পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি

295

Chuadanga Municipal Pic

সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা এবং পেনশন সুবিধা প্রদানের দাবি
পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা সরকারি কোষাগার থেকে প্রদানের দাবিতে সারাদেশে কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর আওতায় বুধবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচী পালন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা, জীবননগর, মেহেরপুর, গাংনীসহ দেশের ৩২৬টি পৌরসভায় একযোগে এ কর্মসূচী পালন করে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারি অ্যাসোসিয়েশন। তাদের বেতন ভাতা ও পেনশন সরকারি কোষাগার থেকে প্রদানের দাবিতে গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় পৌরসভা চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। কর্মসুচিতে সহ দেশের বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা কর্মচারি অ্যাসোসিয়েশন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসুচিতে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আয়ুব আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক পৌরসভার টিকাদান সুপারভাইজার আলী হোসেন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রধান সহকারি আশাবুল হক বিশ্বাস, উচ্চমান সহকারি মোয়াজ্জেম হোসেন, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর খান, সহকারি প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান কাউছার ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবু বক্কর বিশ্বাস। কর্মসুচিতে বক্তারা বলেন, ‘অবিল¤ে॥^ এ দাবী বাস্তবায়ন না করলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে যাবেরন তারা। এমনকি সারা বাংলাদেশের সকল পৌরসভা অচল করে দেওয়া হবে বলেও জানান বক্তারা’।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসাবে গতকাল বুধবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত দর্শনা পৌরসভার সকল কাজকর্ম বন্ধ রেখে কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশন এর নেতা-কর্মীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচী চলাকালে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ১০-১১ মাস তাদের বেতন-ভাতাদি বকেয়া থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে পৌরসভার কর্মচারীরা। বাজারের প্রত্যেকটা দোকানে তাদের ঋণ। তাদের বাচ্চাদের ভালো বিদ্যালয়ে পড়াতে পারছেন না, পারছেন না অসুস্থ মায়েদের সু-চিকিৎসা করাতে। আর কত অপেক্ষার পর তাদের এ দুঃখ দুর্দশার দিন ঘুচবে তারা কেউ জানেননা। এজন্য বর্তমান সরকারের কাছে তাদের প্রাণের দাবী অতি শিঘ্রই পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি রাজস্বখাত থেকে বেতন এবং পেনশন ব্যবস্থা চালু করে মানবেতর জীবনযাপন হতে রক্ষা করা হোক।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টার সময় বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশন জীবননগর শাখার সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে জীবননগর পৌর কার্যলয়ের সামনে সকল কর্মকর্তা কর্মচারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশন জীবননগর শাখার সাধারন সম্পাদক সাজেদা খাতুন , পৌর কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, আ. হামিদ, আ. গনি, হাবিবুর রহমান প্রমূখ।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, “এক দেশে দুই নীতি মানি না মানব না” এই শ্লোগান স¤॥^লিত ব্যানার সামনে রেখে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও পেনশন সুবিধা সরকারী কোষাগার থেকে দেওয়ার দাবীতে ঘন্টাব্যাপী কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছে পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গতকাল বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির আহবানে মেহেরপুর পৌরসভা প্রাঙ্গণে ওই কর্মসূচি পালন করেন বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর শাখার সদস্যরা। কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মেহেরপুর পৌর সচিব তফিকুল আলম।
গাংনী অফিস জানিয়েছে, সরকারী কোষাগার থেকে বেতনভাতার দাবিতে গাংনী পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাস্যোসিয়েশন ঘন্টাব্যাপি কর্মবিরতি ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার সামনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুল হকের নেতৃত্বে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পৌর কর্মকর্তা কর্মচারী এস্যোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, গাংনী শাখার সহ-সভাপতি আসলাম উদ্দীন, জাকিরুল ইসলাম ও মিলন হোসেনসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এদিকে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এস্যোসিয়েশনের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন চলাকালিন সময়ে বেশ কিছু সময় মেয়রের গাড়ি আটকে থাকে সড়কে। পরে তাদের মানববন্ধন কর্মসূচী সমাপ্ত হলে গাড়িটি পৌর চত্বরে প্রবেশ করে।