চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১১ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পেট থেকে বের করা হলো ২০ বছর পূর্বে ভুলে রাখা সার্জিক্যাল আটারি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে সম্পন্ন হয়েছে বাচেনা খাতুনের অস্ত্রপচার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জানুয়ারি ১১, ২০২২ ১:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালের অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রপচার করে অপসারণ করা হয়েছে ২০ বছর পূর্বে বাচেনা খাতুনের পিত্তথলির পাথর অপসারণের সময় পেটের ভেতর ভুলে রেখে দেওয়া সার্জিক্যাল আটারি। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন অস্ত্রপচারটি শুরু করেন। টানা ৪৫ মিনিটের সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচেনা খাতুনের পেটের সার্জিক্যাল আটারিটি অপসারণ করা হয়। বাচেনা খাতুন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি বিভাগে ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়নের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

        গত মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বাচেনা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির পর থেকেই তিনি ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়নের তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন। তবে বাচেনা খাতুনের ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রিত না থাকার কারণে অস্ত্রোপচারটি করতে পারছিলেন না চিকিৎসক। অবশেষে গতকাল সকালে বাচেনা খাতুনের ডায়াবেটিকস পরীক্ষার ফলাফল নিয়ন্ত্রণের মথ্যে থাকায় দুপুরেই তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

        জানা যায়, ২০০২ সালের ২৫ মার্চ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাজা ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন বাচেনা খাতুন। ক্লিনিকের সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান অস্ত্রপচারটি করেন। অস্ত্রপচারে জন্য অ্যানেস্থেসিয়া করেন ডা. তাপস কুমার ও সহকারী হিসেবে ছিলেন রাজা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. পারভেজ হোসেন রাজা।

২০ বছর পূর্বের সেই অস্ত্রপচারে বাচেনা খাতুনের পিত্তথলির পাথর অপসারণ করলেও পেটের মধ্যে ভুলে রেখে দেন অস্ত্রপচারে ব্যবহৃত একটি সার্জিক্যাল আটারি। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পরেই বাচেনা খাতুনকে ছাড়পত্র দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়। অস্ত্রপচারের এক মাসের মাথায় পেটের ক্ষতস্থান শুকিয়ে গেলেও টানা ২০ বছর পর্যন্ত পেটের ভেতরে অসহনীয় যন্ত্রণার সঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন ডা. মিজানুর রহমানের ভুলে রেখে দেওয়া সার্জিক্যাল আটারিটি।

রাজা ক্লিনিক থেকে অ¯ো¿পচারের সাতদিন পর বাচেনা খাতুনকে ছুটি দেওয়া হলেও তাঁর পেটের যন্ত্রণা থেকেই যায়। পরে বাচেনা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে আবাও ডা. রাজার নিকটে যায়। কিন্তু ডা. রাজা ‘ঠিক হয়ে যাবে বলে’ বাচেনা খাতুনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু পেটের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সুস্থ হতে বিভিন্ন এলাকার চিকিৎসকের নিকট থেকে চিকিৎসা নেন বাচেনা খাতুন। এভাবেই ২০ বছর ধরে পরিবারের শেষ সম্বল, এমনকি দুইটা গরুও বিক্রি করতে হয়েছে তাদের। অবশেষে ২০ বছর পর গতকাল দুপুরে বাচেনা খাতুনের পেটের ভেতরে রাখা সেই সার্জিক্যাল আটারিটি অপসারণ করা হয়েছে।

        এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন বলেন, ‘গত ৪ জানুয়ারি বাচেনা খাতুনকে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি বিভাগে ভর্তি নেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তাঁর শরীরে ডায়াবেটিকসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকায় অপারেশনটি পিছিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে  আজ (গতকাল সোমবার) সকালে বাচেনা খাতুনের ডায়াবেটিকস পরীক্ষার ফলাফল নিয়ন্ত্রণের মথ্যে থাকায় দুপুর ১২টায় তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এসময় অস্ত্রপচারের মাধ্যমে তাঁর পেট থেকে সার্জিক্যাল আটারিটি অপসারণ করা হয়। তাকে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি বিভাগে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি থেকে অসুস্থ বাচেনা খাতুনকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন অনলাইন ও পত্র-পত্রিকায় ‘অপারেশনের ২০ বছর পর রোগীর পেটে মিলল কাঁচি’ শিরোনামে পত্র-পত্রিকা প্রতিবেদন প্রকাশ হলে মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগে হইচই পড়ে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরও হয়। এরপর গত ৪ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন বাচেনা খাতুন। এদিকে গত ৫ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. জাওয়াহেরুল ইসলাম তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাংনীর সেই রাজা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।