চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৮ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বঙ্গবন্ধু সঠিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি : এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার

যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস’ পালন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিসেম্বর ৮, ২০২১ ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটায় চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের শহীদ হাসান চত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শারমিন আক্তার প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চুয়াডাঙ্গার ভূমিকা অন্যতম। সীমান্ত ঘেষা জেলা হওয়ার সুবাদে এখান থেকেই যুদ্ধ পরিচলানাসহ নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জেলার এসব স্মৃতি রক্ষার্থে নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু প্রত্যাশিত দাবি রয়েছে, সেসব দাবি পূরণে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।

এর আগে সকাল ৬টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ৬ ডিসেম্বর পাক-বাহিনী মেহেরপুর থেকে ২৮ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে চুয়াডাঙ্গার দিকে আসেন। ওই দিন সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রিজটি পাক-বাহিনী বোমা বিস্ফোরণ করে উড়িয়ে দেয়, যাতে মুক্তিবাহিনী তাদের অনুসরণ করতে না পারে। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে পাক-বাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গা ছেড়ে কুষ্টিয়ার দিকে চলে গেলে চুয়াডাঙ্গা স¤পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:

নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সামনে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর দামুড়হুদার নাটুদাহে অবস্থিত আটকবর স্মৃতি কমপ্লেক্সে আট বীর শহীদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়ার অনুষ্ঠান করা হয়। সকল কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।

এসময় এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘অনেক ত্যাগ, তিতিক্ষা ও কষ্টের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। একে একে পুরো দেশকে পাক হানাদারবাহিনী মুক্ত করতে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে বাঙালি জাতি। এ দেশ স্বাধীন করতে বীরঙ্গনাদের ত্যাগও কম নয়। বঙ্গবন্ধু সঠিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। চুয়াডাঙ্গাকে হানাদার বাহিনী মুক্ত করতেও অনেকে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের সেই আত্মত্যাগকে আমরা ভুলতে পারি না।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, অ্যাড. শামসুজ্জোহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, মুফতি মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মালিক, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝণ্টু, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মনজু, চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন হেলা, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, সাবেক যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের, রাসেদুজ্জামান বাকী, সিরাজুল ইসলাম আসমান, জেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফরোজা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক গিণি ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিজা বেগম, জাহানারা বেগম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, সহসভাপতি মো. সাহাবুল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা মো. ফিরোজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা তানিম হাসান তারেক, ছাত্রলীগ নেতা আলিফ নূরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের কর্মসূচি:

চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে শহীদ আলাউল হলে চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস উপলক্ষে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি নজমুল হেলালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা এবং সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ, জাতীয় শ্রমিক লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজালুল হক বিশ্বাস। প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ সম্মুখ সমরে তাঁদের অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করেন। জীবন বাজি রেখে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলার মা-বোনের সহযোগিতার কথা তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণে জেলাবাসীকে আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নজির আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজালুল হক বিশ্বাস। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য দেন অরিন্দমের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সৈকত, অধ্যক্ষ শাজাহান আলী বিশ্বাস, ইদ্রিস মণ্ডল প্রমুখ। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে সরচিত কবিতা পাঠ করেন আনছার আলী, ইদ্রিস মন্ডল, ডা. তোফাজ্জেল হোসেন, সুমন ইকবাল, নটরাজ হারুন, জুবায়ের হাসান ও আশিকুজ্জামান আসাদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংলাপের সাধারণ সম্পাদক আহসান খান, সদস্য শাহীন, অরিন্দমের সদস্য ইয়াকুব জোয়ার্দ্দার সুমন, আহাদ আলী মোল্লা, রিচার্ড রহমান, গোলাম কবির মুকুল, কাজল মাহমুদ, হোসেন মো. ফারুক, হোসেন জাকির প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আনছার আলী।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।