চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২ আগস্ট ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখা শের আলীর মৃত্যু

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২, ২০২১ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

ঝিনাইদহ অফিস:
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখা দেশের সবচেয়ে প্রবীণ ও বয়স্ক মানুষ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া গ্রামের শের আলী মিয়া হাওলাদার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১১৩ বছর। এ খবর নিশ্চিত করেন মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম। জাতীয় পরিচয়পত্র মোতাবেক শের আলী মিয়া ১৯০৮ সালের ১৭ জুলাই (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৪৪১১৯৫৮৩৯৪৮৭০) জন্মগ্রহণ করেন।
গত ৯ জুলাই শের আলী মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর পিতা আগের চেয়ে কম চলাফেরা করতে পারেন। হুইল চেয়ারে বসে সবকিছু করেন। খাওয়া-দাওয়া আগের মতোই আছে। নিজে ওজু করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। জীবনে কোনো অসুখ-বিসুখ তাঁকে স্পর্শ করেনি। শেষ জীবনে এসেও তিনি এক প্রাণবন্ত মানুষ।
জীবদ্দশায় শের আলী মিয়া জানিয়েছিলেন, ১৯১৪ সালে যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তখন তিনি সবেমাত্র কৈশর থেকে যৌবনে পা রেখেছেন। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার রাহাপাড়া গ্রামে তাঁরা বসবাস করতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশরা যখন সৈন্য সংগ্রহ শুরু করে, তখন শের আলী ও তাঁর বড় মামা আমজাদ আলী সরদার যুদ্ধে যাওয়ার জন্য ব্রিটিশ সৈন্যদলে নাম লেখান। সে সময় ব্রিটিশরা তাঁকে একটি সার্টিফিকেটও দেন, যেটি তাঁর ছেলেরা হারিয়ে ফেলেছেন। যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলে তাঁর মা-বাবাসহ বাড়ির সবাই কান্নাকাটি শুরু করেন। যুদ্ধে যাওয়া বাধ্যতামূলক করে ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন জোট ফরমান জারি করলে শের আলী মিয়া ও তাঁর বড় মামা তখন যুদ্ধে না গিয়ে পালিয়ে যান ভারতের বনগাঁর কাঠালিয়া গ্রামে।
পরবর্তীতে সপরিবারে ভারতে বসবাস শুরু করেন। ভারত থেকে তিনি প্রায়ই শরীয়তপুরের রাহাপাড়া গ্রামে আসা-যাওয়া করতেন। আনুমানিক ২০-২২ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী নলতা গ্রামের করম আলী খুনকারের মেয়ে আছিয়া খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম পক্ষের এক কন্যা সন্তান হওয়ার পর স্ত্রীর আর কোনো সন্তান হবে না জানতে পেরে তিনি নলতা গ্রামের তমিজ উদ্দীন মাঝির কন্যা রুপভান বেগমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষে ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে। ১৯৬৮ সালে ছোট স্ত্রী রুপভান ও ১৯৯৯ সালে বড় স্ত্রী আছিয়া খাতুন ইন্তেকাল করেন।
শের আলী মিয়ার ভাষ্যমতে, ১৯৪৬ সালে ভারতের পাঞ্জাবে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলে সম্পত্তি বিনিময় করে তিনি ৫ ভাই ও পিতা-মাতার সাথে চলে আসেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার ভাদড়া গ্রামে। ভাদড়া গ্রামে এসে দেখেন মুসলিমদের নামাজ পড়ার কোনো মসজিদ নেই। ১০-১৫ ঘর মানুষের বেশির ভাগ মুসলিম হিন্দু রীতি অনুসরণ করেন। এসব দেখে তিনি নিজের ঈমান-আকিদা রক্ষা করতে চলে আসেন ঝিনাইদহের কুলবাড়িয়া গ্রামে।
এলাকার চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম গতকাল রোববার বিকেলে জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সবচেয়ে প্রবীণতম ব্যক্তি শের আলীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। তিনি দুঃখ করে বলেন, গিনেজ বুক অব ওয়ার্ড রেকর্ডস এ নাম ওঠানো আমাদের দাবি ছিল। কিন্তু সেটা আর হলো না।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।