চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২০ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ আজ জিতলে আরেক ইতিহাস

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২০, ২০২২ ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ জিতে তামিম-সাকিব-মিরাজরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২০ বছরের হারের রেকর্ড ভেঙে টাইগাররা গড়েছে জয়ের উপাখ্যান। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ফরম্যাটে ১৯ ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হারের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশ দলের। দেশটিতে সফরকারীদের ২০তম ম্যাচে দলগত প্রচেষ্টায় জয়ের কীর্তি গড়া সম্ভব হয়েছে। সেঞ্চুরিয়ানে গত পরশু বাংলাদেশের টসে হারা বাংলাদেশের চার উইকেটে ৩১৭ রানের জবাবে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৮.৫ ওভারে ২৭৬ রানে ইনিংস শেষ করে। ফলে ৩৮ রানের ঐতিহাসিক জয়। আর আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতলে রচিত হবে আরেক ইতিহাস। রীতিমতো সিরিজই নিজেদের করে নেবে টাইগাররা। ঐক্যবদ্ধ দলীয় এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে প্রেটিয়াদের মাটিতে আজকেই ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়াও কঠিন হবে না তামিম ইকবালদের। বিশ্লষকদের দৃষ্টিতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি দরকার। পরশু সেঞ্চুরিয়ানে বাংলাদেশ দলের ব্যাটার ও বোলাররা যে সাফল্য দেখালেন, আজ তা ওয়ান্ডারার্সে দেখাতে পারলে সিরিজ জয় টাইগারদের পক্ষে কঠিন নয়। যদিও সিরিজ জয়টা তামিমের দৃষ্টিতে বেশ কঠিন হবে, ‘কারণ তারা (দক্ষিণ আফ্রিকা) শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে চাইবে।’ স্বাগতিক দলের অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার দাবিও ঠিক তেমনই। ওয়ান্ডারার্সে আজকের ওয়ানডে ‘অবশ্যই আমরা জিতব’। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ ওয়ান্ডারার্সে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হচ্ছে সফরকারী দল। এই ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের স্বপ্ন তামিম-সাকিবরা নিশ্চয়ই দেখছেন। এটি সম্ভব বলে মনে করেন টাইগার ভক্ত-সমর্থকরাও। শুধু সম্ভব নয়, তাদের চাওয়াও সেটি। এ জন্য তামিমদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।
প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে শুরুতে হাল ধরেছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকাবল ও লিটন দাস। মাঝে সাকিব, ইয়াসির। শেষে মাহমুদউল্লাহ, আফিফ ও মিরাজ রাখলেন অবদান। তাদের ব্যাটিং অবদানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩১৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। এরপর বোলিংয়ে শুরুতেই শরিফুলের ধাক্কা। তাসকিন এক ওভারেই নিয়ে নেন জোড়া উইকেট। ফিরে এসে শরিফুল, তাসকিন আবারো সাফল্য দেখালেন। মধ্যে সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। ফিনিশিংটা করেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে টাইগারদের আক্রমণে প্রোটিয়ারা গুটিয়ে যায় পৌনে তিন শ’ রান করেই। আজ টাইগারদের সিরিজ জয়ের স্বপ্নপূরণের মাহেন্দ্রক্ষণ। এ জন্য আগে ব্যাটিং পেলে বাংলাদেশকে অন্তত ৩৫০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে হবে। কারণ গত সাত ম্যাচের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চারটি ম্যাচ জিতেছে আগে ৩৫০ রান সংগ্রহকারী দল। অবশ্য কোনো কারণে আজকের ম্যাচে হারলেও সেঞ্চুরিয়ানে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে জিতেও সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকবে টাইগারদের সামনে। আর সেটি করে দেখাতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তামিমরা থাকবেন নতুন অধ্যায়ের মহানায়ক হয়ে। শেষ চার ম্যাচে তিনটি জয় এনে দেয়া বাংলাদেশ একাদশে আজ পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর তাবরেজ শামসিকে ফিরিয়ে আনার কথা বিবেচনা করবে। বিশেষ করে যদি জোহানেসবার্গের পিচ স্পিনারদের জন্য কিছুটা সুবিধা দেয়।
সেঞ্চুরিয়ানে ইতিহাস
সেঞ্চুরিয়ানে জয়ের ইতিহাস গড়ার ম্যাচে সাকিব ব্যাট হাতে ৭৭ রান করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন। অধিনায়ক তামিমের চোখে এই জয়ে দলের প্রত্যেকের অবদান ছিল। তার কথায়, ব্যাটিংয়ে আমাদের ভালো একটা উদ্বোধনী জুটি (লিটনের সাথে) হয়। সাকিব ব্রিলিয়ান্ট ইনিংস খেলেছে। ইয়াসিরের ইনিংসটি অবিশ্বাস্য। রিয়াদ ভাইয়ের ছোট ২৫ রান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আফিফের একটি চার ও একটি ছক্কা এবং মিরাজের দু’টি ছক্কাও সমান গুরুত্বের ছিল। বোলিং নিয়ে অধিনায়কের মূল্যায়ন, আমরা যখনই শুরুতে উইকেট পাই, বুঝতে পারছিলাম যে আমরা ম্যাচে আছি। কিন্তু এই মাঠ এমন যেখানে ৩০০ রানও তাড়া করা যায়। কিন্তু পেসাররা যেভাবে বোলিং করেছে এক কথায় রোমাঞ্চকর। মিরাজ যেভাবে ফিরে এসেছে তা দারুণ ছিল। একজন পয়েন্ট আউট করতে পারবো না যে ওর কারণেই জিতেছি। এটা এমন ম্যাচ ছিল যেখানে সবাই অবদান রেখেছে। ভালো ফিল্ডিং ও ব্যাটিং, বোলিং হয়েছে। সব দিক থেকে খুব খুশি। বাংলাদেশের সামনে এখন সুযোগ সিরিজ জয়ের। সেটিও সম্ভব। এ জন্য সবগুলো সুযোগ আমাদের গ্রহণ করতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৩১৪/৭ রান (তামিম ইকবাল ৪১, লিটন দাস ৫০, সাকিব আল হাসান ৭৭, ইয়াসির আলী ৫০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৫; মার্কো জ্যানসেন ২/৫৭ ও কেশব মহারাজ ২/৫৬)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ২৭৬ রান (কাইল ভেরেইন ২১, টেম্বা বাভুমা ৩১, রাশি ভ্যান ডের দুসান ৮৬, ডেভিড মিলার ৭৯; মিরাজ ৪/৬১, তাসকিন ৩/৩৬ ও শরিফুল ২/৪৭)।
ফল : বাংলাদেশ জয়ী
ম্যাচসেরা : সাকিব।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।