চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৭ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বখাটের হামলায় খাদিজা বললেন আমি ভালো আছি

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৭, ২০১৬ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

42075_khadijaসমীকরণ ডেস্ক: সময়টা গত ৪ঠা অক্টোবর। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরই দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয় খাদিজা আক্তার নার্গিসকে। সম্পূর্ণ অচেতন। ছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এই অবস্থাতেই খাদিজাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। সিটি স্ক্যান করার পর জানা গেল তার ব্রেনের একটি অংশ থেঁতলানো। মাথার খুলি ভেদ করে ব্রেনে আঘাত করেছে হামলাকারীর ধারালো অস্ত্র। মাথার অন্যান্য অংশও গুরুতরভাবে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন, খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে তারা সন্দিহান। তবে সব চেষ্টাই করে যাবেন তাকে বাঁচিয়ে তুলতে। চিকিৎসকদের চেষ্টা আর দেশবাসীর প্রার্থনায় জীবন ফিরে পেয়েছেন খাদিজা। সুস্থ হয়ে উঠেছেন। খাদিজা নিজের মুখেই জানিয়েছেন ‘আমি ভালো আছি, সুস্থ আছি। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করেছেন। আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে আছি।’ গতকাল দুপুরে স্কয়ার হাসপাতালের কেবিন থেকে বের হয়ে মাথায় হিজাব ও চাদর পরে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন খাদিজা। এ সময় তার চিকিৎসক স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জারির কনসালট্যান্ট ডা. এ এম রেজাউস সাত্তার, মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের সহযোগী পরিচালক ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিনসহ অন্য চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে খাদিজা বলেন, চিকিৎসকসহ সকলের সহযোগিতায় আমি সুস্থ হতে পেরেছি। আপনারা দোয়া করবেন যেন আমি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারি।
স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজার চিকিৎসার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন জানান, একজন স্বাভাবিক মানুষের জিসিএস ১৫ থাকার কথা কিন্তু খাদিজার জিসিএস ছিল মাত্র ৫। শুরুতে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় খাদিজাকে। তাকে বাঁচানো অত্যন্ত কঠিন ছিল। ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। আইসিইউ থেকে নেয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। সেখানে নিউরো সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রেজাউস সাত্তারের নেতৃত্বে অপারেশন করা হয় খাদিজার। অত্যন্ত রিস্ক নিয়ে সেদিন তার মাথায় অপারেশন করা হয়। তারপরই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ধীরগতিতে তার উন্নতি হতে থাকে। ১৭ই অক্টোবর অর্থোপেডিক বিভাগের ডা. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তার ডান হাতে অপারেশন করা হয়। তখনও আশঙ্কামুক্ত ছিলেন না খাদিজা। তার ডানদিক অবশ ছিল। নাড়াতে পারতেন না ডান হাত ও ডান পা। এরমধ্যেই তার শ্বাসনালীতে ছোট একটি অপারেশন করা হয়। তখন চোখ খুলে তাকাতেন। কথা বলতেন। যদিও কথাগুলো ছিল অসংলগ্ন।
১৯শে অক্টোবর আইসিইউ থেকে তাকে স্থানান্তর করা হয় এইচডিইউতে। খাদিজার চিকিৎসার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা। গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েই আবারো মাথায় অপারেশন করা হয় খাদিজার। সিদ্ধান্ত অনুসারে ৭ই নভেম্বর অর্থোপেডিক ও নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা একসঙ্গে খাদিজার অপারেশন  করেন। ওই দিন তার মস্তিকে হাড় পুনঃস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ডান হাতে অপারেশন করেন তারা। পরদিন থেকেই দ্রুত উন্নতি হতে থাকে খাদিজার। ২৬শে অক্টোবর তাকে কেবিনে নেয়া হয়। তারপর থেকেই খাদিজা কথা বলতে থাকেন অনেকটা স্বাভাবিকভাবে। একইভাবে খাবার খেতে পারেন।
ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, খাদিজা এখন কারও সাহায্য ছাড়াই নিজে খেতে পারেন। যে কোনো লেখা পড়তে পারেন। ধরে ধরে হাঁটতে পারেন। নিজে ফোন থেকে কল দিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি এখন প্রায় সুস্থ। তাই তাকে ডিসচার্জ দেয়া দরকার। তবে সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য ভালো কোথাও রিহ্যাব ফিজিওথেরাপি দিতে হবে বলে জানান তিনি।
সূত্রমতে, ফিজিওথেরাপির জন্য খাদিজাকে সাভারের সিআরপিতে স্থানান্তর করা হবে। এ বিষয়ে খাদিজার পিতা মাসুক মিয়া জানান, আগামী সোমবার খাদিজাকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাবেন তারা। ওই দিনই সাভারের সিআরপিতে ভর্তি করা হবে। সেখানে কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তারপর সম্পূর্ণ সুস্থ খাদিজাকে নিয়েই বাড়ি ফিরতে চান মাসুক মিয়া।
গত ৩রা অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের হামলায় গুরুতর আহত হন খাদিজা আক্তার নার্গিস। তিনি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ঘটনার দিন পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।