প্রধানমন্ত্রী ভারত যাচ্ছেন আজ

190

সমীকরণ প্রতিবেদন:
কাল থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারদিনের ভারত সফরে এনআরসি (আসামের নাগরিকপঞ্জি) নিয়ে উদ্বেগ দূরিকরণ, তিস্তা চুক্তি সই, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে দেশটির সহায়তা কামনা এবং সীমান্ত হত্যা শূণ্যের কোটায় নামিয়ে আনার আলোচনা প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। এনআরসি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ দেশটির কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকে জড়িয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে সব ‘উত্তেজক’ বক্তব্য দিচ্ছেন তা আমলে নিতে চায় না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য ধর্তব্য নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রী আমাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, এনআরসি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা সরকারের এই বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখতে চাই। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরের সময় সাংবাদিকদেরও বলেছিলেন, ‘এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনআরসির বিষয়টি তুলেছিলেন জানিয়ে মন্ত্রী পূণরায় বলেন, জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে যে উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে এসব ছোটখাটো বিষয় কোনও সমস্যা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বুধবার বিকালে সেগুনবাগিচায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়- দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের তরফে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের বিষয়ে এবং সর্বশেষ গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হয়েছে তার কোথায় এনআরসি নিয়ে আলোচনার তথ্য নেই।
তিস্তা নিয়ে আসন্ন সফরে আলোচনা হবে- এমনটিও দিল্লি বলছে না। এই ভিন্নতা কেন? জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে আলোচনা করেছি, আগামীতেও করবো। তারা তাদেরটা বলবেন। এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআরসি তৈরি করা হয়েছে। এটি করতে সময় লেগেছে ৩৪ বছর। ফাইনাল করতে কত সময় লাগবে, জানি না মন্তব্য করে তিনি বলেন, হয়ত আমরা তখন দুনিয়াতেই থাকবো না। পানি সংক্রান্ত বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তিস্তাসহ মোট ৮টি নদীর রূপরেখা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করবো। রোহিঙ্গা বিষয়ে তিনি বলেন, চীনের অবস্থানে অবশ্যই পরিবর্তন এসেছে। তাদের উদ্যোগে আমরা নিউইয়র্কে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করছি। যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধিও ছিলেন। ওই বৈঠকে চীনের পীড়াপীড়িতে মিয়ানমার মাঠপর্যায়ে একটি যৌথ গ্রুপ তৈরিতে রাজি হয়েছে। এই কমিটি প্রত্যাবাসনে কাজ করবে। আব্দুল মোমেন বলেন, ওই বৈঠকে মিয়ানমার আরও স্বীকার করেছে, যাদের যাচাই-বাছাই করা হবে তাদের প্রত্যেককে তারা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড দিবে। যা তাদের নাগরিকত্বের প্রথম ধাপ। এর আগে মিয়ানমার এ কথা বলতো না। এখন চীনের কারণে এটি বলছে। তবে চীনের একটি প্রস্তাব ছিল রোহিঙ্গাদের রাখাইনে নিয়ে গিয়ে পরিবেশ দেখানোর, যেটা বাংলাদেশও বলছে। কিন্তু মিয়ানমার এতে রাজি হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আলোচনায় যা থাকছে:
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে হত্যা, সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা, বাণিজ্য, নৌ-পরিবহন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালকে নিয়ে গঠিত উপআঞ্চলিক জোট), অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত কাঠোমো চুক্তি চূড়ান্তকরণ সহ রোহিঙ্গা, উন্নয়ন, জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হবে। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া, সমুদ্র গবেষণা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাসহ কয়েকটি বিষয়ে ডজন খানেক সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। শুরুতে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ইন্ডিয়ান ইকোনমিক সামিটে অংশ নেবেন। আগামী ৫ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। একই দিন ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর হোটেল স্যুটে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ওই দিনই সরকার প্রধানের ঢাকা ফেরার কথা।