চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৩ আগস্ট ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৃথক দুটি মারামারি ঘটনায় আ.লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে দোষারোপ : চুয়াডাঙ্গা সদর ইউএনও এবং ওসির এলাকা পরিদর্শন : মোমিনপুর বাজারে একইস্থানে দু’গ্রুপের প্রতিবাদ সভা ভন্ডুল: পুলিশি টহলে পরিস্থিতি শান্ত : নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে -ফারুক চেয়ারম্যান : প্রয়োজনে ডিসি ও এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি দেব -মহিলা লীগ নেত্রী শেফালী

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ১৩, ২০১৭ ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নে পৃথক দুটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দু’গ্রুপ পরস্পর বিরোধী প্রতিবাদ সভা করেছে। গতকাল বৃষ্টি উপক্ষো করে দু’গ্রুপের অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় উভয় পক্ষে-বিপক্ষে দোষারোপ করে দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের গ্রেফতারসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে, ঘটনার পর থেকে চুয়াডাঙ্গার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হকের নির্দেশে সদর থানার ওসি (অপারেশন) এর নেতৃত্বে এসআই সানজিদ, এসআই জসিম ও এসআই খালিদ পালাক্রমে সঙ্গীয় ফোর্সসহ মোমিনপুর ইউনিয়নজুড়ে গভীররাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের বিচক্ষণতায় মোমিনপুরে আ.লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সচেতন মহল সময়ের সমীকরণকে জানায়। এঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃনাল কান্তি দে ও সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হক মোমিনপুর এলাকা পরিদর্শন করে। এসময় ইউএনও ও ওসি দু’পক্ষকে নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে ফেলার জন্য পরামর্শ দেন। ঘটনার পর থেকে অত্র এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। পৃথক মারামারির ঘটনায় আহত নবীছদ্দিনকে গতরাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মোমিনপুর পিটিআইয়ের ফুটবল মাঠে মোমিনপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান নান্নু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মহিলা লীগ নেত্রী শেফালী খাতুন, মোমিনপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) খালিদ হাসান মিলন, বাবলু মেম্বার। এসময় বক্তারা ফারুক চেয়ারম্যানের সকল কৃকীর্তি মিডিয়াতে তুলে ধরার অনুরোধ করে। এছাড়া অচিরেই ফারুক চেয়ারম্যানসহ তার সাঙ্গপাঙ্গকে গ্রেফতার না করা হলে এসপি অফিস, ডিসি অফিস ঘেরাও করার হুমকিও দেন বক্তারা।
জেলা মহিলা লীগ নেত্রী শেফালী বলেন, ফারুক চেয়ারম্যানের দিন শেষ। পুলিশ যদি চেয়ারম্যানসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের গ্রেফতার না করে তবে আমরা এসপি ও ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি দিবো। এসময় শেফালী বলেন, হুইপ মহোদয় যদি এই সমস্যার সমাধান না করেন তাহলে আমরা আ.লীগ দল থেকে নিজদের গুটিয়ে নিবো। প্রতিবাদ সভাটি সার্বিক পরিচালনা করেন ইউপি সদস্য আ.লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান নিপুল।
অন্যদিকে, শরিষাডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত ফারুক চেয়ারম্যানের বাগান বাড়ীতে ৫নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য আসাদুজ্জামান সবুজ, মোমিনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মিল্টন, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী টোটন মিয়া জেলা কৃষকলীগ নেতা আশুক আলী, মিজানুর রহমান মেম্বার, যুবলীগ নেতা আবু শামা, ও যুবলীগ নেতা কাজল। অন্যান্য আরো উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান, বকুল হোসেন, ছানোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি রানা। এছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমার কাছে নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আমাকে ফাঁসাতে একটি মহল বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আমি মোমিনপুর ইউনিয়নে কোন অশান্তি সৃষ্টি করতে দিবো না। প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা চাইবো। আমার এবং আমার নেতাকর্মীদের নামে একেরপর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে, একটি মহল জল ঘোলা করতে চাচ্ছে। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক  জানান, পৃথক দুইটি মারামারির ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় একইস্থানে দু’গ্রুপ প্রতিবাদ সভার ডাক দিলে বিকাল আমি ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃণাল কান্তি স্যার মোমিনপুর পরিদর্শন করি এবং দু’গ্রুপকে একইস্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে নিষেধ করি। তারা পরবর্তীতে তাদের সুবিধামত স্থানে প্রতিবাদ সভা করে। তবে, পুলিশি টহল জোরদার থাকায় কোন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া দু’পক্ষের দায়েরকৃত মামলার আসামীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবং অত্র এলাকায় যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশি টহল রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত মহিলা লীগ নেত্রী শেফালী খাতুনের স্বামী নবীছদ্দিন ওরফে নবী চৌধূরীকে একপক্ষ পিটিয়ে জখম করে। এঘটনায় শেফালী খাতুন বাদী হয়ে ফারুক চেয়ারম্যানকে আসামীসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করে।
অপরদিকে, একইদিনে ফারুক চেয়ারম্যান গ্রুপের কামাল হোসেন মিলন কোম্পানীর কালেকশনের টাকা নিয়ে বাড়ী ফিরছিলো। এসময় আনুমানিক রাত সাড়ে আটটার দিকে শেফালী গ্রুপের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ ও মারধর করে টাকা কেড়ে নেয় অভিযোগে কামাল হোসেন মিলন বাদী হয়ে সদর থানায় ছিনতাই ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করে। মামলায় বাবলু ও নবী চৌধূরীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।