চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৮ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৌর নির্বাচনে ধানের শীষ পাচ্ছেন কে?

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৮, ২০২০ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

মেহেরাব্বিন সানভী:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পাবেন কে? এ আলোচনা এখন শহরের কোনায় কোনায়। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন, সে আলোচনাও কম নয়। ইতোমধ্যে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মালিক মজু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খোন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুঞ্জুরুল জাহিদ। বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক সিভি নিয়ে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ে জোর লবিং চালাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহেদুজ্জামান বুলা বলেন, ‘জেলা থেকে কেন্দ্রে আমাদের প্রস্তাব পাঠানোর শেষ সময় দেওয়া হয়েছে ২৯ নভেম্বর। আমরা ইতোমধ্যেই যাঁরা মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে বসেছি। আরও বিস্তারিতভাবে যোগাযোগ করে জেলার যারা সিনিয়র আছেন, তাঁদের পরামর্শ ও মতামত নিয়ে দলের একনিষ্ঠ কর্মী এবং জনপ্রিয় কারো নাম প্রস্তাব পাঠাব। আর সেটা ২৯ নভেম্বরের আগেই পাঠানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা কাউকে নির্ধারণ করিনি।’
চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের মতো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন আহ্বান করে পৌর কমিটির সব ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভার মাধ্যমে প্রস্তাবিত প্রার্থী বাছাই করা হবে কি না, জানতে চাইলে ওয়াহেদুজ্জামান বুলা বলেন, যাঁরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। যোগ্য প্রার্থীর নামই মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠানো হবে।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খোন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা। তিনিও পৌর নির্বাচনের রির্টানিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার তারেক আহমেদের কাছ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র উঠিয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কথাও এখন বেশ আলোচিত। এর আগেও তিনি পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন এবারও দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দল তাঁকে মনোনয়ন দিবে। তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আমি বিএনপির রাজনীতিতে আছি। আমি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম। দলের প্রত্যেকটি আন্দোলন-সংগ্রামে আমি যুক্ত ছিলাম। এর আগেও আমি মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান দেখে দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মালিক মজু ইতোমধ্যেই পৌর নির্বাচনের রির্টানিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার তারেক আহমেদের কাছ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র উঠিয়েছেন। তিনি দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। শহরে তাঁর পরিচিতিও কম নয়। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরেই মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আরও ব্যাপকভাবে মানুষের সেবা করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছি। দল যদি মনোনয়ন দেয়, আশা করি ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন। তবে আমার দলীয় কার্যক্রম অনুযায়ী আমি আশাবাদী দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি। মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে হঠাৎ করেই তাঁর প্রচারণাও ব্যাপক। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর তিনি। কাউন্সিলর হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বেশ ভালো। এমন গুঞ্জনও শোনা গেছে তিনি কাউন্সিলর পদে দাঁড়ালে ওই ওয়ার্ডের নতুন কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটই করবেন না। সিরাজুল ইসলাম মনি পৌর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাসহ পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। জেলা বিএনপির বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন সামনে থেকে। দলের জন্য বিভিন্ন সময় মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন অসংখ্যবার, করেছেন কারাবরণ। দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে তিনি আশাবাদী দল তাঁকে মনোনয়ন দিবে। তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের সেবায় নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রেখেছি। শুধু আমার ওয়ার্ড নয়, যে যখন আমাকে যেভাবে চেয়েছে, আমি নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করে আসছি এবং ভবিষ্যতে তাঁদের পাশে থাকব। মনোনয়ন পেলে এই মানব সেবাই নিজেকে আরও নিবিড়ভাবে জড়ানোর ইচ্ছায় এবার মেয়র প্রার্থী হচ্ছি।’


জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার। একজন তরুণ উদীয়মান নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত পেয়েছেন। শরিফ-উর জামান সিজারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবনে ছাত্রদল থেকে শুরু। আমি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে আহ্বায়ক ছিলাম। দলের প্রত্যেকটি নির্দেশনাকে মেনে চলি তথা পালন করি। বর্তমানে জেলা যুবদলের নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমি আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’
আরেকজন তরুণ উদীয়মান নেতা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুনজুরুল জাহিদ। দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তাও বেশ ভালো। দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি জানিয়েছেন দল মনোনয়ন না দিলে নির্বাচন করবেন না। তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই আমি প্রচারণা শুরু করেছি। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করে শহরটার পরিবর্তন করেত চাই। উন্নত নাগরিক সেবা ও আধুনিক পৌরসভা গঠনে কাজ করার ইচ্ছা থেকেই প্রার্থী হচ্ছি।’
সবমিলিয়ে আগামী ১ ডিসেম্বরের আগেই জানা যাবে কার হাতে ধানের শীষ স্থান করে নিবে। কারণ, এদিন মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। যাঁরা দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, তাঁদেরকে অবশ্যই ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দলীয় প্রার্থীতার চিঠিসহ মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। আর যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাঁদেরকে ১ শ জন ভোটারের সমর্থনকৃত স্বাক্ষর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। সুতরাং কার হাতে থাকবে ধানের শীষ, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এখনও অপেক্ষা করতে হবে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।