চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি এ আশাবাদের কথা জানান। ঢাকা পোস্ট। বাসস।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইতিবাচক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্জনগুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কী করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার করা যায়- সেসব উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, আমাদের মাঝে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সহায়তা ও কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে উদারতা এবং বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অসাধারণ অবদানের প্রশংসা করেন। হাস বলেন, আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছি, আমি মনে করি আমাদের সবচেয়ে বেশি যৌথ গৌরবের অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কোভিড-১৯ সঙ্কট একত্রিতভাবে মোকাবিলা করা। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি বাংলাদেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যাকে টিকা দেয়া উদ্যোগের প্রশংসা করি। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদেরকে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। করোনা পরিস্থিতি ও শিডিউল জটিলতাসহ নানা কারণে ঢাকায় আসার প্রায় ছয় মাসের বেশি হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি পিটার হাস। এটি প্রধানমন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম সাক্ষাৎ। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চলতি বছরের মার্চের শুরুতে ঢাকায় আসেন পিটার হাস। ঢাকায় আসার ১৫ দিনের মাথায় অর্থাৎ গত ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বাসস জানায়, পিটার হাস কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলা এবং টিকাদান কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এটি ‘অসামান্য দক্ষতা’ এবং ‘সত্যিই বিস্ময়কর’। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টিকাদান কার্যক্রমে বাংলাদেশ স্পষ্টতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, পিটার হাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রূপান্তরের প্রশংসা করে বলেন, ‘এটা খুবই চিত্তাকর্ষক।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এটি আরো উন্নত হতে থাকবে।’ মহামারী পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ‘গ্লোবাল কোভিড অ্যাকশন প্ল্যানে’ বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্ব করতে চায় উল্লেখ করে পিটার হাস বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের সাথে ইউএস-বাংলাদেশের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় সাফল্যের বিষয়ে বলেন, তাঁর দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলো সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের সেবা এবং ওষুধ ও অক্সিজেন বিতরণের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার মাধ্যমে শুরু থেকেই দক্ষতার সাথে মহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। তিনি বলেন, যখন ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে, তার সরকার জনগণকে বিনা মূল্যে ভ্যাকসিনের প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ সরবরাহ করেছে। এখন সরকার শিশুদের টিকা দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোভিড-১৯ টিকা প্রকল্প পরিচালনার জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং স্টেক হোল্ডারদের সাথে সমন্বয় করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন, যা সত্যিই ভালো কাজ করেছে। সে সময় তিনি নিজেই সবার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

এলিজাবেথের প্রতি শ্রদ্ধা
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। ৮ সেপ্টেম্বর রানী এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ব্রিটিশ হাইকমিশনে এই বই খোলা হয়। প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী রানীর প্রতি সম্মান জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী শোক বইয়ে স্বাক্ষরের পর রানীর সাথে তার সুখ স্মৃতিচারণ করেন। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে পেঁৗঁছালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন তাকে স্বাগত জানান।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।