প্রতিবাদ সভা, আইনজীবীদের দুদিনের কর্মবিরতি!

287

চুয়াডাঙ্গায় অ্যাড. শফির ওপর হামলার ঘটনা, জেলা আইনজীবী সমিতির মানববন্ধন ও
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের সরকারি সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি), জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফির ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুই দিন কর্মবিরতির ঘোষণা দেন আইনজীবীরা। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির নিজস্ব ভবনে এ প্রতিবাদ সভা শেষে কোর্ট মসজিদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আইনজীবীরা। প্রতিবাদ সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মোল্লা আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবুল বাশার ও আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল কর্মবিরতি করেন আইনজীবীরা। আজও এই কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করবেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত আইনজীবীরা।
এর আগে প্রতিবাদ সভায় আইনজীবী সমিতির নেতারাসহ উপস্থিত আইনজীবীদের প্রায় সবার দাবি ছিল, অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা আইনজীবী সমিতি যেন কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কিন্তু আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মোল্লা আব্দুল রশিদ তাঁর বক্তব্যের পরও দাবি অনুযায়ী কর্মসূচি ঘোষণা না করলে উপস্থিত আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে প্রতিবাদ সভায় সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে স্লোগান আসতে থাকে, সভাপতি ব্যর্থ। কিছু সময় এ ধরনের বাগবিত-ার পর সমিতির সভাপতি সবার দাবির সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে দুই দিন কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রতিবাদ সভার পর কোর্ট মসজিদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ ছাড়াও আজ সোমবার আবারও আলোচনার পর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে জানান সমিতির নেতারা।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার এলাকায় জনতা ব্যাংকের নিচে বসে থাকা অবস্থায় একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে অ্যাড. শফিকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শফিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শনিবার রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। এ ঘটনার পরপরই সাতজনকে আটক করে পুলিশ। এদিকে, শফির ওপর হামলার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়ে এক অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই প্রতিবাদ সভা করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শহরজুড়ে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্থানে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। গতকালও শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।