চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৌর ভোটের লড়াইয়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৫, ২০২০ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

করোনা মহামারির মধ্যেই দেশজুড়ে চলছে নির্বাচনের ডামাডোল
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনা মহামারির মধ্যেই দেশজুড়ে চলছে পৌর নির্বাচনের ডামাডোল। এরই মধ্যে তিন ধাপে দেড়শ পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাকি পৌরসভাগুলোতেও পরবর্তী ধাপে নির্বাচন করতে চায় ইসি। ফলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া ও মেয়াদপূর্তির কাছাকাছি থাকা দেশের প্রায় সব পৌরসভায় চলছে ভোটের আমেজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুটিকয়েক পৌরসভা বাদে সারাদেশের প্রায় সব পৌরসভায় চলছে নির্বাচনি প্রচারণা। তফসিল ঘোষণা না হওয়া পৌরসভাগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের নিয়ে শো-ডাউন করছেন। মনোনয়ন পেতে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ারও চেষ্টা করছেন। আর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়া এলাকাগুলোতে দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। তবে প্রার্থীদের এসব প্রচার-প্রচারণায় বা গণসংযোগ কিংবা পথসভায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে দেখা গেছে। প্রচার-প্রচারণায় প্রতিদিনই বাড়ছে জনসমাগম। ভোটার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত মেলানো প্রার্থী ও নেতাদের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও প্রচারণায় নেমে কোলাকুলিও করছেন প্রার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মেয়রপ্রার্থী জানিয়েছেন, প্রচারণায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সব সময় তা মানা সম্ভব হচ্ছে না। মিছিল বা পথসভায় একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকেন। আবার ভোটার ও নেতাকর্মীরা কাছে গেলে হাত মেলাতে হয়। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ঢাকা বিভাগের একজন পৌর মেয়র বলেন, হাত না মেলালে অনেকেই মনে করেন প্রার্থী জনবান্ধব না। মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন না। তাই হাত না মিলিয়ে উপায় নেই। নেতাকর্মী বা ভোটাররা একসঙ্গে কোথাও গেলে বা দেখা করতে আসলেও মানা করা যায় না। এসব বিষয়ে কথা বললে অনেক কর্মী-সমর্থকারই পেছনে বলে ‘ভাই ইদানিং কেমন জানি ভাব নিতে চাইছে।’ দেশের উত্তরাঞ্চলের একজন মেয়রপ্রার্থীর ভাষ্য, করোনার কারণে কোনো কিছুই থেমে নেই। এর আগেও অনেক নির্বাচন হয়েছে। তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এবারের নির্বাচনেও সমস্যা হওয়ার কথা না। স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানতে না পারলেও করোনা আক্রান্ত কিংবা অসুস্থ কোনো নেতাকর্মীদের নিয়ে কেউই প্রচারণা চালাচ্ছেন না।
অপর এক মেয়র প্রার্থী জানান, নেতাকর্মীদের মধ্যে কারো করোনা উপসর্গ থাকলে প্রচারণায় আসতে নিষেধ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি পৌর মেয়রদের নিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত করোনাকালে দেশের পৌরসভাসমূহের কার্যক্রম নিয়ে এক ওয়েবিনারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়ররা। তারা বলেন, একদিকে বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানতে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে আবার বলা হচ্ছে নির্বাচন কর। নির্বাচন করলে স্বাস্থ্যবিধি আর সামাজিক দূরত্ব মানব কীভাবে? এসময় স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে করোনা পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতেরও দাবি জানান তাদের কেউ কেউ। তবে স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় যেহেতু সবকিছু চলছে, সেহেতু নির্বাচনও চলতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে কোনোকিছু করা ঠিক হবে না। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এমন সব কাজ পরিহার করা উচিত বলে মত দেন তাদের কেউ কেউ।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রসঙ্গটি তফসিল ঘোষণার আগে তোলা দরকার ছিল। যারা তফসিল ঘোষণা করেছেন তারা এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছেন। করোনার মধ্যে স্কুল-কলেজ ছাড়া তো সবই চলছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনও চলতে পারে। তবে স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষার জন্য অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রার্থীদের আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শহিদুলস্নাহ সিকদার। আলাপকালে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা যেমন মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোটও গণতান্ত্রিক অধিকার। কোনোটাই খর্ব করা যাবে না। করোনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভোট হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন হচ্ছে। তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে বা নির্বাচনের কারণে যাতে কেউ করোনা আক্রান্ত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ করোনা প্রতিরোধের সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা সচেতন হলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে বলে মত দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে মোট পৌরসভা রয়েছে ৩২৯টি। আইনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করার বিধান রয়েছে। বর্তমানে দেশে নির্বাচন উপযোগী পৌরসভার সংখ্যা ২৫৯টি। এর মধ্যে করোনা মহামারির মধ্যে তিন ধাপে ১৫০টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। আগামী সোমবার প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভায় ভোট হবে। ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ৬১ এবং ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভায় ভোট হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।