চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৭ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি : বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ১৭, ২০১৭ ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কোরবানি ঈদ আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। এরই মধ্যে উৎসবটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পণ্যটির দাম বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে, বিশেষ করে রাজধানীতে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা দরে। হঠাৎ পণ্যটির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বন্যায় আড়তে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া, মজুদ কমে যাওয়া, ভারতের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির কথা বলছেন বাজার  সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশে পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও ভারতে পণ্যটির দাম বেশি হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন পেঁয়াজের সরবরাহ কম, কিন্তু প্রকৃত চিত্র সে কথা বলে না।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে, খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ মজুদ পর্যাপ্তই রয়েছে। বাজারে বর্তমানে যে পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, তা ভারত থেকে দুই অথবা তিনি মাস আগে আমদানি করা। কাজেই ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের দরবৃদ্ধি কিংবা আমদানি শুল্ক বেশি হওয়ার কারণে বাজার অস্থির হয়েছে, ব্যবসায়ীদের এমন খোঁড়া যুক্তি সঠিক বলে মেনে নেয়া যায় না। তিন-চার মাস আগে আমদানি করা পেঁয়াজের মূল্য ছিল প্রতি কেজি ১১-১৩ টাকা। সুযোগ বুঝে এখন তারা প্রতিদিন দাম বাড়াচ্ছেন। আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম না হয় বাড়ছে, তবে দেশী পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির হেতু কী? ভালো ফলন হওয়ায় অন্তত দেশী পেঁয়াজের দাম কমার কথা। অথচ ঘটছে উল্টো। আমদানিকৃত পেঁয়াজের সমান্তরালে বাড়ছে দেশী পেঁয়াজের দামও। কাজেই এটা যে প্রতি বছরই কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসায়ী মহলের দাম বাড়ানোর অসাধু প্রচেষ্টারই অংশ, তাতে কোনো সংশয় নেই। আমরা চাইব বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ করবে।
খবরে প্রকাশ, দেশে গড়ে প্রতি মাসে পেঁয়াজের চাহিদা ১ লাখ ১৫ হাজার টন। এর মধ্যে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে চাহিদা বেশি থাকে। এছাড়া রমজান মাস ও কোরবানির সময় দেড় থেকে দুই লাখ টন পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এ চাহিদাকে পুঁজি করেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সিন্ডিকেট। এবার কোরবানির ঈদকে টার্গেট করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। দেশে উৎপাদন, আমদানি ও চাহিদা হিসাবে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এখনো। ফলে পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বর্তমানে পণ্যটির দাম বাড়ছে হু-হু করে। দ্রুত এর লাগাম না টানলে দাম আরো বাড়বে। সুতরাং দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতে হবে এখনই। প্রায়ই দেখা যায়, কোরবানির ঈদ এলে বাণিজ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, ব্যবসায়ীরাও অভয়বাণী শোনান। তবে বাস্তবে এর সুফল মেলে সামান্যই। এবার এর ব্যত্যয় দেখতে চাইব। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট কঠোরভাবে দমন করে ঈদের আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নেবেÍ এটিই প্রত্যাশা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।