প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ

305

চুয়াডাঙ্গা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষন কেন্দ্রে নানা অনিয়ম
নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যদিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে চুয়াডাঙ্গা যুব প্রশিক্ষন কেন্দ্র। যুব উন্নয়নের সকল অপব্যবস্থাপনার প্রতিকার চেয়ে এমনটিই অভিযোগ করেছে ভূক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থীরা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সরেজমিনে প্রশিক্ষন কেন্দ্রে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাকালে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আরো স্পষ্ঠ হয়ে ওঠে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মউন্নয়নে প্রশিক্ষিত হয়ে স্বনির্ভর হতে আসে চুয়াডাঙ্গার বেকার যুবরা। তাদের আশা বেকারত্ব ঘুচিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথা দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে। কিন্তু এখানেও তারা নিষ্ফল আশা নিয়ে ফিরতে হবে এমন আশা জন্মেছে। আবাসিক কোর্সের এ সমস্ত প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ মাস ধরে প্রশিক্ষন গ্রহন করে শেষ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান কর্তা ও প্রশিক্ষকদের রোষানলে পড়ে কাঙ্খিত ফল না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে তারা। প্রশিক্ষন কেন্দ্রের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষনার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার এ বিষয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উপ-পরিচালক জাহিদুল ইসলামের নিকট অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা। অথচ প্রশিক্ষনার্থীদের সকলের অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে মনে হয়েছে তাদের অধিকাংশ অভিযোগই সত্য।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীন ০৩ মাস মেয়াদী “গবাদী পশু,হাঁস-মুরগী পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্যচাষ ও কৃষি বিষয়ক” প্রশিক্ষন গত ১লা জুলাই হতে চালু হয়েছে। কিন্তু তাদের ক্লাস শুরু হয়েছে ১১ জুলাই থেকে। এ ছাড়া ৯০ দিন বিরতিহীনভাবে ডাইনিং চলার কথা থাকলেও ৬৪দিন ডাইনিং চলেছে। সরকার থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০০ জন প্রশিক্ষনার্থীর জন প্রতি প্রতিদিন খাবার বাবদ ৪০ টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও সেই টাকা উত্তোলন করে নিন্মমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষন দেওয়ার জন্য গরু ও মুরগীর দুটি শেড থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই। কিন্তু সেখানে ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য প্রতি ব্যাচে যে বাজেট আসে তার কোন ব্যবহার নেই। আবার খামার পরিদর্শনের জন্য সরকার কর্তৃক দেয়া গাড়িটি ডিডি সাহেব ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। প্রশিক্ষনকালীন সময়ে তাদেরকে কোন খামার পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এই বিষয়ে প্রশিক্ষনার্থীরা ডিডি সাহেবের নিকট প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলে তাদেরকে পরীক্ষায় ভালো গ্রেড দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। প্রশিক্ষনার্থীদের প্রশিক্ষন প্রদানের জন্য ১৩ জন প্রশিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ৩ জন প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষন কার্যক্রম চালালেও এ ৩জন প্রশিক্ষকও নিয়মিত প্রশিক্ষনকেন্দ্রে থাকেন না। এ ব্যাপারে প্রশিক্ষকরা বলেন, আমরা ডেপুটেশনে চাকুরীতো তাই কোন কোন দিন আমরা দুর থেকে আসতে পারিনা। ৩ জন প্রশিক্ষক হিসেবে যারা প্রশিক্ষনের দায়িক্ত পালন করেন তারা হলেন, আবুল বাশার (কৃষি বিষায়ক), এফ এম মাহমুদজামান পলাশ (গবাদী পশু, হাঁসমুরগী ও প্রাথমিক চিকিৎসা) ও শহিদুল ইসলাম রিপন (মৎস্য)। উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রশিক্ষন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক জাহিদুল ইসলামের নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগের সত্যতা নেই বলে পাশ কাটিয়ে বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে সরকারি বিধি মোতাবেক ১৩ জন প্রশিক্ষক থাকার কথা। সেখানে আছে মাত্র ৩ জন তাও ডেপুটেশনে। ডাইনিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪ জন বাবুর্চি ও ২জন কিসেন এ্যাটেনডেন্ট দেয়ার কথা থাকলেও ২ জন এ্যাটেনডেন্ট দিয়ে কোন রকমে কাজ চালাচ্ছি। আমরা প্রয়োজনীয় লোকবল পেলেই আমাদের সব কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হবে।