যুক্ত হয়নি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, একাধিকবার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হলেও সেখানেও নাম ওঠেনি তাঁর। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে আজও তিনি যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। তাঁর একমাত্র সম্বল এখন বঙ্গবন্ধুর একটি সাদাকালো ছবি আর বুলেটের একটি খালি বাক্স (কাঁঠের বাক্স)। সারাদেশে যখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে তখন আক্কাস আলীর নামটিও তালিকায় স্থান পাক, দাবি পরিবারের। কারণ বার্ধক্যে এসে তিনি আজ এ সন্তানের নিকট কাল অন্য সন্তানের নিকট আশ্রয় নিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন। তাঁর ৬ ছেলে মেয়ের মধ্যে কেউ দিন মজুর কেউবা অন্যের কর্মচারী। তারাও কেউ সাবলম্বী নন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ছেলেরা সবাই নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত।
এদিকে, আক্কাস আলী বয়সের ভারে এখন অনেকটাই নুইয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না, কথা বলেন তাও অস্পষ্ট। শেষ বয়সে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছেন। তবুও মিলছে না সুফল, কোন ভাবেই পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি।
জীবনের শেষ সময়ে অর্থ্যাৎ মৃত্যুর সময় অন্তত রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের সুযোগ চান আক্কাস আলী। তিনি বলেন, ‘দেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, দেশকে স্বাধীন করতে হলে যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই যুদ্ধে যেতে হবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন যুদ্ধে গিয়েছিলাম। কখনো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশা করিনি। বয়স হয়েছে, জীবনের শেষ সময়ে একটাই আশা- একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লাল সবুজের পতাকা বুকে জড়িয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সবার কাছ থেকে বিদায় নিতে চাই।’
তার ছেলে আজীবর রহমান বলেন, ‘আমার বাবা রণাঙ্গণের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে আমার বাবার একটাই আবেদন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্বীকৃতি দেওয়া হোক। আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে চান।’ তিনি আশা করছেন, জীবদ্দশায় একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যথাযোগ্য সম্মান ও স্বীকৃতি পাবেন আক্কাস আলী।