চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২০ ডিসেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফলোআপ : চুয়াডাঙ্গার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোমিনসহ ৩ সদস্য চাঁদা আনতে গিয়ে জনতার হাতে পাকড়াও গ্রীন হাউজ ও রেড হাউজের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পারলেই উদ্ধার হবে প্রদর্শিত অস্ত্র

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২০, ২০১৬ ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

15578953_161909254288014_8330263276966113765_n

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী একধিক হত্যা, চাঁদাবাজি, বোমাবাজী মামলার প্রধান আসামী ছয়ঘরি গ্রামে অবস্থিত গ্রীন হাউজের প্রধান মোমিনসহ ৩ জনকে আটক করে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে কালোপোল গ্রামবাসী। বাহিনী প্রধান গ্রেফতার হওয়ায় গ্রীন হাউজের অস্ত্রভা-ার রয়েছে হিজলগাড়ী বাজারের রেড হাউজের তত্বাবধানে। ঘটনার পর থেকে গ্রীন হাউজের বাকি সদস্য এবং বাহিনীর মদদাতারা দিয়েছে গাঢাকা। এদিকে মোমিন গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছে ভুক্তভোগিরা। এলাকাবসীর দাবি গ্রীন হাউজ এবং রেড হাউজের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পারলেই উদ্ধার হবে প্রদর্শিত অস্ত্র এলাকায় ফিরে আসবে স্বস্তি।
পুলিশ ও এলাকা সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের কালোপোল গ্রামের বরকত আলীর নিকট ১৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে আসছিলো শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের আনিছ উদ্দিনের ছেলে গ্রীন হাউজ বাহিনীর প্রধান মোমিনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বরকত আলী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে খুন করার হুমকি দিতে থাকে চাঁদাবাজরা। প্রান ভয়ে বরকত টাকা দিতে রাজি হলে গত পরশু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রকাশ্যে চাঁদার টাকা আনতে যায় এলাকার মুর্তিমান আতঙ্ক শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি, বোমাবাজী মামলার প্রধান আসামী মোমিন ও তার সহযোগি একই ইউনিয়নের বহালগাছী গ্রামের ল্যাংড়া মানিক ও আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের জাহিদুলের ছেলে টিটু। বিষয়টি দ্রুত গ্রামবাসী জানতে পেরে মুহুর্তেই সুসংগঠিত হয়ে তাদের আটক করে গনধোলাই দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নিয়ে যায়।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তোজাম্মেল হক জানান, মোমিন নিজেই এলাকায় নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে হত্যা, চাঁদাবাজী, বোমাবাজী, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেখানোর মাধ্যমে রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছিলো। সে ছয়ঘরিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামী। একটি সূত্র জানিয়েছে, সেদিন সিরাজ মেম্বরকে হত্যা করে আসামীরা হিজলগাড়ী বাজারে রেড হাউজে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সে সময় বাহিনী প্রধান মমিনসহ হত্যাকারীরা হিজলগাড়ী বাজারের জনৈক ভুষিমাল ব্যবসায়ির বাড়ীতে বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে থাকে। হিজলগাড়ী বাজারে পুলিশ তদন্তে যেমন জানতে পারবে রেড হাউজ বাহিনী সম্পর্কে তেমনি উদ্ধার করতে পারবে গ্রীন হাউজের অস্ত্রের ভান্ডার। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছেন, মোমিন বেশ কয়েক বছর যাবত নিজ গ্রাম ছয়ঘরিয়া, বহালগাছী, সরোজগঞ্জ, বড়শলুয়া, বলদিয়া এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার জন্য নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলার পাশাপাশি হিজলগাড়ী বাজার এলাকায় গড়ে তোলে রেড হাউজ। সেখানে সংগ্রহ করতে থাকে সদস্য। এদিকে প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের নিকট এমনি তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে গ্রীন হাউজ এবং রেড হাউজের সদস্য এবং মদদাতার দিয়েছে গাঢাকা। এ ঘটনায় বরকত বাদী হয়ে ৪জনসহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করেছেন চাঁদাবাজি মামলা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।