চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পেয়ারার যত গুণ

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্বাস্থ্য ডেস্ক: পেয়ারা অতি সুস্বাদু ও উপকারী এক ফল। দেশি ফল হিসেবে পেয়ারার রয়েছে বেশ সুনাম। অনেকেই কাঁচা পেয়ারা মরিচ ও লবণ দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। গরমকালে ব্লেন্ডারে জুস করেও পেয়ারা খাওয়া যায়। অনেকে পেয়ারার জেলি ও মোরব্বা পছন্দ করেন। ফলটির রয়েছে অবিশ্বাস্য সব উপকারিতা। জেনে অবাক হবেন, ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ১৮০ মি. গ্রাম ভিটামিট সি থাকে; যা কমলার তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। আসুন জেনে নেওয়া যাক মজার এই ফলের নানা গুণ-
কর্মশক্তি বাড়ায় পেয়ারা: পেয়ারার ম্যাগনেসিয়াম আমাদের মাংসপেশী ও স্নায়ু সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজ শেষে অথবা অনেক চাপ নেওয়ার পর একটি পেয়ারা খেলে কর্মশক্তি আবার বেড়ে যায়।
ওজন কমাতে সাহায্য করে: পেয়ারাতে গ্লুকোজের পরিমাণ কম থাকে। এ কারণে এটি ওজন কমাতে বেশ ভালো প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে; যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখের ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমায় এই ফল।
রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি; যা শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: পেয়ারাতে লাইকোপেন, কোয়ারকেটিন, ভিটামিন সি ও পলিফেনল আছে; যা শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর এই এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যান্সার কমাতে খুব সাহায্য করে পেয়ারা। ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও কমায় পেয়ারা।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়: পেয়ারাতে ফাইবার ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকার কারণে এটি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: পেয়ারা শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বাড়ায়; যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
হার্টের সমস্যা কমায়: পেয়ারা ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল নামক খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। যার ফলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা অনেক কমে যায়। পেয়ারা এইচডিএল নামক কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় যা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে: পেয়ারাও ভিটামিন বি৩ ও ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: পেয়ারা একটি ফাইবার জাতীয় ফল। এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
গর্ভবর্তীদের জন্য খুবই প্রয়োজন: এর ফলিক এসিড গর্ভবতী মায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন। ফলিক এসিড গর্ভের বাচ্চার নার্ভাস সিস্টেমকে উন্নত করে। সেই সঙ্গে এটি বাচ্চাদের নিউরোলোজিক ডিজঅর্ডার থেকে দূরে রাখে।
কফ দূর করে: পেয়ারার ভিটামিন সি ও আয়রন কফ দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করে। কারও যদি কফ জমে যায় গলায় তাহলে সেক্ষেত্রে পেয়ারা খুব ভালো ওষুধ যা মুহূর্তেই কফমুক্ত করে শরীরের ফুসফুস।
পেয়ারার পাতায় রোগ সংক্রমণ দূর: পেয়ারার পাতায় আছে এন্টি-ইনফ্লামেটরি গুণ এবং খুব শক্তিশালি এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ক্ষমতা; যা ইনফেকশনের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবং জীবাণু ধ্বংস করে। পেয়ারার পাতা দাঁত ব্যথার জন্য খুব ভালো একটি ওষুধ, যা ঘরে বসেই দূর করতে পারবেন।
প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় রয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ০.২১ মি.গ্রাম ভিটামিন বি-১ ও ০.০৯ মি.গ্রাম বি-২, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন ও ১.১ গ্রাম স্নেহ, ১৫.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৬ গ্রাম মিনারেল, ০.০৩ মি.গ্রাম থায়ামিন, ০.০৩ রিবোফ্লেভিন ১.৪ মি.গ্রাম আয়রন, ২৮ মি.গ্রাম ফসফরাস ও ২০ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।