বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার ছক!

213

হুমকি দিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বার্তা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
এবার বাংলাদেশ ও ভারতে হামলার পরিকল্পনা করছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আইএস সমর্থিত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলার হুমকি দিয়ে বাংলায় ‘শিগগিরই আসছি, ইনশাআল্লাহ’ লেখা একটি পোস্টার প্রকাশ হয়। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলছে, এ ধরনের একটি পোস্টার বিলি করার কথা জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ওই পোস্টারের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য এ হামলার কথা জানায়। অবশ্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, আইএসের হামলার হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও তারা সতর্ক রয়েছেন। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
বাংলায় লেখা ওই পোস্টারে আল-মুরসালাত নামে আইএসের একটি শাখা সংগঠনের লোগো আছে। শ্রীলঙ্কায় তওহিদ জামাত নামে একটি স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পোস্টারটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়া আইএসের বাংলায় লেখা পোস্টারটি তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেনি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে আইএসের মজবুত ভিত্তি রয়েছে। দেশটিতে জামাতুল মুজাহিদিন (নব্য-জেএমবি) নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নব্য-জেএমবিকে তাদের দলে সদস্য নিয়োগের জন্য কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝে মাঝেই তৎপর হতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা হামলার পরিকল্পনা করছে। জঙ্গিবাদকে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এক বৈশি^ক সংকট হিসেবে অভিহিত করে শ্রীলঙ্কায় গত সপ্তাহের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের পর এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম নামে এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরিফুল ২০১৮ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, এই বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতের আসামের চিরাঙ জেলায় স্থাপিত একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেয়ার কথা স্বীকার করে। গত বছরের জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাও (এফবিআই) পশ্চিমবঙ্গের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আইএস-জেএমবির সদস্য মোহাম্মদ মুসিরউদ্দিন ওরফে মুসার বিষয়ে তদন্ত করে। মুসিরউদ্দিন দীর্ঘদিন ভারতের তামিলনাড়– রাজ্যের ত্রিপুর জেলায় আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, জেএমবি নেতা আমজাদ শেখের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ২০১৪ সালে বর্ধমান বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশে আইএসের হামলার হুমকির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, সারা বিশ্ব এখন ঝুঁঁকিতে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ঝুঁকিতে রয়েছে, আমরাও ঝুঁঁকিতে আছি। তবে ঝুঁকিতে থাকলেও আমাদের দেশে কোনো হামলার আশঙ্কা নেই। এমন কোনো তথ্যও এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। তবে, নিউজিল্যান্ডে হামলার পর আমাদের দেশের জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে একটি প্রতিশোধপরায়ণ প্রবণতা জেগে উঠেছে। আমাদের বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির মাধ্যমে কিছু তথ্য পেয়েছি। তবে হামলার জন্য যে পরিমাণ সরঞ্জামের প্রয়োজন সেগুলো জোগাড় করা অনেক সময়ের ব্যাপার। তিনি আরো বলেন, আমাদের বিভিন্ন অভিযানে জঙ্গিদের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেকটা ভেঙে গিয়েছে অনেক আগেই। তবে শ্রীলঙ্কায় হামলার ঘটনার পর থেকে নিঃসন্দেহে তারা ইন্সপায়ার্ড হয়েছে। তবে হামলা করার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো, মনোবল, সরঞ্জাম তাদের নেই। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার আশঙ্কাও নেই।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া এন্ড প্ল্যানিং) এস এম রুহুল আমিন গতকাল বলেন, আমাদের কাছে জঙ্গি হামলার ঝুঁকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। যেহেতু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে (শ্রীলঙ্কা) একটি ঘটনা ঘটেছে, সেহেতু আমাদের সকল ইউনিটগুলোকে সর্তক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। অপর এক প্রশ্œের জবাবে এস এম রুহুল আমিন বলেন, যে কোনো ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সব সময় প্রস্তুত ছিল এবং এখনো আছে।
এ ছাড়া, র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, বাংলাদেশে যেসব জঙ্গি সংগঠন আছে, সেগুলোর সঙ্গে আইএসের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্বই নেই। হলি আর্টিজানে হামলার পর এ ধরনের নানা হুমকির কথা আমরাও শুনেছি। তবে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, ভয়ের কিছু নেই। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে। গত রবিবার শ্রীলঙ্কায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে চলাকালে একাধিক গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই হামলার দায় স্বীকার করে।