চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৩ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফজিলতের মাস সফর

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ৩, ২০১৬ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ধর্ম ডেস্ক: ইসলামপূর্ব আরবে সফর মাসকে অশুভ বলে মনে করা হতো। কিন্তু ইসলাম এ কথা প্রমাণ করেছে যে, কোনো মাস শুভ বা অশুভ হতে পারে না। দিন-মাস-বছর সবই আল্লাহ তায়ালার দান। আল্লাহ কোনো দিন বা মাসকে করেছেন একটু বেশি ফজিলতপূর্ণ, আবার কোনো মাস বা দিনকে ততটা ফজিলতপূর্ণ করেননি। সে হিসেবে সফর মাসেও এমন কিছু উপলক্ষ আছে যার কারণে এই মাসটিকে ফজিলতের মাস হিসেবেই গণ্য করা যায়। মূলত এক হাদিসে পাওয়া যায়, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে সফর মাস শেষ হওয়ার সুসংবাদ দেবে, আমি তাকে জান্নাতের খোশখবর দেব।’ রাসুল (সা.) একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন। একবার আবু বকর (রা.) ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দূরের এক জনপদে সফরে গেলেন। দীর্ঘ সময় চলে গেলেও তিনি ফিরে এলেন না। এদিকে তার কোনো চিঠি বা সংবাদও আসছে না। তখন প্রিয় সাহাবির জন্য রাসুল (সা.) চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় একটি চিঠি এলো, তাতে লেখা, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমি সফর মাস শেষে মদিনায় ফিরব। কিন্তু তখনো সফর মাসের বেশ সময় বাকি, তাই রাসুল (সা.) আবু বকরের জন্য অস্থির হয়ে ওই হাদিসটি বলেছিলেন। সফর মাসকে দুঃখের মাস মনে করা। এ মাসকে অশুভ মনে করে চাঁদ না দেখা, ১৩ তারিখে শিরনি-হালুয়া বিতরণ এসবই কুসংস্কার। এর দ্বারা সওয়াব তো হবেই না উপরন্তু গুনাহ হবে। এই মাসের শেষ বুধবারকে বলা হয় আখেরি চাহার শম্বা। রাসুল (সা.) সফর মাসের শেষে অসুস্থ ছিলেন এবং শেষ বুধবার তিনি অনেকটাই সুস্থ হন। তাই এই খুশিতে অনেক সাহাবি বিভিন্নভাবে দান-সদকা করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে উত্তম কাজ। কিন্তু এমন কোনো হাদিস নেই বা সাহাবা কেরামের আমল নেই যে তারা প্রতি বছর এই খুশির দিন উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর দান-সদকা করেছেন। প্রতি মাসের মতো এ মাসেরও ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোজা রাখলে বিশেষ সওয়াবের আশা করা যায়। সবচেয়ে বড় হলো এই মাসকে কেন্দ্র করে যে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা প্রচলিত এর মূলোৎপাটন করাই হলো এই মাসের পবিত্রতা রক্ষার অন্যতম মাধ্যম।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।