পুলিশের ধাওয়ায় বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ!

248

ঝিনাইদহ অফিস: পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাহাতাব উদ্দীন (৬০) নামে এক বিএনপি নেতা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের হরিণাকু-ু উপজেলার তাহেরহুদা গ্রামে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গ্রামের একটি পানবরজ থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তাহেরহুদা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি চির কুমার মাহাতাব উদ্দীন ওই গ্রামের শমসের ম-লের ছেলে। স্থানীয় ইউপি মেম্বর সাব্বির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ তাহেরহুদা বাজারে অভিযান চালায়। পুলিশ দেখে মাহাতাব পালিয়ে যান। শুক্রবার সকালে সাবেক ইউপি মেম্বর শহিদুল ইসলামের পানবরজে মাহাতাবের লাশ পাওয়া যায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাহাতাবের মৃত্যু হতে পারে বলে ইউপি মেম্বর সাব্বির মনে করেন। হরিণাকু-ু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন জানান, আমি শুনেছি বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হরিণাকু-ু থানার এসআই জগদীশ, এসআই আব্দুল জলিল, এএসআই রামপ্রসাদ ও এএসআই নাসিরের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ তাহেরহুদা বাজারে অভিযান চালায়। এ সময় বিএনপি নেতা মাহাতাব ওই বাজারে আমিন জোয়ারদারের ছেলে শহীদের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। পুলিশ দেখে মাহাতাব পালিয়ে যান। এরপর কি ঘটেছে আমি জানি না। তবে বাজারের প্রত্যাক্ষদর্শীরা বলছেন এএসআই নাসির বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দীনকে ধরতে কিছুদুর এগিয়েও যান। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাহাতাব উদ্দীন একটি পান বরজে ঢুকে পড়েন। সকালে তার লাশ পাওয়া যায়।
অভিযানের কথা স্বীকার করে হরিণাকু-ু থানার এএসআই নাসির জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আমি ও এএসআই রামপ্রসাদ সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলযোগে তাহেরহুদা বাজারে যায়। সেখানে যাওয়ার পর কে কোথায় দৌঁড় মারে তা আমার জানা নেই। বিএনপি নেতা মাহাতাবকে গ্রেফতার করতে ধাওয়া করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। হরিনাকু-ু থানা পুলিশের ওসি আসাদুজ্জামান জানান, ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাকে গ্রেফতারের জন্য ওই গ্রামে যাওয়ার বিষয়ে আমি থানার এসআইদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা বলেছে মাহাতাব নামের কাউকে গ্রেফতার করতে যাননি। যেহেতু তার নামে কোনো মামলা নেই তাই তাকে ধরতে যাওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও জানান ওসি। পুলিশের তাড়া সম্পর্কে ওসি বলেন, নির্বাচন সামনে করে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখাসহ তাদের কর্মকা-ের অংশ হিসেবেই অভিযান চালাবে। তাকে তো পুলিশ ধরতে বা খুজতে যায়। তাহলে তিনি পালাবেন কেন?