চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৃথিবীর তাপমাত্রা ২০৪০ সালে বাড়বে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস

৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার দিন বেড়েছে দ্বিগুণ
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ২৪, ২০২২ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রাক শিল্পযুগের পর থেকে এই শতকের শেষ হওয়ার আগে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমাবদ্ধ রাখতে বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দ অঙ্গীকার করলেও ইতোমধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আগামী ২০৩৮ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রতি বছর ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠার দিন ১৯৮০ সালের পর থেকে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ১৯৮০ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ৩০ বছরে মোট ১৪ দিন ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। কিন্তু ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ১০ বছরে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠেছে ২৬ দিন। একই সময়ের মধ্যে ৪৫ ডিগ্রি বা এর চেয়ে তাপমাত্রা উঠেছে এমন দিনের সংখ্যা প্রতি বছর অন্তত ১৪ দিন ছিল। বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস উদগিরণ কমানোর যেসব পরিকল্পনা পাওয়া গেছে, তা হিসাব করে দেখা গেছে, ‘চলতি শতকের মাঝামাঝি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের হার পরিকল্পিত দেড় ডিগ্রির জায়গায় ২ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে দাঁড়াবে।’ এর মানে দাঁড়াচ্ছে, ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন কমানোর মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কম। সব দেশকে এখন থেকে আরো বেশি মাত্রায় এই গ্যাস উদগিরণ কমাতে না পারলে সামনে বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে মহাবিপদ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফ্রেডরিক অটো তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রবণতার কারণ হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিকে এক শ’ ভাগ দায়ী করেছেন। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে যে শুধু জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে তা নয়, তা মানবশরীরেও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে গেলেই শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। মস্তিস্কে প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে, যা হিট স্ট্রোকের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয়।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অতিবৃষ্টির হার বাড়ে ৭ ভাগ। একই সাথে বাড়ে শক্তিশালী সাইক্লোনের হারও। আইপিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা এখনকার চেয়ে আর ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে প্রতি শতকে দুই থেকে তিনবার ভয়ঙ্কর অতিবৃষ্টির কবলে পড়বে পৃথিবী। প্রতি দশকে একবার প্রচ- খরায় অধিকাংশ জমি শুকিয়ে যাবে এবং উর্বরতা হারাবে। হিট ওয়েভ বা তাপপ্রবাহের ঘটনা এরই মধ্যে ২.৮ গুণ বেড়েছে। আর এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে তাপপ্রবাহের ঘটনা এখনকার চেয়ে বাড়বে ৯.৪ গুণ এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

আইপিসি ওয়ার্কিং গ্রুপের কো-চেয়ার ভেলেরি ম্যাসনডেলমট বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে এবং গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন করে মানুষ পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের চেয়ে এরই মধ্যে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়ে ফেলেছে (০.৮ ডিগ্রি থেকে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়য়াস)। গড়ে প্রতি দশকে মানবসৃষ্ট কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েছে ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশ মাত্র ০.৫৬ শতাংশ দায়ী। তা সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। বাংলাদেশের উচিত হবে ক্ষতকির গ্যাস নির্গমনে যারা বেশি দায়ী তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের পরিবেশের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে তার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করা। কারণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে বাংলাদেশে ডেঙ্গু নামক এডিস মশা বাহিত ভাইরাল সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে যে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ হওয়ার পথে তা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তাপ বৃদ্ধির কারণেই বাংলাদেশে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের অশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ বাড়বে। ফলে আগের চেয়ে আরো বেশি এলাকায় ঢুকে যেতে পারে লবণাক্ত পানি। ফলে স্বাস্থ্যহানি ঘটার সাথে সাথে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। কমে যাবে জমির উর্বরা শক্তি। দেখা দিতে পারে খাদ্যঘাটতি।

খরা পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কিছু ব্যবস্থা নিতে পারে। সবুজায়ন বাড়িয়ে দিতে পারলে খরা পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। গাছ কাটার পরিমাণ কমিয়ে আরো বেশি করে গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন করতে আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদীরা। বাংলাদেশে আগের মতো হয়তো বিশাল আয়তনের বনভূমি বাড়ানো যাবে না; কিন্তু পরিকল্পিত উপায়ে সবগুলো ফাঁকা স্থানে গাছ লাগানো যেতে পারে। কোনো স্থান খালি রাখা যাবে না। উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বাড়তি তহবিল জোগাতে হবে, যাতে বৈরি আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা যায়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।