চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৩০ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিবাদ করায় আলী আজমের ক্যাডারদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ তিনজন আহত

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৩০, ২০১৭ ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগরের আলীপুর রাখাল শাহ মাজারে ওরসে আসা নারীদের সাথে কমিটির সাধারণ সম্পাদকের অশ্লীল আচরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আলীপুর গ্রামে রাখাল শাহ মাজারে বার্ষিক ওরসকে ঘিরে গত মঙ্গলবার রাতে ওরস পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ক্যাডারদের হামলার শিকার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ তিন জন আহত হয়েছে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওরস পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তাৎক্ষণিক ভাবে একটি সালিস বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনাটি নিস্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওরস পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পদক খন্দকার আলী আজম ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু আহতদের পরিবার দোষীদের এ ধরণের শাস্তিতে খুশি হতে পারেননি। এলাকাবাসীর ধারণা যে কোন সময় আবারও বাঁধতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জীবননগর উপজেলার আলীপুর রাখাল শাহ মাজার প্রাঙ্গণে তিরোধান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো। ওরসকে ঘিরে সেখানে প্রশাসনের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই জমজমাট মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় আসা নারী ও যুবতীর সঙ্গে বখাটেরা নানা ভাবে অশ্লীল আচরণ করতে থাকে। একই ভাবে মাজারের ওরস পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আলী আজমের ৫-৬ জন ক্যাডার মেলার প্রবেশ পথে নাচানাচী আর অসংযোত আচরণ করতে থাকে। তাদের আচরণে অতিষ্ট হয়ে জীবননগর আলীপুর দেয়ানপাড়ার খলিলুর রহমানের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র টিটো (২২) ও আলমগীর হোসেনের ছেলে শুভ (১৭) প্রতিবাদ করায় ওই সব ক্যাডাররা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে মারাত্মক ভাবে আহত করে।
এসময় ক্যাডারদের বাঁধা দিতে গিয়ে বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সোহরাব হোসেন ও মোশাররফ হোসেনও লাঞ্চিত হন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকাবাসী এক জোট হয়ে হামলাকারীদের আস্তানা সীমানার ভিতরে আটকিয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে মাজার কমিটির সভাপতি আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আলী আজম, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কাদের প্রধানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এক সালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। খন্দকার আলী আজম মাইকে বক্তব্য দিয়ে তার লোকজনের অপরাধ নিজের ঘাড়ে নিয়ে বিচার সালিস করতে সম্মত হন। এক পর্যায়ে সালিস সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক হামলাকারীদের খন্দকার আলী আজম নিজ হাতে উত্তম-মধ্যম দেয়। কিন্তু সালিস সভার এ বিচারের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন হামলার শিকার পরিবার। এ ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর সংশয় যে কোন সময় আবারও দু’পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, মাজার প্রাঙ্গণে মারামারির কথা শুনেছি এবং বিষয়টি আপসের কথাও শুনেছি। ওরস চালানোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হবে। জীবননগরের স্থানীয় সাংবাদিক আতিয়ার রহমান বলেন, সরেজমিনে সেখানে দেখা গেছে একদিকে মারামারি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অন্যদিকে মাজারের উত্তর পাশে বাঁশ বাগানের ভিতরে জঁটলাকারে বসে গাঁজা সেবনের উৎসব চলছে। একটি সুত্র বলছে গাঁজা সেবনের জন্যই নাকি ওই বাঁশ বাগানটি নির্ধারিত করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।