চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১০ জুলাই ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ১০, ২০২১ ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গে ২৭ জনের প্রাণহানি
করোনায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত আরও ১১,৩২৪ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৬ হাজার ৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ হাজার ৩২৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্র্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে সাতজনের শরীরে। গতকাল মেহেরপুরে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একইসময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। এছাড়াও গতকাল ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১৬২ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
সারা দেশের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলাও এখন বৈশিক মহামারি করোনাভাইরাসের অন্যতম হটস্পট। প্রতিদিন এ জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা শনাক্তের সংখ্যাও। গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও সাতজনের। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৭ জনের শরীরে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চুয়াডাঙ্গার ২৯টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৭টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ২২টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ৭ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৫ জন ও দামুড়হুদা উপজেলার ২ জন রয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪.১৩ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪০৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৮৮১ জন, আলমডাঙ্গার ৭৩০ জন, দামুড়হুদায় ৯৪১ জন ও জীবননগরে ৮৪৭ জন। গতকাল জেলায় নতুন ৫৮ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৫৪০ জন।
গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টে দুজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩৩ জনের। এরমধ্যে ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলায় ও করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা শনাক্ত হওয়া দুজন হলেন- মীর আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মীর আব্দুল হাই (৫২) দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বড় বোলদিয়া গ্রামের জিয়ারত আলীর স্ত্রী সাবেরা খাতুন (৬০)।
সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া অন্য পাঁচজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যান্ডবিপাড়ার আইতুল মন্ডলের স্ত্রী আনজু খাতুন (৪০), সদর উপজেলার হিজলগাড়ি গ্রামের তমিজ উদ্দীনের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৪৫), আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের শমসের মন্ডলের ছেলে আকবর আলী (৬৫), একই উপজেলার ঘোলদাড়ি গ্রামের গোলাম রসুলের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৬০) ও দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের হাজারী মণ্ডলের স্ত্রী জহিরন বেগম (৭০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে দুজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া অন্য পাঁজনের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। করোনায় মৃত্যু হয়ে নতুন দুজনসহ জেলায় আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১১৭ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৬ জনের।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত মঙ্গলবার ৩৪৫টি, বুধবার ৩৯৪টি ও বৃহস্পতিবার ৩৮৭টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল শুক্রবার উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ২৯টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল আরও ২৮টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৬ হাজার ৩২৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৫ হাজার ৮৩৬টি, পজিটিভ ৪ হাজার ৪০৬ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৮২৫ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এরমধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৭০৩ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ১২২ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩৩ জনের। এরমধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪০ জনের শরীরে। নতুন আক্রান্ত ৪০ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, গাংনীর ১৩ জন ও মুজিবনগরে ২ জন রয়েছে। গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ১১৪টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। এরমধ্যে ৪০টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৫৮ জন। গতকাল শুক্রবার রাত আটটায় মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত ৭৫৮ জনের মৃধ্য সদর উপজেলায় ২৬৫ জন, গাংনী উপজেলায় ৩৮৯ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ১০৪ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৮ জনের। এরমধ্যে সদর উপাজেলার ২৫ জন, গাংনীর ২৯ জন ও মুজিবনগরের ১৯ জন।
ঝিনাইদহ:
মৃত্যু উপত্যাকায় পরিণত হয়েছে গোটা ঝিনাইদহ। প্রতিদিন স্বজনহারানোর বেদনায় ভারি হচ্ছে গ্রাম শহর। গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৫ জন। এ জেলায় গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৬২ জন। গতকাল স্বাস্থ্য বিভাগ ৪৪২টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৬.৬৫ শতাংশ।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে নয়জন ও শৈলকুপা উপজেলায় মারা গেছে একজন। এছাড়াও সদর হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও তিনজন। জেলার কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও জনের। এদিকে ঝিনাইদহ জেলায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৬২ জন।
সারা দেশ:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৬ হাজার ৪ জনে। এর আগে গত ৭ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ২০১ জন মারা গিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৩২৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ লাখ ৫৪৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ২০৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৮ জন। এনিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২১২ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ৯০ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে সাতজন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুজন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১১৯ জন ও মহিলা ৯৩ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৬ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২১২ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৯ জন, ঢাকা বিভাগে ৫৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, বরিশাল বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে ছয়জন, রংপুর বিভাগে ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে আটজন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।