প্রাক্তন স্বামীর ছুরিকাঘাতে নারী জখম

72

অভিযুক্ত বিজিবির সাবেক সদস্য মামুন পুলিশ হেফাজতে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্কের মধ্যে প্রকাশ্যে প্রাক্তন স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিমা আক্তার নামে (২৮) এক নারী গুরুতর জখম হয়েছেন। আহত ওই নারীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পার্কে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত মামুনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাঁকে সদর থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। আহত সীমা আক্তার ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি চুয়াডাঙ্গায় একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত। চাকরি সুবাদে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পলাশপাড়ার ভাড়া বাসায় বসবাস করেন তিনি। অভিযুক্ত মামুন বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।
নাম না প্রকাশের শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, গতকাল দুপুরে সীমা আক্তার ও মামুন বসেছিল। এসময় মামুন একটি ছুরি বের করে সীমার ওপর হামলা চালান। এতে ছুরির কোপটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সীমার মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। পরে অভিযুক্ত মামুন ছুরিটা মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলে পালাতে গেলে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধরে ফেলেন।
সীমা আক্তারের এক সহকর্মী বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি মামুনকে ডিভোর্স দেন সীমা আক্তার। এরপর থেকে মামুন প্রায়ই বিভিন্নভাবে সীমা আক্তারকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। গতকাল রাতে সীমা আক্তারের ভাড়া বাসায় গিয়েও হুমকি-ধামকি দেন। পরে সীমা আক্তার বিষয়টি বোঝার জন্য গতকাল মঙ্গলবার মামুনের ডাকে সাড়া দিয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ পার্কে যান। পরে মামুনের সাথে কথা বলতেই একটি ধারালো ছুরি দিয়ে সীমা আক্তারের ওপর হামলা চালান মামুন। এসময় সীমা আক্তার রক্তাক্ত জখম হন। পরে পার্কে উপস্থিত অন্যরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, সীমা আক্তারের অবস্থা শঙ্কামুক্ত। তাঁর বা দিকের মুখমণ্ডল ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। অসংখ্য সেলাই দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ভর্তি রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিজাদ খান বলেন, গতকাল দুপুরে পুলিশ পার্কের মধ্যে প্রাক্তন স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক নারী জখম হয়েছেন। পরে অভিযুক্ত মামুনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত বিজিবির সাবেক সদস্য ছিলেন। এই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামুনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।