বাবা মা চান না ধোনি আর ভারতের হয়ে খেলুন

202

খেলাধুলা ডেস্ক:
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালই কী ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির শেষ ম্যাচ? দারুণ এক ফিফটিতে মহাবিপর্যয়ের মধ্যেও লড়ে গিয়েছিলেন সে ম্যাচে। ভারতকে প্রায় জয়ের বন্দরেই পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে সরাসরি রান আউট হয়ে ফিরলেন তিনি। ভারতের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্বপ্নেরও শেষ সেখানেই। ধোনি এখন কী করবেন? বয়স কম হয়নি। ২০০৭ সালে ভারতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতিয়েছেন, ২০১১ সালে কপিল দেবের পর দ্বিতীয় ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। ২০১৩ সালে দেশকে জিতিয়েছেন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা। মোটকথা ক্রিকেটের বৈশ্বিক ট্রফির সব কটিই জেতা হয়ে গেছে তাঁর। এবারের বিশ্বকাপ ছিল তাঁর নতুন করে ইতিহাসে নাম লেখানোর উপলক্ষ। সেটি যখন পারলেন না, তখন বিদায় নেওয়াটাই অনুমিত। কিন্তু ধোনি এ ব্যাপারে এখনো মুখ খোলেননি। তবে তাঁর ছেলেবেলার কোচ কেশব ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ধোনির বাবা-মা নাকি চান না তাঁদের ছেলে আর ভারতের জার্সি গায়ে দিক। রাঁচিতে ধোনির পৈতৃক নিবাস ঘুরে এসেই কেশব ব্যানার্জি ব্যাপারটি জানিয়েছেন। তাঁর কাছেই ধোনির বাবা-মা নিজেদের ইচ্ছার কথা বলেছেন। ধোনির বাবা-মার মতে, ছেলের অবসর ঘোষণার সঠিক সময় এটিই। কেশব ব্যানার্জি জানিয়েছেন ধোনির বাবা-মার এমনটি চাওয়ার পেছনে কিছুটা পারিবারিক কারণও আছে, ‘ধোনির বাবা-মা আমায় বলেছে ভারতের সব গণমাধ্যম বলছে ধোনির অবসর নেওয়া উচিত। আমরাও চাই সে অবসরে যাক। ওর বিরাট বিষয় সম্পত্তি আমরা আর সামলাতে পারছি না।’ গত ১০-১২ বছর ধরে রাাঁচিতে ধোনির সম্পত্তি পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা। এই কাজটা করতে করতে রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছেন তাঁরা। আর একটা বছরও তারা এটি করতে চান না। ধোনির এখনই বিদায় নিক, এটি অবশ্য চান না কেশব ব্যানার্জি। তিনি মনে করেন ধোনির উচিত ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলা। তিনি এ ব্যাপারে ধোনির বাবা-মাকে রাজি করানোর চেষ্টাও করেছেন, ‘আমি তাদের বলেছি ধোনি ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলুক। আপনারা যখন এত বছর বিষয়-সম্পত্তি দেখাশোনা করেছেন, তখন কষ্ট করে আরও একটা বছর করুন।’ এবারের বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচে ধোনির ব্যাট থেকে এসেছে ২৭৩ রান। একেবারে শেষ ম্যাচে (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল) এসে পেয়েছেন ফিফটি। তাঁর ধীর গতির ব্যাটিং গোটা টুর্নামেন্টেই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সেমিতে তাঁর ধীর লয়ের ব্যাটিংই ভারতকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।