চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৫ ডিসেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফিদেল ক্যাস্ত্রোর ইচ্ছানুযায়ী নামে সৌধ স্মারক কিছুই হবে না

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ৫, ২০১৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

TwitteroffersopposingtributesuponFidelCastrosdeath.doc

সমীকরণ ডেস্ক: বিপ্লবের প্রবাদপুরুষ ফিদেল ক্যাস্ত্রোকে চিরবিদায় জানালো কিউবা। গত সপ্তাহে ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন দেশটির সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। হাজার হাজার কিউবানদের উদ্দেশ্যে তার ছোট ভাই রাউল ক্যাস্ত্রো ঘোষণা দিলেন ফিদেলের সমাজতন্ত্রী লিগ্যাসি সমুন্নত রাখার। তিনি বলেছেন, ফিদেলের ইচ্ছানুযায়ী তার নামে কোন মূর্তি, সৌধ, স্মৃতিস্মারক নির্মিত হবে না। তার নামে কখনও কোনো সড়ক বা স্থাপনার নাম রাখা হবে না। জীবিত থাকতেও ফিদেল এই ব্যক্তিপূজা পছন্দ করতেন না। তাই তার নামে কোনো কিছুর নামকরণ আইন করে নিষিদ্ধ করা হবে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। খবরে বলা হয়, যে শহর থেকে শুরু হয়েছিল কিউবান বিপ্লব, ঠিক সেখানেই সমাহিত করা হবে তাকে। শনিবার রাতে হাজারো মানুষের সমাবেশে যখন রাউল বক্তব্য রাখছিলেন, তখন ‘আমিই ফিদেল’ স্লোগানে মুখরিত হচ্ছিল চারপাশ। সান্তিয়াগোর লোকে লোকারণ্য সেন্ট্রাল প্লাজায় রাউল বলেন, ‘হ্যাঁ, কিউবায় সমাজতন্ত্র স্থাপনের পথে আমরা যেকোনো বাধা, সংঘাত ও হুমকি ভেঙে এগিয়ে যাবো।’ ক্যাস্ত্রোর দেহভষ্ম রাখা হবে কিউবার স্বাধীনতার নায়ক জোস মার্তির সমাধির পাশে। স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাতটায় এ কাজ সম্পন্নের মাধ্যমে শেষ হবে কিউবার ৯ দিনের জাতীয় শোক কর্মসূচি। শনিবারের সমাবেশে রাউল ক্যাস্ত্রোর পাশে ছিলেন বামপন্থি দেশগুলোর প্রতিনিধি ও কিউবার অন্যান্য নেতারা। এভাবেই কিউবা বিদায় জানালো ‘এল কমান্দান্তে’ (দ্য কমান্ডার) বা ‘ফিদেল’কে। এর আগে রাজধানী হাভানায় দুই দিনের অনুষ্ঠান শেষে তার দেহাবশেষ নিয়ে যাওয়া হয় ৮০০ কিলোমিটার দূরের শহর সান্তিয়াগোতে। এ শহরেই মার্কিন সমর্থিত একনায়ক ফুল্গেন্সিও বাতিস্তার সরকারকে হটায় ফিদেলের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা।   নিজের ভাষণে রাউল ক্যাস্ত্রো বলেন, ‘লাখো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে।’ ক্যাস্ত্রোর দেহাবশেষ সমেত গাড়ির সারিকে অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। অনেকে ক্যাস্ত্রোর সম্মানে নিজেদের উদ্যোগে ব্রিজ ও ঘর নতুন রঙে রাঙিয়েছে। ক্যাস্ত্রোর উক্তি সংবলিত বহু বিলবোর্ড দেশজুড়ে আছে। তার পোট্রেট ছবি বহু সরকারি ভবন ও বাড়িঘরে ঝুলছে। কিন্তু বিভিন্ন মূর্তি বা সরকারি স্থান ও স্থাপনা ক্যাস্ত্রোর নামে নামাঙ্কিত করে তার ভাবমূর্তি অমর করা হবে না বলে জানান রাউল। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে ফিদেল ক্যাস্ত্রো আমাকে বিশেষভাবে বলে দিয়েছেন যাতে তার কোনো মূর্তি দেশে তৈরি না হয়।’ রাউল আরও বলেছেন, তার ভাই ব্যক্তিপূজায় বিশ্বাস করতেন না। আর তাই ফিদেলের ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে তার নামে কোনো কিছুর নামকরণ না করার বিষয়টি আইন করে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। ১৯৫৩ সালে রাউলকে নিয়েই বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন ফিদেল। সান্তিয়াগো শহরের পূর্বে মনকাদা ব্যারাকে তাদের ব্যর্থ আক্রমণ দিয়ে সব কিছুর শুরু। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরে তিনি সোভিয়েত-সমর্থনপুষ্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পাশাপাশি আমেরিকার বহু হত্যা ও অভ্যুত্থান চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি অর্ধশতাব্দী শাসন করে গেছেন। তার সমর্থক ও সমাজকর্মী অ্যালভিন বেইলি বলেন, ‘তিনি ওই সাম্রাজ্যকে পরাজিত করেছেন। নিজের দেশকে রক্ষা করেছেন। আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া ও চিলি- সব মানুষ জানে তিনি একটি জিনিসের জন্যই লড়েছিলেন।’ গত দুই দশকে ক্যাস্ত্রোর আদর্শে প্রভাবিত বহু বামপন্থি সরকার লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ক্ষমতায় আসে। যদিও এদের কেউ কেউ এখন ক্ষমতায় নেই। ক্যাস্ত্রোর জন্য আয়োজিত শোক সমাবেশে এদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে আছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মরালেস। ব্রাজিলের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট লু ইনাসিও লুলা ডি সিলভা ও সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ ছিলেন ক্যাস্ত্রোর শিষ্য ও ভক্ত। তেল সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলা চ্যাভেজের আমলে মার্কিন অবরোধে আক্রান্ত কিউবার অর্থনীতি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পাশাপাশি ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা ব্রাজিলের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা ছিলেন ক্যাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।