চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১০ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রবাসীর স্ত্রীর নিকট চাঁদা দাবী ও মারধরের অভিযোগ!

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১০, ২০২১ ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে কাজল রেখা (৩০) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী রিণ্টু ও তাঁর বন্ধু জিয়ার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রিণ্টু ও জিয়া চাঁদার টাকা আদায় করতে কাজল রেখার বাড়িতে যেয়ে তাঁকে মারধর করে বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী। এসময় টাকা দিতে না চাইলে রিণ্টু ও জিয়া একটি ছুরি দিয়ে কাজল রেখার হাতে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা আহত কাজল রেখাকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়। আহত কাজল রেখা আলমডাঙ্গার বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা কাচিঁকাঠা কুড়িপাড়ার আতিয়ার রহমানের মেয়ে। কাঠ ব্যবসায়ী রিণ্টু একই গ্রামের মসজিদপাড়ার খোয়াজ আলীর ছেলে।
কাজল রেখা বলেন, ‘রিণ্টু ও তার বন্ধু জিয়া বেশ কিছুদিন যাবত আমার নিকট মোবাইলফোনে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করছে। টাকা না দিলে আমার পরিবারের ক্ষতি করবে বলেও হুমকি দিয়ে আসছিল। মোবাইলে টাকা দাবী ও আমাকে হুমকি গালিগালাজ করার সমস্ত কথা রেকর্ড করা আছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিণ্টু ও জিয়া দুজনেই হঠাৎ আমার বাড়িতে এসে পাঁচলাখ টাকা দিতে বলে। টাকা না দিলে আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দেয় তারা। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে রিণ্টুর হাতে থাকা একটি ছুরি দিয়ে আমার হাতে আঘাত করে। এসময় আমি ভয় পেয়ে আমার সোনার কানের-দুল ও বাড়িতে থাকা নগত ১৫ হাজার টাকা দিলে তারা চলে যায়। পরে প্রতিবেশি কয়েকজনের সহায়তায় আমি হারদী হাসপাতালে যায়। এর পূর্বে আমি থানায় তাদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছিলাম, কিন্তু আমাদের গ্রামের মাসুদ চেয়ারম্যান সবকিছু মিমাংসা করে দেবেন বললে আমি থানা থেকে চলে আসি। কিন্তু এরপরেও রিণ্টু ও জিয়া আমার কাছে টাকা চাই, এসময় আমি মাসুদ চেয়ারম্যানের নিকট যায়। তখন মাসুদ চেয়ারম্যান বলেন তিনি এই সকল ঝামেলার মধ্যে নেই। এবিষয়ে আমি যেন তার কাছে আর না যায়।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিণ্টু বলেন, ‘কাজল রেখা আমার গ্রামের মেয়ে। আমি তাঁকে চিনি কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমার নামে যে চাঁদা দাবীর কথা সে বলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার সঙ্গে আমার অনেক দিন দেখাই হয়নি। তাঁর বাড়ি যেয়ে মারধরের অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়ন চ্যোয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমি কাজল রেখাকে চিনি। যতদূর জানি কয়েক বছর পূর্বে কাঠ ব্যবসায়ী রিণ্টু কাজল রেখার নিকট থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নেয়। এই টাকার সুদ বাবদ প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা করে কাজল রেখাকে দিতে হতো। তবে করোনার কারণে রিণ্টুর ব্যবসা ভাল চলছিল না। কিন্তু কাজল টাকার জন্য রিণ্টুকে চাপ দেয়। আলমডাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগও করেছিল কাজল। বিষয়টির একটি মিমাংসার জন্য দুপক্ষই আমার নিকট আসে। এসময় তাঁদেরকে নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় বসে একটি আপোষ-মিমাংসা করা হয়। সেখানে রিণ্টু টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় নেয়। কিন্তু রিণ্টু সেই টাকা দিতে পারে না। পরবর্তীকে কাজল আমার নিকট আসলে আমি তাঁকে এবিষয়ে কোনো সাহায্য করতে পারবো না জানিয়ে দিই। তবে রিণ্টু ভাল ছেলে। কাজল যদি রিণ্টুর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবীর অভিযোগ করে থাকে, আমার মনে হয় না সেটা সত্য।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।