চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৩ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাথমিকে ইন্টারনেট : শিশুদের বিপথগামিতার আশঙ্কা

৪১ হাজার স্কুলে সংযোগ দিচ্ছে গ্রামীণফোন
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২৩, ২০২২ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই যেখানে ইন্টারনেটের সংযোগ পাচ্ছেন না সেখানে প্রাথমিকের কোমলমতি শিশুদের ইন্টারনেটের সংযোগ ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত সোমবার রাতে এক অনুষ্ঠানে বেসরকারি মোবাইলফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন দেশের ৪১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে। ইতোমধ্যে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটাকে শুধু সরকারের অর্থব্যয় আর কোমলমতি শিশুদের মেধা মননকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।
সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সেবা চালু করা হবে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবা শিক্ষা সেক্টরে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এর মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে পাঠদান বিষয়ে যোগাযোগ বাড়বে। ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠ্যবই ও অন্যান্য বই পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার জন্য বরাদ্দকে সরকার ব্যয় মনে করে না, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ মনে করে। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশকে সম্পদে ও সুনামে ভরিয়ে দেবে। আর প্রাথমিক শিক্ষা যেহেতু জাতির ভিত নির্মাণ করে, তাই মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বর্তমান সরকার সব কিছু করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ইন্টারনেটসেবার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মননশীলতা বৃদ্ধি পাবে। ক্রমান্বয়ে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সেবা চালু করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন- গ্রামীণফোন লিমিটেডের সিইও ইয়াছির আজমান ও সিবিও মো: নাসার ইউসুফ, অধিদফতরের পরিচালক বদিয়ার রহমান প্রমুখ।
যদিও শিক্ষাবিদরা মনে করেন দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এখন অতি প্রয়োজনীয় একটি অনুষঙ্গ। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য ইন্টারনেট সেই তুলনায় এখনো অতি জরুরি পর্যায়ে পড়ে না। বিনা খরচে এই সংযোগ পাওয়ার কথা বলা হলেও কোনো কিছু বিনা খরচে হবে না। কাউকে না কাউকে তো এই খরচ পে করতেই হবে। তাই আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে কোন প্রয়োজনটি বেশি জরুরি। সেই হিসাব করেই প্রয়োজনের জোগান দিতে হবে। দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এটা অনস্বীকার্য যে আমাদের কোমলমতি শিশুদের ইন্টারনেট সেবা এখনো পড়াশোনা বা মেধাকে বিকশিত নয় বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা আমাদের জন্য হুমকিও হতে পারে।
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রত্যেক জিনিসেরই ক্ষেত্র অনুযায়ী তার প্রয়োগ বা ব্যবহার দেখতে হবে। আমাদের দেশের অধিকাংশ কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই যেখানে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগের জন্য আন্দোলন করছে, দাবি জানাচ্ছে সেখানে যাদের আগে প্রয়োজন তাদের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ কতটা জরুরি সেটা অবশ্যই বিজ্ঞজনেরা ভেবে দেখবেন। তবে আমার বিবেচনায় আগে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তারপর অন্যদের জন্য সেটা বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দিয়ে শিশুদের মেধাকে বিকশিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের আরো পাঁচবার ভেবে দেখতে হবে যাতে করে এই ফ্রি ইন্টারনেট আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাহীনতার দিকে ধাবিত না করে।
অন্য দিকে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের নেতারা মনে করেন, বর্তমান এই বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেট প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্যই একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। কিন্তু এখন দেখতে হবে এটা কাদের জন্য আগে জরুরি। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই এখনো প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। বিগত করোনা মহামারীর সময়েও দেখা গেছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য রেডিও-টিভিতে ক্লাস পরিচালনা করা হয়েছে।
ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শুধু প্রাথমিকেরই নয়, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অভিভাবকও তাদের সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস সরবরাহ করতে পারেননি। এখন দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য যদি ফ্রি ইন্টারনেট সরবরাহ করা হয় তাহলে প্রথমে এর ব্যবহার যেন পড়াশোনাকেন্দ্রিক হয়। খেয়াল রাখতে হবে ইন্টারনেটের ব্যবহার যেন কোনো মতেই মিসইউজ (অপব্যবহার) না হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।