চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ ২:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গত ২২শে ডিসেম্বর দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রথম পাতায় মানবতা ফাউন্ডেশন’কে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. মানি খন্দকার। তিনি লিখিত প্রতিবাদলিপিতে দাবি করে জানান- গত ৩১শে অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের হায়দারপুর গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে চম্পা খাতুন (১৫), চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনে তার মা নিলু বেগম ও খালা মোছা. ফাতেমাকে সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলার জীবনা গ্রামের মৃত ওয়াজেদ বিশ্বাসের ছেলে মো. মন্টুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন এবং চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গর্ভকালীন সেবা কার্ড দেখিয়ে বলে যে, সে ২ মাসের গর্ভবতী এবং তার ঔরসে উক্ত মন্টুর সন্তান। তার স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটি গ্রহন করি আমিসহ সংস্থার নির্বাহী সদস্য এ্যাড. জীল্লুর রহমান জালালম সদর উপজেলা সভাপতি এ্যাড. আব্দল মালেক, সেক্রেটারী এ্যাড. মসলেম উদ্দীন-২। সংবাদটি পরদিন স্থানীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়। আসামী মন্টু ভিকটিমকে মামলা না করার জন্য চাপ দেয়। ১৭ নভেম্বর উক্ত মন্টু মাইক্রোবাসযোগে ভিকটিম, তার মা ও খালাকে ভিকটিম চম্পার স্বামী স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলে জীবনা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে মন্টু, তার ছেলে মাসুদ ও স্ত্রী মাফুজা বেগমের সহায়তায় ভিকটিমকে জোরপূর্বক ঔষধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা চালায়। পরদিন ১৮ নভেম্বর ভিকটিম সদর হাসপাতাল চুয়াডাঙ্গাতে রক্তক্ষরন অবস্থায় ভর্তি হয়। যার রেজি. নং ৩০৪৫৩/৮৬। ভিকটিম ২১ নভেম্বর তারিখে তার মা ও খালাকে সঙ্গে নিয়ে মানবতা ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে পুনরায় আইনি সহায়তা চেয়ে আবেদন করে। ভিকটিম তার দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বার ও গর্ভপাত ঘটানোর চিকিৎসা সনদ দাখিল করে। তার ভাষ্যমতে ও দাখিলী প্রমাণপত্রযোগে বিজ্ঞ আদালতে ভিকটিম আমাদের আইনি সহায়তায় ২২ নভেম্বর তারিখে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক এফআইআর এর আদেশ দেন। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনানুগ পন্থায় মামলা দায়ের হয়েছে। এখানে ষড়যন্ত্রের প্রশ্নই আসেনা। যেহেতু সদর হাসপাতালের চিকিৎসক গর্ভবতী ও গর্ভপাতের সনদপত্র দিয়েছেন। কাজেই ভিকটিমের গর্ভের সন্তানের বিষয়ে চিকিৎসক কৈফিয়ত দিবেন। বাদী মিথ্যা মামলা দায়ের করলেও তার দায় দায়িত্ব কোন আইনজীবীর নয়। হায়দারপুর ও জীবনা গ্রামের কতিপয় কুচক্রীমহল মন্টুকে বাঁচাতে সাংবাদিকদের নিকট মিথ্যা তথ্য প্রদান করে এবং সদর হাসপাতালের প্রমাণপত্র না দেখিয়ে আমাদের সংস্থাকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ ছাপিয়েছে। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য: প্রকাশিত সংবাদের কোন তথ্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিত বা আমাদের মনগড়া নয়। সকল তথ্যই মামলার বাদী, চিকিৎসক, বিবাদী এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নেয়া। প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে- চম্পা খাতুন ২ মাসের গর্ভবতী বলে গর্ভকালীন সেবা কার্ড দেখিয়ে এবং তার ঔরসে জীবনা গ্রামের মন্টুর সন্তান বলে অভিযোগপত্র দাখিল করে সে। তবে চম্পা খাতুন আমাদের জানিয়েছেন- তার গর্ভে কোন সন্তান ছিলো না। হায়দারপুর গ্রামের আজিবার মেম্বার ও মানবতা ফাউন্ডেশনের সদস্য একই গ্রামের আরিফুলের কথামত জমি ও টাকার প্রলোভনে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন তিনি। তাদেরকে মানবতা ফাউন্ডেশনে নিয়ে গিয়েছিলো ওই আরিফুল। পরে সেখানে আইনি সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হয় বলে জানায় চম্পা।
এদিকে, চম্পা খাতুনের দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বার আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. মানি খন্দকার। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেছেন হাসপাতাল কর্তৃক দেয়া গর্ভকালীন সেবা কার্ডের কথা। এ বিষয়ে চম্পা খাতুনের খালা ফাতেমা খাতুন ফতে আমাদের বলেছেন- চম্পার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর জন্য কাগজে একটি ঠিকানা লিখে দেন অ্যাড. মানি খন্দকার। মোবাইলে কথাও বলেন তিনি। ঠিকানা অনুযায়ি যাওয়ার জন্য মানবতা ফাউন্ডেশনের লোকজন একটি ইজিবাইকও ঠিক করে দেয়। পরে সেখানে গিয়ে চম্পার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। সেখানে জানা যায় চম্পা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতালে ওই রিপোর্ট দেখিয়ে গর্ভকালীন সেবা কার্ড করা হয়। ফাতেমা খাতুন ফতে আরও বলেন- যা করা হয়েছে সবই অ্যাডভোকেট মানি খন্দকারের কথামত।
প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে- মাইক্রোবাসযোগে ভিকটিম, তার মা ও খালাকে জীবনা গ্রামে নিয়ে যায় মন্টু। সেখানে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ঔষধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভিকটিম চম্পা আমাদের জানিয়েছেন- তিনি কখনো গর্ভবতীই হননি। সেক্ষেত্রে গর্ভপাতের প্রশ্নই ওঠেনা। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গাইনী কনসালটেন্ট ডা. আকলিমা খাতুন ও সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হকের জিজ্ঞাসাবাদে সাংবাদিকদের সামনে ভিকটিম চম্পা জানিয়েছেন- যে আল্ট্রসনোগ্রাম রিপোর্টে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলা হয়েছে, সেটি তার নিজের আল্ট্রসনোগ্রাম রিপোর্ট নয়। ওই রিপোর্টটির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট মানি খন্দকার। অপরদিকে, প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে- বাদী মিথ্যা মামলা দায়ের করলেও তার দায় দায়িত্ব কোন আইনজীবীর নয়। কিন্তু আমরা কোন আইনজীবীর ওপর দায় দিচ্ছিনা। প্রাপ্ত তথ্যে মিলেছে মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালকের সহায়তায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোন আইনজীবী নয়।
আমাদের প্রকাশিত সংবাদটি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বা উদ্দেশ্য প্রনোদিত নয়। যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পরই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।