চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২০ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিত তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জানুয়ারি ২০, ২০২২ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুট করে নেওয়া চক্রের মূলহোতা রেখা নামে এক নারীকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে সদর থানার পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়া থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারা গ্রামের আমজেদের মেয়ে রেখা খাতুন (৩০) ও পৌর কলেজ পাড়ার সুরত আলীর ছেলে আলীহিম (২১)। এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিরা হলেন- ইসলামপাড়ার আশাদুল মল্লিকের ছেলে শেফাত মল্লিক (২২) ও বাগান পাড়ার মারুফ মিয়া (২২)।

জানা যায়, রেখার এই চক্রে আরও কয়েকজন পুরুষ সদস্য রয়েছে। রেখা প্রথমে মধ্যবয়সী সহজ-সরল লোকদের টার্গেট করতো। পরে তাদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বাড়িতে ডেকে নেওয়াই ছিল তার প্রথম কাজ। বাড়িতে কেউ আসলে চক্রের পুরুষ সদস্যরা তাকে মারধর করে মোবাইলে নগ্ন ভিডিও রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কাছে থাকা টাক-পয়সা হাতিয়ে নিতো। আশানুরূপ টাকা-পয়সা না পেলে তাদেরকে আটকে রেখে মুক্তিপণও আদায় করতো চক্রটি।

একইভাবে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ায় রেখা খাতুনের ভাড়া বাসায় ষাটোর্ধ্ব কাশেম আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে তাঁর কাছে থাকা ৩ হাজার টাকা কেড়ে নেয় চক্রটি। পরে তাঁকে আটকে রেখে আরও ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি কাশেম তার পরিবারকে জানালে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারকদের ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকা পেয়ে কাশেম আলীকে ছেড়ে দেয় প্রতারক চক্রটি।

এ ঘটনায় কাশেম আলী বাদী হয়ে রেখা খাতুনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানার অভিযোগ দায়ের করেন। পরে সদর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে রেখা খাতুন ও তাঁর এক সহযোগী আলীহিমকে আটক করে।

কাশেম আলীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বে থেকে রেখার সাথে পরিচয় ছিল কাশেমের। রেখা পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে প্রায়ই কাশেমের গ্রামে যাওয়া-আসা করতো সে। রেখা তাকে নানা বলে ডাকতেন। গত মঙ্গলবার দুপরে কিছু মালামাল কেনার জন্য চুয়াডাঙ্গাতে আসেন তিনি। সদর হাসপাতালের সামনে রেখার সাথে তার দেখা হয়। জরুরি কাজ আছে বলে রেখা তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। একটি ঘরে বসে রেখা আর কাশেম কথা বলছিল, এমন সময় ৪-৫ জন এসে তাকে মারধর করে কাছে থাকা কিছু টাকা কেড়ে নেয়। এছাড়াও তাকে আটকে রেখে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ২৫ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারা গ্রামের আমজেদ হোসেনের মেয়ে রেখা খাতুন একজন প্রতারক। তিনি প্রতারণার জন্য প্রেমের ফাঁদ পাতেন। তিনি আরও বলেন, ওই চক্রের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েই বিষয়টি পুলিশকে জানান কাশেম আলী। বিষয়টি জানার পরপরই অভিযান চালিয়ে এক সহযোগী আলীহিমসহ রেখাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন পালিয়ে যায়। তাদেরও আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।