চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৩১ জুলাই ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বঞ্চনার মাঝে খানিকটা স্বস্তি

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ৩১, ২০১৭ ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি অধিকারবঞ্চিত। অধিকার হরণ নিয়ে কতিপয় দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছি। ভ্যাকেশনাল বিভাগের কর্মচারী দেখিয়ে নন-ভ্যাকেশনাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যেমন- অর্জিত ছুটি দুটোর পরিবর্তে একটি, পিআরএল ১২ মাসের মূল বেতনের অর্ধেক, ল্যাম্পগ্রান্ড কম টাকা দেয়া, শ্রান্তিবিনোদন ভাতা প্রদানে ১৫ দিনের ছুটি ভোগ করতে না দেয়া, জাতীয় দিবসসহ বিশেষ দিবসে ছুটির তালিকায় ছুটি দেখিয়ে কাজ করানোসহ প্রধান শিক্ষকের হাতে সংরক্ষিত ছুটি দেখিয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে ছুটি ভোগের অধিকার হরণ অন্যতম। সংশ্লিষ্টরা যথাসময়ে সমুদয় পাওনা না দিয়ে শিক্ষকদের অফিসমুখী করে রাখেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বেতন স্কেল অর্থ মন্ত্রণালয়ের জিও জারি সত্ত্বেও দুই বছর পর দেয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর আজো সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে এবং প্রধান শিক্ষকদের বেতনের অসঙ্গতি তিন বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘ নয় বছর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি না দেয়ায় হাজার হাজার শিক্ষককে বঞ্চিত হয়ে অবসর নিতে বা মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। অগণিত বঞ্চনার মাঝে প্রাথমিক শিক্ষকদের কাজ করতে হয়।
উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ প্রাথমিকের তৃণমূল পর্যায়ে অসংখ্য কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত হয়ে আসছেন। ২০১৬ সালের ২১ মে প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার সুরক্ষা ফোরাম ঢাকার বাইরে থেকে শিক্ষক বদলি, প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্বে পদায়নসহ ছয় দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এবং মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সমীপে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি স্মারকলিপি পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে যে ছয় দফা দাবিনামা সুপারিশ করা হয় সেগুলো হলো— ঢাকাসহ শহরাঞ্চলে শিক্ষকদের বদলিনীতি সংশোধন এবং বদলি বন্ধ করা; প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতিতে কোনো জটিলতা থাকলে জরুরি ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে সমস্যা নিরসন এবং পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা; প্রাথমিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুগোপযোগী ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে শতভাগ পদোন্নতির ব্যবস্থা; পদোন্নতির মাধ্যমে অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের সর্বস্তরে নিয়োগ দেয়া; প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা এবং প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর আয়ন-ব্যয়ন ক্ষমতাসহ গেজেটেড মর্যাদা ও স্কেল প্রদান করা।
ঢকা শহরে ৮৭ জন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে দু-তিন থানা দূরত্বে পদায়ন করা হয়। শিক্ষকদের দৌড়ঝাঁপ দিয়েও সকাল সাড়ে ৭টার আগে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে অন্তরায়। এ নিষ্ঠুর পদায়ন মন্ত্রণালয়ের হূদয়ে স্থান পেতে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান, একদিন ভোরে হেঁটে, রিকশায়, বাসে ও অটোতে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে বাস্তব সমস্যা উপলব্ধি করুন। দ্রুত কাছাকাছি স্থানে বদলি করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা প্রাণহীন হওয়া থেকে রক্ষা করুন।
কাছাকাছি বদলির কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভাগীয় উপপরিচালক, ঢাকাকে দায়িত্ব দেয়া হলে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব। মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের বিড়¤॥^না থেকে শিক্ষকরা মুক্ত থাকবেন। দেশব্যাপী কাছাকাছি পদায়নের শিক্ষক নেতৃত্বে নামধারী চক্র অবৈধ বাণিজ্যের মহড়া দিচ্ছে, যা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় সব অবৈধ লেনদেনের ব্যাপারে শিক্ষকসমাজসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।