চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২০ জুলাই ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রয়োজন ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ ও সচেতনতা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ২০, ২০১৭ ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ ন চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হতে পারে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে সেই মশাও রোগ ছড়ানোর বাহক হিসেবে কাজ করছে।
চিকুনগুনিয়া মশাবাহিত একটি ভাইরাসের নাম। ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস বহনকারী মশাই (এডিস) চিকুনগুনিয়া ভাইরাস বহন করে। এ রোগের লক্ষণ হচ্ছে প্রথমদিন থেকেই অনেক বেশি তাপমাত্রায় জ্বর হওয়া। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে এবং ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি কিংবা তারও বেশি তাপমাত্রা হতে পারে। সঙ্গে অসহনীয় মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব হতে পারে। শরীরের গিটে গিটে ব্যথা হয়। জ্বর ২ থেকে ৩ দিনের ভেতর কমে গেলেও এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত শরীরে ও জয়েন্টে ব্যথা থাকতে পারে। চিকুনগুনিয়া রোগের কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই প্রতিকারের আগে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। সেজন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। যেহেতু এডিস মশার কারণে এ রোগ ছড়ায়, তাই মশা যাতে কামড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  জরুরি ভিত্তিতে মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এই রোগের নির্দিষ্ট প্রতিকার নেই। লক্ষণ দেখে চিকিৎসা ঠিক করা হয়। বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি অনেকের বাসাবাড়ির ছাদে বা বারান্দার টবে জমে থাকে। আর এসব স্থানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা ডিম পাড়ে। এছাড়া কোনো পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম ছাড়ে এ মশা। তাই সবার খেয়াল রাখা প্রয়োজন এ মশা যেন ডিম পাড়ার সুযোগ না পায়। ঘরের বারান্দা, আঙিনা বা ছাদ পরিষ্কার রাখতে হবে। তিন দিনের বেশি যেন পানি জমে না থাকে সে দিকে নজর রাখতে হবে। এসি বা ফ্রিজের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে। সাধারণতঃ এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই দিনে কেউ ঘুমালে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশা মারার জন্য স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশু-কিশোরদের হাফপ্যান্টের পরিবর্তে ফুলপ্যান্ট পরাতে হবে। আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশনকে মশার ওষুধ ছিটাতে হবে। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে মশক নিধনে আরো সক্রিয় হতে হবে যাতে এডিস মশার সংখ্যা বৃদ্ধি না পায়। এ মশার বংশবিস্তার এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।