চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৫ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবার বন্ধুর হাতে শ্লীলতাহানী, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা!

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৫, ২০২১ ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় বাবার বন্ধুর হাতে শ্লীলতাহানীর শিকার সুমাইয়া আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সুমাইয়া আক্তার সদর উপজেলার শঙ্করচঁন্দ্র ইউনিয়নের দীননাথপুর-মাখালডাঙ্গা গ্রামের বাগানপাড়ার সিদ্দিক হোসেনের মেয়ে ও দীননাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। এদিকে, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় দুজনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।
নিহত কিশোরীর মা আম্বিয়া বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পাশের হাজি খাতুন তাঁর বাড়িতে বাৎসরিক বাউল গানের আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয় কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার হালসা নওদাপাড়ার মৃত জামালের ছেলে লোকমান। আমার স্বামীর সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক থাকায় সে আমাদের বাড়িতেও আসা-যাওয়া করত। ওই রাতে সুমাইয়া বাড়িতেই আমাদের দোকানে বেচা-কেনা করছিল। রাত তিনটার দিকে আমি গানের ওখানে ছিলাম। বাড়িতে একা পেয়ে সুমাইয়াকে জোর করে জড়িয়ে ধরে লোকমান। এ ঘটনা আমাদের নিকট আত্মীয় আনারুল দেখে ফেলে। এসময় লোকমান পালিয়ে যায়। সুমাইয়াকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে আমাকে ডেকে আনে আনারুল। আমি বাড়ি ফিরে দেখি সুমাইয়া সেখানে নেই। এসময় আমি মেয়েকে খুঁজতে থাকি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশের ঘরের মধ্যে গলায় ওড়না দিয়ে মেয়েকে ঝুলতে দেখি। এসময় সুমাইয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিই। কিন্তু আমার মেয়ে বাঁচেনি। ওই লোকমানের কারণে আমার মেয়ে আত্মহত্যা হরেছে।’
শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আশরাফুল আলম ঠাণ্ডু বলেন, ‘রাতে গানের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। কিছুক্ষণ থাকার পরে আমি বাড়িতে চলে আসি। পরে শুনতে পাই সিদ্দিকের মেয়ে সুমাইয়া গলায় দঁড়ি দিয়েছে। লোকমুখে শুনেছি লোকমান নামের একটি ছেলে মেয়েটিকে শ্লীলতাহানী করলে সে গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আমি রাতে লোকমানকে গানের অনুষ্ঠানে বসে ঝুনঝুনি বাজাতে দেখেছিলাম। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হাসপাতালে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।’
প্রতিবেশী আনারুল বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে গানের আসর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘরের বারান্দায় লোকমানের সঙ্গে সুমাইয়াকে ধস্তাধস্তি করতে দেখতে পাই। এসময় আমি সেখানে গেলে লোকমান পালিয়ে যায়। আমি সুমাইয়ার মাকে ঘটনা জানালে সে বাড়িতে এসে মেয়েকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের ঘরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। এসময় আমরা দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘রাত চারটার দিকে পরিবারের সদস্যরা সুমাইয়া নামের ওই কিশোরীকে জরুরি বিভাগে নেয়। কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যতদ্রুত সম্ভব উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কিশোরীর মৃত্যু হয়।’
গতকাল দুপুরে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. উৎপলা বিশ্বাসকে প্রধান করে দুই সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের অপর সদস্য ছিলেন সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা সম্পর্কে জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখান থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কিশোরীর বাবার বন্ধু লোকমানের অসংলগ্ন আচরণের কারণেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সদর থানায় লোকমানসহ দুজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লোকমান পলাতক রয়েছেন। দুপুরেই মরদেহটির ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’ এদিকে, গতকাল আসরের নামাজের পর নিহতের লাশের জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।