প্রসঙ্গ: ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে সরকার

342

প্রসঙ্গ: ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়
পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে সরকার
ywywসমীকরণ ডেস্ক: ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে সংক্ষুব্ধ সরকার রায় পুনর্বিবেচনা বা রিভিউর আবেদন করবে। তবে তা কখন করা হবে, সে প্রশ্নে সরকার এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। তা ছাড়া আলাদাভাবে এক্সপাঞ্জ চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় আছে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রধান বিচারপতির অবসরে যাওয়া এবং তার আগে আদালতের কার্যদিবস নিয়েও হিসাব-নিকাশ করছেন। দেওয়ানি কার্যবিধিতে অবশ্য রায়দানকারী বিচারকের কাছেই রিভিউর আবেদন করার বিধান আছে। আর রিভিউর আবেদন করার সময় হচ্ছে রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে।
যোগাযোগ করা হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের কাছে রিভিউর জন্য মূল রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে সরকারের দরখাস্ত করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু রিভিউ আবেদন কবে করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা রায় পরীক্ষা করে দেখছি।’ এক্সপাঞ্জের জন্য আলাদা দরখাস্ত, নাকি রিভিউর দরখাস্তের মধ্যেই এক্সপাঞ্জ চাওয়া হবে, এর উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি এ বিষয়ে আর যত প্রশ্নই করুন, রায় পরীক্ষা করে দেখা চলমান রয়েছে, এর বাইরে এ মুহূর্তে সরকারের বক্তব্য নেই।’
সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার অবসরে যাওয়ার তারিখ বিবেচনা করে রিভিউ আবেদনের বিকল্পও সরকার ভাবনায় রেখেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের তিন জ্যেষ্ঠ নেতা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সাবেক দুজন আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু এবং শফিক আহমেদ বলেছেন, তাঁরা নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যেই রিভিউ চাওয়ার পক্ষপাতী। তবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল বাসেত মজুমদার মনে করেন, প্রধান বিচারপতির অবসরের পরেই এর রিভিউ চাওয়া উচিত হবে। তাঁর মতে যেহেতু বিলম্ব মার্জনা করার বিধান আছে, তাই সরকারের উচিত হবে বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ রিভিউর সুযোগ নেওয়া। তাঁর কথায়, সাংবিধানিক আইন নয়, প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে রাজনীতির ছাপ বেশি। রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির বেশি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাই তাঁর অবসরে যাওয়ার পরেই রিভিউ চাওয়া সমীচীন হবে। বাসেত মজুমদারের মতে, রায় সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা বলা হয়েছে, তা আবেগের বশবর্তী হয়ে বলা হয়েছে। এগুলো আদালত অবমাননাকর নয়।
অন্যদিকে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘যদি প্রধান বিচারপতির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি রিভিউ বা এক্সপাঞ্জের যুক্তি হয়, তাহলেও বিচারকদের ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। আমি মনে করি, কোনো বিষয়ে যদি প্রধান বিচারপতির সামনে গ্রহণযোগ্য যুক্তি পেশ করা যায়, তাহলে তিনি তা বিবেচনায় নেবেন। প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে দেওয়া বিরুদ্ধ যুক্তির প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নেবেন বলেই আমার বিশ্বাস।’
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মুখপাত্র সাব্বির ফয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণত সার্টিফায়েড কপি চেয়ে দরখাস্ত করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কপি সরবরাহের রীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। ১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় বেরোয়। ওই দিনই তা ওয়েবসাইটে বেরিয়েছে। কিন্তু রিট আবেদনকারী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, তিনি ১৬ আগস্ট সার্টিফায়েড কপি পেয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির শেষ কার্যদিবস ৩১ জানুয়ারি ২০১৮। তিনি অবসরে যাবেন ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। উল্লেখ্য, শফিক আহমেদ ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ দরখাস্ত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আদালতের ছুটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সামনে দীর্ঘ ছুটি রয়েছে। সুতরাং দরখাস্ত দিয়ে প্রয়োজনে শুনানির জন্য সময় চাওয়া যেতে পারে। প্রধান বিচারপতির অবসরে যাওয়ার আগে বেশি কার্যদিবস নেই। সুপ্রিম কোর্টের সামনে এ মাসে আর মাত্র ৫ কার্যদিবস আছে। এরপর ২৫ আগস্ট থেকে টানা দেড় মাস ছুটি চলবে। খুলবে ৩ অক্টোবর।