চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রায় পূর্ণ প্যানেলসহ নঈম জোয়ার্দ্দার ফের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১, ২০২০ ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন অনুষ্ঠিত
মেহেরাব্বিন সানভী:
চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে পুনরায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। তাঁর নের্তৃত্বাধীন ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ প্রায় পূর্ণ প্যানেলসহ বিজয় হয়েছে। গতকাল বুধবার শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিরতিহীনভাবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা অফিসার্স ক্লাবে গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১১৭ জন ভোটারের মধ্যে ১১৬ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ নির্বাচনে নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার পুনরায় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। সহসভপতি পদে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের হাজি ইয়াকুব হোসেন মালিক, সোহেল আকরাম, অধ্যক্ষ মাহাবুল ইসলাম সেলিম ও আব্দুল লতিফ খান যুবরাজ নির্বাচিত হয়েছেন। অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘ক্রীড়াঙ্গণ বাঁচাও’ পরিষদের মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের আব্দুস সালাম, সালাউদ্দিন বিশ্বাস মিলন ও টুটল মোল্লা।
বুধবার সকাল ৮টায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন এবং রির্টানিং অফিসার ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আমজাদ হোসেনের নের্তৃত্বে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অর্ধশত পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ সদস্যদের নের্তৃত্বে ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস। দফায় দফায় পরিদের্শনে আসেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা বিভাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা। সকাল আটটা থেকেই নির্বাচন স্থলে ছিল উৎসবমূখর পরিবেশ। অফিসার্স ক্লাবের ভেতর ভোট কেন্দ্রে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ হোসেন দায়িত্বে ছিলেন প্রিজাইডিং অফিসারের। একই সঙ্গে পুরো সময়টাই চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান ছিলেন গুরুত্ব দায়িত্বে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আমজাদ হোসেন পুরো ভোটে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একবারের জন্যও ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেননি। তিনি ভোটের ফলাফল প্রদান পর্যন্ত কেন্দ্রেই অবস্থান করেছেন। ভোট গ্রহণের শুরু থেকেই নির্বাচন স্থল তথা পুরো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর ছিল উৎসবমূখর। মাত্র ১১৭টি ভোটারের নির্বাচনে ভোটারসহ সমর্থকদের পদচারণা ছিল দেখার মতো। ঠিক দুপুর বেলা নির্বাচন স্থলে ভোট প্রদান করতে আসেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। একে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদাধিকারবলে প্রাপ্ত তাঁদের ভোট প্রয়োগ করেন। একইসঙ্গে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান জীবনের প্রথম ভোট প্রদানের আনন্দ উপভোট করেন।
তিনি জানান, চাকরিসূত্রে তিনি এর আগে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পুরো ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়াটি পরিদর্শন করেন। এদিকে, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। ভেতরের পরিবেশ ছিল জাতীয় নির্বাচনের আদলে। দুটি বুথ আর পদ অনুযায়ী ব্যালট বক্স। একসঙ্গে কেন্দ্রের ভেতর কেবলমাত্র দুইজন ভোটারই প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছিলেন। অতিরিক্ত ভোটার প্রবেশ করলে পাশের ওয়েটিং রুমে বসার এমনকি চা খাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। ভেতরে দুটি প্যানেলের দুইজন করে পোলিং এজেন্ট এবং নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দুইজন করে পোলিং অফিসার দায়িত্বে ছিলেন। যারা জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে ভোটার তালিকায় থাকা নাম, পরিচয় ও ছবি মিলিয়ে ব্যালট পেপার ও হাতে অমোচনীয় কালী দিচ্ছিলেন। ভোটররা বুথের ভেতর থেকে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নির্ধারিত ব্যালট বক্সে পেপারগুলি ফেলছিল।
এদিকে, ভোট কেন্দ্রের প্রবেশপথ তথা অফিসার্স ক্লাবে গেটে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপপরিদর্শক ভবতোষ রায় ও মেফফাউল হাসানের নের্তৃত্বে একটি চৌকস টিম দায়িত্বে ছিলেন। ভোটার টোকেন ছাড়া তারা কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। অপর দিকে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ভেতরের বিভিন্ন কোনে, প্রধান ফটকে, প্রধান ফটকের বাইরে, কোর্ট রোডে, ডিসি সাহিত্য মঞ্চের দিকে, জেলা জজ আদালতের উকিল বারের সামনেসহ পুরো এলাকাজুড়েই ছিল পুলিশ বিভাগের অফিসার-ফোর্স ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। বেলা দুইটার কাছাকাছি সময়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোট প্রদান করেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। এর ঠিক পরেই ভোট কেন্দ্রে আসেন সাবেক মেয়র ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। পরে বেলা আড়াইটার দিকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু। এর কিছু পরেই ভোট দেন ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাও পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম লাড্ডু। পুরো দিনে মাত্র একজন বাদে ১১৭ জন ভোটারের মধ্যে ১১৬ জন ভোটারই পর্যায়ক্রমে ভোট প্রদান করেন।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন এবং রিটার্নিং অফিসার ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আমজাদ হোসেন নির্বাচনের ফলাফল প্রদান করেন। অফিসার্স ক্লাবের দেওয়ালে অস্থায়ী ফলাফল টাঙিয়ে দিলে নির্বাচিত প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন রঙ মেখে তারা আনন্দ করে। এ সময় একটি আনন্দ শোভাযাত্রাও বের হয়। যা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে। শোভাযাত্রায় নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। ফলাফলে আগামী চার বছরের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের প্রার্থী ও গত কমিটির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার ৭৯ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাও পরিষদের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম লাড্ডু পেয়েছেন ৩৭ ভোট। সহসভাপতি পদে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের আব্দুল লতিফ খান যুবরাজ ৭৬, হাজি ইয়াকুব হোসেন মালিক ৭৪, সোহেল আকরাম ৭২ এবং অধ্যক্ষ মাহবুল ইসলাম সেলিম ৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই পদে ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাও পরিষদের এ নাসির জোয়ার্দ্দার ৩৭, ওবায়দুল হক জোয়ার্দ্দার ৪১, সরোয়ার হোসেন মধু ৪৪ এবং হুমায়ুন কবির মালিক ৪৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাও পরিষদের মোহাইমেন হোসান জোয়ার্দ্দার অনিক ৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের হাফিজুর রহমান হাপু পেয়েছেন ৫৬ ভোট। যুগ্ম সম্পাদক পদে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের আব্দুস সালাম ৭৪ ও সালাউদ্দিন বিশ্বাস মিলন ৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই পদে ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাও পরিষদের সামসুদ্দোহা মল্লিক হাসু পেয়েছেন ৫১ ভোট ও বদর উদ্দিন খান পেয়েছেন ৪১ ভোট পেয়ে পরাজয় বরণ করেছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের টুটুল মোল্লা ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাও পরিষদের ফজলুল হক মালিক লোটন পেয়েছেন ৪০ ভোট। এদিকে, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সংরক্ষিত সদস্য পদে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের (আলমডাঙ্গা ক্রীড়া সংস্থার) খোন্দকার জিহাদ-ই-জুলফিকার টুটুল ৭৫ ও ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাও পরিষদের নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার ৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। একই পদে পরাজিত হয়েছেন এম নুরুন্নবী, তিনি পেয়েছেন ৪৬ ভোট।
নির্বাহী সদস্য পদে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের শফিকুল ইসলাম মালেক ৭৩, শিমুল হোসেন ৭২, দেলোয়ার হোসেন দিলু ৭১, মোমিন খান ৭১, মহাসিন রেজা ৭০, আজাদ আলী ৬৯, তছলিম উদ্দিন ৬৯, শেখ রাসেল ৬৮, এখলাস উদ্দীন ৬৭, রোকনুজ্জামান ৬৭, রাশিদুল ইসলাম ৬৭, রায়হান উদ্দীন ৬২, সাজ্জাদ হোসেন ৫৯ ও শাহীন কাদির ৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইমরান হোসেন ৫১, শহিদুল কদর জোয়ার্দ্দার ৫০, হাফিজুল ইসলাম লাল্টু ৪৯, হাসানুজ্জামান ৪৬, মোছা. শাহাজাদী ৪৪, রকিবুল ইসলাম ৪৩, রুবাইত বিন আজাদ ৪৩, সালাউদ্দীন মো. মর্তুজা ৪৩, হামিদুর রহমান সন্টু ৪২, সাইদুর রহমান মালিক ৩৯, মেহেরুল্লাহ মিলু ৩৭, সাহাবুল হোসেন ৩৪, সাইদুর রহমান ৩৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন নুরুন্নাহার কাকলী ও সেলিনা খাতুন।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।