চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফুটপাতেই ফেলা হচ্ছে মাস্ক, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা!

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ২৬, ২০২০ ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মেহেরাব্বিন সানভী:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য মানুষ যে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করছেন, সেটি ব্যবহারের পর রাস্তার ফুটপাতেই ফেলে দিচ্ছেন কেউ কেউ। যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার, কোর্ট রোড, পুরাতন হাসাতাল রোড, কলেজ, শহীদ আবুল কাশেম সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বা রাস্তার পাশে ও ফুটপাতে ছড়ানো ছিটানো রয়েছে শত শত ব্যবহৃত মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস। যা পথচারী বা সাধারণ মানুষের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
করোনা মোকাবিলায় জনগণকে নিরাপদে রাখার জন্য সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। তেমন কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের না হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম দিকে মাস্ক, স্যানিটাইজেশনসহ অনেক জিনিসের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় অসাধু চক্র। প্রশাসনের তদারকিতে এখন তা নিয়ন্ত্রণে। মূল্য ফের নাগালের মধ্যে আসায় নগরবাসী ঘর থেকে বের হলে ব্যবহার করছেন সুরক্ষাসামগ্রী। অন্যদিকে শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এসব মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস বিতরণ করছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলো।
করোনাভাইরাস সামাল দিতে যেখানে বিশ্বের অনেক দেশ নিরুপায়, সেখানে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি অনেকটা ভালো। তারপরও নিরাপদে ও সর্তক থাকার কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে অনেকে ব্যবহার করছেন মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস। কিন্তু ব্যবহার নিশ্চিত হলেও নিশ্চিত হচ্ছে না ব্যবহৃত এসব সামগ্রীর নিরাপদ নিষ্পত্তি। মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভসসহ অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের পর তা সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থানে বা ময়লার ঝুঁড়িতে না ফেলে রাস্তায় ফেলে যাচ্ছেন অনেকেই। যা থেকে সংক্রমণ হওয়া ঝুঁকি রয়েছে। কারণ এক শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষ পেটের তাগিদে এখনো রাস্তায় অবস্থান করছেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। অসচেতনভাবে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ফেলে রাখার প্রবণতা ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে।
রিকশাচালক কালাম মিয়া। তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরে রিকশা চালান। তাঁর মাস্কটি ছিড়ে গেলে রাস্তায় ফেলে চলে যাচ্ছিলেন। তাঁকে ডেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামা ছিড়ে গেছে তাই ফেলে দিলাম। এটা তো আর কোনো কাজে লাগবে না।’ কিন্তু এটার ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই।
পথচারী নাজিম হোসেন বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য যেসব জিনিস ব্যবহার করা হয়, এসবের অনেক কিছুই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায়। যারা এসব ফেলছেন, তাঁরা কেউ জানে না, এগুলোর মাধ্যমে অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। এটা আমাদের জন্য খুবই ঝুঁকি।’
মাস্ক ব্যবহারের খুঁটিনাটি:
করোনার সংক্রমণ রোধ করতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। হাত ধোয়াও জরুরি। এই দুটি বিষয় মেনে চললে প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাস রোধ করা যায়। তবে মাস্ক ব্যবহার করলেই হবে না। জানতে হবে মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম, কীভাবে খুলবেন এবং কীভাবে জীবাণু মুক্ত করবেন।
মাস্ক পরার নিয়ম:
মাস্ক পরার আগে সাবান দিয়ে মুখ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে ভালো করে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিতে হবে। হাত ও মুখ শুকানোর পর মাস্ক পরবেন। মাস্ক পরার সময় দেখে নেবেন নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকেছে কি না। মাস্ক মুখে এমনভাবে সেট করুন, যাতে কোনো ফাঁক না থাকে। নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে থাকবে এমন মাস্ক ব্যবহার করবেন। মাস্ক পরে বাইরে বেরোনোর পর মাস্কের সামনে হাত দেবেন না। মাস্ক ভিজে গেলে ব্যবহার করবেন না। কারণ, ভেজা মাস্কে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মাস্ক খোলার নিয়ম:
মাস্ক কখনোই সামনের দিকে ধরে টেনে খুলবেন না। মাস্কের ইলাস্টিক ব্যান্ড পেছন থেকে টেনে খুলুন। সার্জিক্যাল মাস্ক খোলার সময় প্রথমে পেছন দিক থেকে নিচের দড়িটি খুলবেন, এরপর ওপরের দড়িটি আলগাভাবে মুখ থেকে খুলে নিন। খেয়াল রাখবেন দেহের কোনো অংশে যাতে মাস্ক স্পর্শ না করে। এরপর ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দিন। এন-৯৫ মাস্ক তিন স্তরযুক্ত। সুতি বা টেরিলিন কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারের পর ধুতে চাইলে খুলে সাবান পানিতে ডুবিয়ে দিন। মাস্ক খুলে নেওয়ার পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে নেবেন।
পরিষ্কার করার নিয়ম:
মাস্ক মুখ থেকে নিয়ম মেনে খোলার পর সাবান পানি বা ফুটন্ত গরম পানিতে ডুবিয়ে দিন। ১৫ মিনিট পর মাস্কটি তুলে পরিষ্কার করে নিন। কড়া রোদে শুকান। শুকিয়ে গেলে পরার আগে পাঁচ মিনিট ধরে ইস্ত্রি করুন। ইস্ত্রি হয়ে যাওয়ার পর একই নিয়ম মেনে মাস্কটি ব্যবহার করুন।
কখন মাস্ক ব্যবহার করবেন:
যারা অসুস্থ, সর্দি-কাশিতে ভোগেন, তাঁদের বাড়িতেও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। যদি হাঁচি বা কাঁশির লক্ষণ দেখা দেয়, তবে মাস্ক ব্যবহার করুন। কারণ, নাক ও মুখ থেকে বেরোনো লালারসের ফোঁটাতেই ভাইরাস থাকতে পারে। বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করুন। অসুস্থ ব্যক্তির কাছে যাওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করুন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।