চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৩ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বলছেন পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমার মানে নিশ্চিত মৃত্যু

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৩, ২০১৬ ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়7

সমীকরণ ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলেছেন, মিয়ানমারে থাকা মানে নিশ্চিত মৃত্যু, তাই তারা বাংলাদেশেই থেকে যেতে চান। বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালালেও বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসে আশ্রয় নিচ্ছেন রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমরা। রোববার রাতেও নৌকায় করে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসেছেন অন্তত ১৩ জন রোহিঙ্গা। জানা গেছে, রাখাইনের সহিংস পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে রোববার রাতে একটি নৌকায় করে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেন অন্তত ২০ জন রোহিঙ্গা মুসলমান। কিন্তু নাফ নদীর মাঝপথে তাদের নৌকা ডুবে যায়। তখন অন্য একটি নৌকা এসে তাদের বাঁচালেও সাতজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। প্রাণভয়ে পরিবার নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে আসার সময় তিন সন্তানকে হারিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও রোকেয়া বেগম। হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি আর মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না, যেভাবেই হোক বাংলাদেশেই থেকে যেতে চান তারা।
তিনি বলেন, ‘ওইখানে খারাপ ছিলাম না। কিন্তু এখন সেখানে যে পরিস্থিতি থাকার মতো অবস্থা আর নাই। ওইখানে ফিরে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু’। হুমায়ুন কবির আরও বলেন, তাদের সঙ্গে আরও অনেক রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কয়েকটি নৌকায় তারা রওনাও দিয়েছিল। কিন্তু তাদের এখন কী অবস্থা, জানেন না তিনি। হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম, নাফ নদী দিয়ে টেকনাফে আসার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় তিন সন্তানকে হারিয়েছেন। হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, মংডুতে তাদের গ্রামে আর কোনো রোহিঙ্গা মুসলিম খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবাই প্রাণভয়ে পালিয়ে আছেন কোথাও। নয়তো বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছে। টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন হুমায়ুন কবির, তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমসহ ১৩ জন। তাদের সঙ্গে আসা মোতায়রা বেগমও নাফ নদীতে তার সন্তানকে হারিয়েছেন, নৌকায় আসার সময় মোতায়রার একমাত্র সন্তানও ডুবে গেছে। হ্নীলায় এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন মোতায়রা ও তার স্বামী। মোতায়রা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাখাইনে যে অত্যাচার-নির্যাতন চলছে তা বলে বোঝানো যাবে না। ‘সেনাবাহিনীর মানুষ এসে ঘরের দরজা আটকিয়ে আগুন দেয় আর বলে এরা রোহিঙ্গা মুসলিম। কোনোভাবে যদি কেউ বাড়ি থেকে পালাতে চায় তাহলে তারা গুলি করে’। রাখাইনের মেয়েদের ওপর ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন এ রোহিঙ্গা মুসলিমরা। মোতায়রা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাখাইনে যে অত্যাচার-নির্যাতন চলছে তা বলে বোঝানো যাবে না। রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারের কঠোর মনোভাব সত্ত্বেও সীমান্তের ওপারে চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে পড়া মানুষদের প্রতি বাংলাদেশিদের সহানুভূতি বাড়ছে বলে বিবিসির সংবাদদাতা জানান। তবে মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের দাবি বরাবরই ‘ধতিরঞ্জিত’ বলে বর্ণনা করে থাকে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র য থে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘রাখাইনে যা ঘটছে, তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা’।
প্রাণভয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে:  এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল সপ্তাহ থেকে সোমবার পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদনে তথ্যসূত্র হিসেবে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থার (ওঙগ) কথা বলা হয়। নাম প্রকাশ না করা প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংস্থা দুটি জানিয়েছে, বিজিবি অনেক শরণার্থীকে ফিরিয়ে দিলেও গোপনে রোহিঙ্গারা ঠিকই প্রবেশ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহীন হয়েছেন দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। যদিও এ সব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার। তাদের দাবি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কাড়তে রোহিঙ্গারাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তবে সেখান থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, মিয়ানমার সরকার যতই অভিযোগ অস্বীকার করুক, বাস্তব চিত্র পুরো উল্টো। রাখাইনের উত্তরাঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা মৌলভি আজিজ খান রয়টার্সকে জানান, দেশটির সেনাবাহিনী তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। রাখাইনের ষাটোর্ধ্ব ওই রোহিঙ্গা বলেন, সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কারণে প্রাণের ভয়ে তিনি তার চার মেয়ে ও তিন নাতিকে নিয়ে কাছের পাহাড়ে পালিয়ে যান। পরে গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। অভিযোগ আছে, রোহিঙ্গা উচ্ছেদে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী শুধু যে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়েই দিচ্ছে তাই নয়; হত্যা ও নারী ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কাজও করছে। তবে এসব অভিযোগই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার। নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইটে তোলা ছবির প্রমাণসহ সোমবার জানিয়েছে, মাত্র আটদিনে রাখাইনের অন্তত ৮২০টি ঘর ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তবে এর প্রকৃত সংখ্যা হবে এক হাজার ২৫০টি। মিয়ানমার সরকার শুধু যে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগই অস্বীকার করছে তাই নয়, গৃহহীন রোহিঙ্গারা যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে তাও মানতে নারাজ। দেশটির সরকারের মুখপাত্র জিও হিতে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ‘রাখাইনের ঘটনা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’ রাখাইনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। তবে জাতিসংঘ বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানের কারণে চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সেখানকার অন্তত দেড় লাখ মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের কাছে খাদ্য, পানীয় জল ও অর্থ পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে। তবে মিয়ানমার সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত ৪০ দিন ওই অঞ্চলে সেগুলো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। দুর্গত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দিতে তাই মিয়ানমার সরকারের কাছে ধারাবাহিকভাবে আবেদন জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।